গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

বিএফইউজে-ডিইউজের একাংশের বিবৃতি

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

সাংবাদিক, সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী ছাড়াই সংসদীয় কমিটিতে চূড়ান্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের নেতারা।

একই সঙ্গে সংসদের চলতি অধিবেশনে আইনটি পাস না করে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, আইনটি চূড়ান্ত করতে এক মাসের সময় নেয়ার পরদিনই তাড়াহুড়া করে সংসদীয় কমিটিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি হরণের অসৎ উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।

তারা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক এবং গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সম্পাদক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন যেসব ধারা বহাল রেখেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বহুল বিতর্কিত ৩২ ধারাটি তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী।

এছাড়া চূড়ান্ত আইনের ৮, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারা প্রচলিত ফৌজদারি দণ্ডবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিষয়গুলোকে এসব ধারায় বিভক্ত করে যেভাবে আরও কঠোর এবং অধিকতর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে তা মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্যাতন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এটি নির্বিচারে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, এই আইন কার্যকর হলে একদিকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাবে।

বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বলে কিছু থাকবে না। এই আইন পাস ও কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।