গণশুনানির উদ্দেশ্য ও আইনগত কাঠামোঃ  দুর্নীতি প্রতিরোধে গণশুনানি

0
6
গণশুনানির উদ্দেশ্য ও আইনগত কাঠামো 

দুর্নীতি প্রতিরোধে গণশুনানি

গণশুনানি হচ্ছে সরকারী সেবা প্রত্যাধী জনগণ এবং সেবা প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি প্রক্রিয়া। গণশুনানিতে কমিশণের ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষ প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকেন। গণশুনানিতে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারী পরিষেবা প্রাপ্তিতে হয়রানির মূলে রয়েছে নাগরিক অসচেতনতা এবং কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সেবা প্রদানে সময়-সীমা অনুসরণ না করা। গণশুনানি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিশন ২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৫টি গণশুনানি এবং ০৫টি ফলো-আপ গণশুনানি অর্থাৎ ৪০টি গণশুনানি পরিচালনা করেছে। ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাওগাছা থেকে গণশুনানির যাত্রা শুরু করে দুদক। গণশুনানিতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সমর্থন কমিশনকে গনশুনানি পরিচালনায় উৎসাহিত করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক, টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা কারিগরি সহায়তা এবং কমিশনের নিজস্ব অর্থায়নে গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ৩৫টি গণশুনানির মাধুমে ১,২১৮টী অভিযোগ পাওয়া যায়, এর মধ্যে ১,০৩০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা। দ্বিতিয়ত, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC) এর ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজের (সুশীল সমাজ, এনজিও, গণমাধ্যম ইত্যাদি) অংশগ্রহণ এবং তথ্য প্রাপ্তি ও রিপোর্টিং এর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ২০১২-এ নাগরিকের দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। চতুর্থত, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালে সরকারি সেবা প্রদানে গণশুনানি একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় হলো নাগরিকের ক্ষমতায়ন যা গণশুনানি ও অন্যান্য সামাজিক দায়বদ্ধতা পদ্ধতিসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব।

গণশুনানির উদ্দেশ্য

সেবা প্রত্যাশী নাগরিকের অভিযোগ সরাসরি শ্রাবণের মাধ্যমে সেগুলো সেবা প্রদানকারী দপ্তর কর্তৃক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা;

প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নাগরিক সনদের ভিত্তিতে নাগরিকদেরকে প্রদেয় বিভিন্ন সেবার মান উন্নত করা;

নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা;

সেবা প্রত্যাশী নাগরিক এবং সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা;

অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দীর্ঘসূত্রিতার উৎসমূল চিহ্নিত করা।

গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো

বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০০৪ এ বর্ণিত সামাজিক দায়বদ্ধতা কাঠামো গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ কাঠামো অনুযায়ী সেবা প্রদানের দীর্ঘ প্তহ পরিক্রমার জন্য প্রয়োজন

(১) নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকের শক্তিশালী কন্ঠসর (Voice),

(২) নাগরিকগণ কর্তৃক সেবা প্রদানকারীদের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ (Citizen power) এবং নাগরিকের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নীতি নির্ধারক কর্তৃক সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদন কাঠামো প্রবর্তন। গণশুনানির মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীকে নাগরিকের নিকট প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ করা বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে (দায়বদ্ধতার স্বল্প পথ)।

গণশুনানির আইনগত কাঠামো

সংবিধানের বিধানসমূহ:

– সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(২) “রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবে না…………”।

– অনুচ্ছেদ ২১(২) “সকল সময়ে জনগনের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য”

সরকার অনুমোদিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল। ২০১২

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ১ জুন ২০১৪ ও ৫ জুন,২০১৪ তারিখের অফিস স্মারকদ্বয়

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯

তথ্য প্রদানকারী সুরক্ষা আইন, ২০১২