পরকীয়া!!

পরকীয়া

মোঃ রফিকুল ইসলাম

সাধারনভাবে বিবাহিত কোন পুরুষ বা মহিলা নিজ স্ত্রী বা স্বামী ব্যতীত অন্যকোন মহিলা বা পুরুষের সংগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত হলে তাকে পরকীয়া বলা হয়। তবে আইনের ভাষায় অবশ্য শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয় শারিরীক সম্পর্ক হতে হবে। পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার অনেক কারন সমাজ বিজ্ঞানীগণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি কারনকে অগ্রগণ্য বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. একাকীত্ব: জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে।

২. স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: মানসিক দূরত্ব বা ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা।

৩. প্রেম ভালবাসার ঘাটতি: নানা কারনে প্রেম ভালবাসার ঘাটতি দেখা দিলে।

৪. যৌন সম্পর্কে বিরক্তি: কোন এক পক্ষের বিরক্তি বা অক্ষমতা দেখা দিলে।

৫.অন্তরঙ্গতার ঘাটতি নানাবিধ কারনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অন্তরঙ্গতার অভাব হলে।

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা যাই বলুক বা ব্যাখ্যা দিক না কেন মানুষ স্বভাবগতভাবে নিজেরটা নিয়ে কমই সন্তুষ্ট থাকে। হোক সেটা নিজের স্ত্রী বা স্বামী বা খাবার দাবার বা অন্যকোন জিনিস। রবি ঠাকুরের নরেশ পরেশ দু’চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের গল্পে যেমন আছে। নরেশ নিজের পছন্দের পাত্রী ছেড়ে পরেশের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করার পর যখন নরেশের ছেড়ে দেয়া পাত্রীকে পরেশ বিয়ে করে তখন নরেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যায় এই ভাল কি সেই ভাল নিয়ে এবং নিজের স্ত্রীর খুত আবিষ্কার করে। তেমনি খাবার দাবার নিয়েও গ্রামে একটা শ্লোক প্রচলিত আছে, নিজের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে তিতা, “পরের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে মিঠা।” খাবার নিয়ে বরং একটা গল্পই বলি। বিপত্নীক সরকার সাহেবের অনেক বয়স হয়েছে। মুখের স্বাদ কমে গেছে। প্রতিদিনই খাবার নিয়ে জ্বালাতন করেন। নিজের বৌমার রান্না ভাল লাগে না। শুধু পাশের বাড়ির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে ডাল বা তরকারী আনতে বলেন। একদিন সন্ধ্যায় খেতে বসেছেন। ডাল ভাল লাগছে না। পাশের বাড়ি থেকে ডাল আনতে বললেন। কাঁহাতক আর মানুষকে বিরক্ত করা যায়। তাই বৌমা চালাকি করে নিজেদের ডাল কাজের মেয়েকে দিয়ে শাড়ির আঁচলের তলায় বাইরে পাঠিয়ে আবার কয়েক মিনিট পর নিয়ে এসে বলে এই যে আপনার ঘটুর বৌয়ের ডাল। সরকার সাহেব এবার ডাল খেয়ে সন্তুষ্ট হন। আর বলেন, “দেখ তো আমার ঘটুর বৌয়ের ডাল। তোরা কি রান্না করিস মুখেই দেওয়া যায় না।” অথচ কয়েক মিনিট আগে এ ডালই তার ভাল লাগছিল না।

মানুষ নিজের স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকাটা বোধহয় একটা চিরন্তন বিষয়। এজন্য অনেকেই সুযোগ খুঁজে কিভাবে তার সঙ্গীকে পরিবর্তন করা যায়। কি কথাটা আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে আমি একটা ঘটনা বলি। এরপর আপনারাই না হয় বিচার করুন। বইয়ের নামে শুধুমাত্র একটি বর্ণের ভুলের কারনে একটি বইয়ের বিক্রি মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বেড়ে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হয়েছিল। নিশ্চয়ই আপনাদের জানতে ইচ্ছে হচ্ছে বইটির কি নাম ছিল। বইটির নাম ছিল How to change your life. কিন্তু ভুলক্রমে l এর পরিবর্তে w হওয়াতে এ বিপত্তি ঘটেছিল। এতে বইয়ের নাম হয়েছিল How to change your wife. তাহলে বুঝুন ওয়াইফ পরিবর্তনের কলাকৌশল জানতে স্বামীরা কেমন উদগ্রীব ছিলো।

