কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ ও লক্ষণ

কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমান সময়ের একটি কমন রোগ। বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এই রোগ অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। যা দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি

কোষ্ঠ অর্থ হচ্ছে মলাশয়। কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থ হচ্ছে মলাশয়ের মল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া বা মলে কাঠিন্যহেতু মলত্যাগে কষ্টবোধ হওয়া। যদি যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরও সপ্তাহে তিন বারের কম স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মলত্যাগ হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমান সময়ের একটি কমন রোগ। বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এই রোগ অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। যা দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ কী

কোষ্ঠকাঠিন্য নানা কারণে হতে পারে। সুষম খাবার, আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া, পানি কম পান করা, শর্করা বা আমিষ যুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া, ফাস্টফুড, মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, সময়মত খাবার না খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম কম করা, দুশ্চিন্তা করা, বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবেটিস, মস্তিষ্ক রক্তক্ষরণ বা টিউমার, থাইরয়েডের সমস্যা, অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার, কাঁপুনিজনিত রোগ, স্নায়ু রজ্জুতে আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ইত্যাদি হওয়া, দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ, পেট ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া, পেপ্টিক আলসার এর ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ সেবন করা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ কি

স্বাভাবিকের চেয়ে কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা, ছোট, শুষ্ক, শক্ত পায়খানা হওয়া, মল ত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া, পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা, পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া, অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতার অনুভূতি না আসা, পেট ফুলে থাকা, আঙুল, সাপোজিটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে পায়খানা করা, মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব হওয়া, মলদ্বারে চাপের অনুভূতি হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের বিপদ

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা সময়মতো করা ‍উচিত। দেরি হলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অর্শ বা পাইলস হওয়া, এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার হওয়া, রেকটাল প্রোলেপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা, পায়খানা ধরে রাখতে না পারা, খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লাগা, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া, খাদ্যনালীতে আলসার বা ঘা, এমনকি রোগীর পারফোরেশনও (ছিদ্র হওয়া) হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা

সিরাপ লেকটুলোজ (বাজারে এভোলেক, অসমোলেক্স, টুলেক, লেকটু ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়) ২/৩ চামচ করে দিনে ৩ বার খাওয়া। এসব ওষুধ নিয়মিত খাওয়া ভালো নয়, ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে খেতে হবে ট্যবলেট. বিসাকডিল (বাজারে ডুরালেক্স, ডাল্কোলেক্স ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়) ৫ মিঃগ্রাঃ রাতে প্রয়োজন অনুপাতে ১/২/৩ টা সেবন করা, তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার থাকলে এরিয়েন মলম বা সাপোসিটরি মলদ্বার ও তার আশপাশে দিনে ২/৩ বার ব্যবহার করা। মল শক্ত হয়ে মলাশয়ে আটকে গেলে গ্লিসারিন সাপোসিটরি ১/২ টা মলদ্বারে ব্যবহার করা। ২/৩ দিন পায়খানা না হলে বা মল শক্ত হয়ে গেছে মনে হলে পায়খানা করার আগে মলদ্বারে জেসোকেইন জেলি লাগিয়ে নেওয়া, এতে রক্তপাত ও এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার এর সম্ভাবনা কমে যায়।

সহজ ৮টি উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করুন:

দিনের পর দিন চলে যায় অথচ ঠিকমতো মলত্যাগ করতে না পারার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। একে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য যার সমস্যায় অনেকেরই এখন মাথা খারাপ।

ধরুন আপনাকে ষ্টীলের চেয়ারে বসিয়ে যদি নিচ থেকে তাপ দেওয়া হয় তাহলে কেমন লাগবে? কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও ঠিক একই রকম কষ্ট অনুভূত হয়। এরকম শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বিস্তারিত পড়ুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ৮টি উপায়

লেবুর জুস:

এক কাপ উষ্ণ গরম পানির সাথে একটি লেবুর রস সম্পূর্ণ মিশিয়ে পান করুন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল:

অলিভ অয়েল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অত্যন্ত উপযোগী। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তীব্র হলে পরিষ্কার ও ভেজালমুক্ত এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল পান করে নিন। প্রয়োজনে এর সাথে এক চা চামচ লেবুর রস মিশাতে পারেন।

আদা চা:

মিন্ট বা আদা শরীরের হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। তাই এসময় মিন্ট বা আদা চা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

খাদ্যআঁশ:

যে সকল খাবারে খাদ্যআঁশ বেশি পরিমাণে থাকে সেগুলো খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এগুলো যেমন পুষ্টিকর তেমনি হজমও হয় তাড়াতাড়ি। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

অ্যালোভেরা:

আমরা সাধারণত এটাকে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এর উপকারিতা শুধু ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল বা এক কাপ অ্যালোভেরার রস আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বেকিং সোডা:

ঘরোয়া চিকিৎসার প্রাণ ধরা হয় বেকিং সোডাকে। প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই এটা ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ কুসুম গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করে নিন। যতো তাড়াতাড়ি পান করতে পারেন ততো ভালো।

ব্যায়াম করা:

দিনে অন্তত ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলেও শরীরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। ফলে খাবার হজম হওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

পানি:
শরীরে স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য পানির কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেক কমে আসে।

ডা. উম্মে সালমা