অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য জরুরি: মার্শা বার্নিকাট

বাংলাদেশের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘শান্তিতে বিজয়’ শীর্ষক এক জাতীয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইউএসএআইডি ও ইউকেএআইডির যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিএল) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনটি। ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় ৪০০ রাজনৈতিক নেতা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নির্বাচনের শপথ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের স্বাধীনতা থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের অবশ্যই নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ, প্রচারণা চালানো এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা জবরদস্তিমূলক বিধিনিষেধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। ইস্যু বা নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বৈধ অংশগ্রহণকারী এবং পরবর্তী সরকারের সম্ভাব্য নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে। নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানাতে হবে। সহিংসতা শুধু তাদেরই কাজে আসে, যারা সার্বিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের স্বার্থহানি করতে চায়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ চায়। প্রত্যেক মানুষের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে। আশা করি, সব রাজনৈতিক দল, কর্মী ও জনগণ শান্তির পক্ষে দাঁড়াবে এবং সহিংসতাকে না বলবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও রাজনীতির মধ্য দিয়েই দেশের সবার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে। আমরা সবাই আজ এখানে একত্রিত হয়েছি, কারণ আমরা সবাই এ একই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, আমরা সুষ্ঠু, অবাধ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আমাদের প্রতিজ্ঞা। এ ব্যাপারে আমরা কখনো পিছপা হব না। অতীতেও হইনি, ভবিষ্যতেও হব না। গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকার সবসময়ই আন্তরিক। আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ভুল ও মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। বিদ্বেষ ছড়ানোর পথ থেকেও দূরে সরে আসতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশও চাই। তবে শান্তির পূর্বশর্ত হলো সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার।