রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

‘এক গ্লাস পানি খেয়ে নাও। রাগ চলে যাবে।’

‘চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকো। তাহলে যদি মাথা একটু ঠান্ডা হয়।’

কথাগুলো কি পরিচিত লাগছে? কাছের কোনো মানুষ রেগে গেলে অনেকেই এ ধরনের পরামর্শ দেয়। কোনোটি আবার কাজেও লেগে যায়। কোনো কোনো পরামর্শ শুনে পরামর্শকের ওপরই হয়তো মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে যা-ই হোক, রেগে যাওয়া খারাপ নয়। বরং রেগে গিয়ে কীভাবে সেটার বাইরে প্রকাশ করছেন, চিন্তার বিষয় সেটাই। অনেকে রাগ সামলাতে পারেন। রেগে গেলে নেতিবাচকভাবে সেটার প্রকাশ ঘটান যাঁরা, এই লেখা তাঁদের জন্যই।

প্রত্যেক মানুষের প্রকাশের ভঙ্গি আলাদা। রেগে যাওয়ার পর যদি আপনি চিৎকার করেন, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলেন বা গায়ে হাত তোলার মতো আচরণ করেন, তাহলে সচেতন হোন, সময় থাকতে শুধরে নিন। এখন থেকেই রাগ কমিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। কোন ঘটনা থেকে রেগে যাচ্ছেন, এটা বুঝতে পারলে আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যান। কোনো ঘটনার পর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হলে কিংবা কাঁধের ওপর এক ধরনের চাপ বোধ করলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। শারীরিক এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত নির্দেশনা দেয় যে আপনি রেগে যাচ্ছেন।

রেগে গিয়ে কিছু করা বা বলার আগে ১ থেকে ১০ গুনুন মনে মনে। রাগ কিছুটা হলেও কমে আসবে। রেগে গেলে আমরা জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকি। রাগ কমানোর জন্য উল্টো জিনিসটা করুন। জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলুন। এ পদ্ধতিতে রাগ অনেকটাই কমে আসবে এবং চিন্তা করার সময়ও পাবেন।

হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো স্ট্রেস। নিয়মিত ব্যায়ামে স্ট্রেস অনেকটাই কমে আসে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম দরকার। চেষ্টা করুন নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করার। প্রতিদিন না হলেও দু-তিন দিন পরপরই চেষ্টা করুন কিছুটা সময় বের করে পছন্দমতো কাজটি করার। যোগব্যায়াম করুন। অনেকখানি উপকার পাবেন। আপনার ব্যবহার থেকেও কিন্তু অনেকে কষ্ট পেতে পারেন। রাগের মাথায় অনেক সময় উল্টাপাল্টা কাজ করে ফেলেন অনেকে। পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার পর খেয়াল করে দেখবেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকটাই হয়তো ক্ষতি হয়ে গেছে। রাগ সামলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করুন। না পারলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও সেই জায়গা থেকে চলে যান।