পুরুষ লোকদের স্ত্রীদের সংগে কথা বললে নাকি বড় বড় রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। তবে সেটা নিজ স্ত্রী নাকি পরস্ত্রী সেটা একটা প্রশ্ন। আসুন দেখি সমীক্ষা কি বলে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্ত্রীর সংগে কথা বলা পুরুষের জন্য খুবই চিত্তবিনোদন ও জীবনী শক্তি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। এটা পুরুষের শতকরা ৯০ ভাগ উদ্বেগ ও ৮০ ভাগ হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এটা শতকরা একশ ভাগ চিত্তবিনোদনকারী। তবে এ গবেষনা সবচেয়ে বড় দূর্বলতা হল এটা কার স্ত্রীর সাথে কথা বলার কথা বলা হয়েছে সেটা বলতেই ভুলে গেছে। তার মানে এ সমীক্ষা পরকীয়ার মাহাত্ম্যকে তুলে ধরছে।

পরকীয়ার মাহাত্ম্য যেমন আছে তার ঝক্কিও কিন্তু কম নয়। পরকীয়া করে ধরা পড়লে বা ধরা পড়ার আশঙ্কা হলে স্বামী বা স্ত্রীর হাতে নাস্তানাবুদ বা কখনও জীবনের উপরও আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। একটা গল্প বলি তাহলে হয়ত বিষয়টা একটু পরিষ্কার হতে পারে। দুই ভূতের আলাপ পরিচয় হয়েছ। তারা কে কিভাবে মারা গিয়ে ভূত হয়েছে তাই নিয়ে কথা বলছে।

১ম ভূত: ভাই, আপনি কিভাবে মারা গেলেন?

২য় ভূত: আমি ঠান্ডায় মারা গেছি।

১ম ভূত: তা ঠান্ডায় মারা যাবার সময় আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল।

২য় ভূত: আসলে আমি দূর্ঘটনাক্রমে একটা রিফ্রেজারেটরে আটকা পরেছিলাম। প্রথমে আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। পরে আমার শরীর জমে যায়। চারদিকে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে এবং এক পর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যাই।

১ম ভূত: আহা! কি করুন মৃত্যূ।

২য় ভূত: আপনি কিভাবে মারা গেলেন?

১ম ভূত: আমার হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল।

২য় ভূতঃ ও তাই, তা কিজন্য আপনার হার্ট এ্যাটাক হল।

১ম ভূত: আসলে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার স্ত্রীর অন্য এক পুরুষের সাথে সম্পর্ক আছে। একদিন যখন কাজ থেকে ফিরছিলাম তখন একজোড়া জুতা আমার বাসার দরজার বাইরে দেখতে পেলাম। তখন বুঝলাম যে ব্যাটা আমার স্ত্রীর সাথে আছে। কিন্তু শোবার ঘরে গিয়ে দেখি স্ত্রী একা। তখন আমার জেদ শয়তানটা কোথায় পালিয়ে আছে তা খুঁজে বের করা। আমি টয়লেট, নীচতলার ঘর, স্টোর রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও শয়তানটাকে পেলাম না। আমি দৌড়ে উপরের তলায় গেলাম। ওয়ারডোর্ব খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। কিন্তু এই দৌড়াদৌড়ি ও উত্তেজনা সহ্য করতে পারলাম না। হার্ট এ্যাটাক হয়ে গেল।

২য় ভূত: ইস্! আপনি কেন শয়তানটাকে খুঁজতে ফ্রিজটা খুঁজলেন না। শয়তানটা সেখানেই লুকিয়ে ছিলো। সেখানে খুঁজলে আজ আমরা দু’জনই বেঁচে থাকতাম।

কখনও কখনও বুদ্ধিমান ও চালাক লোকেরা নির্বিঘ্নে পরকীয়া চালিয়ে যান তার স্ত্রী বা স্বামীর নাকের ডগায়। আবার কেউ কেউ ধরা খেয়ে নাজেহালও হন। আবার কেউ কেউ কখনও কখনও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে সন্তানের বাবা মা হয়ে সমাজের চোখেও নাজেহাল হন। এগুলোর দু’একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা খোলাসা হবে।

প্রথমেই বুদ্ধিমান লোকেরা কিভাবে কি করে দেখা যাক। এক বিবাহিত লোকের তার অফিস সেক্রেটারির সংগে সম্পর্ক ছিল। একদিন সে অফিস শেষে তার সেক্রেটারির বাসায় গেল এবং সারা বিকেল তার সাথে প্রেম করল। এক পর্যায় সে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ জেগে উঠে পোষাক পড়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হল। বের হবার আগে সে তার প্রেমিকাকে তার জুতোজোড়া বাইরে নিয়ে ঘাস ও কাদা ময়লার সাথে ঘষতে বললো। এবারে ঘাস ময়লা লাগা জুতো পায়ে সে বাসায় ফিরে গেলো।

“তুমি সারা বিকেল কোথায় ছিলে?” স্ত্রী জানতে চাইলো।

“আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলবো না। আমার সেক্রেটারির সাথে প্রেম করছিলাম।”

“আমার কাছে মিথ্যা বলো হারামীলোক। তুমি গলফ খেলছিলে।”

এবারে একটু কম বুদ্ধিমান লোকেরা এ কাজ করতে গিয়ে কিভাবে ধরা পড়ে আসুন দেখি। এক মহিলার স্বামী সকালবেলা যখন চা পান করছিল তখন সে তার স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো। “আমি তোমার প্যান্টের পকেটে এক টুকরো কাগজ পেয়েছি তাতে মেরিলো নাম লেখা, “ক্ষিপ্ত স্ত্রী জানতে চাইলো, “নিশ্চয়ই তোমার কাছে এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আছে।” “জান। তুমি শান্ত হও।” লোকটি জবাব দিল, “মনে করতে পার গত সপ্তাহে আমি ঘৌড়দৌড় মাঠে গিয়েছিলাম। এটা ছিল আমি যে ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছিলাম তার নাম।”

স্ত্রী কিছু বললো না। পরদিন সকালে গোপনে স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো এবং স্বামীর মাথায় সজোড়ে চাটি মারলো। স্বামী ক্ষেপে গিয়ে জানতে চাইলো কেন তাকে চাটি মারা হল। স্ত্রী জানালো, “তোমার ঘোড়া কাল রাতে ফোন করেছিল।”

পরকীয়ার ফলে জন্ম নেয়া বাচ্চার পিতৃত্ব নিয়ে ঝামেলার গল্প বলি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন এমন ঝামেলায় অনেকেই জড়িয়েছে। হাতের কাছের উদাহরন ইতালীতে খেলার সময়ে ম্যারাডোনার ছেলের বাবা হওয়া। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ম্যারাডোনা জুনিয়ারকে সে মেনে নিয়েছে। এবারে গল্পে আসি। এক লোক রাস্তার ধারে বসে চা খাচ্ছেন। হঠাৎ একটা বাচ্চা দৌড়ে এসে বললো, “প্লিজ সাহায্য করুন। আমার বাবা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে।”

ভদ্রলোক বাচ্চার পিছে পিছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন দু’জন লোক মারামারি করছে। তিনি বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কে তোমার বাবা?”

সে জবাব দিল, “আমি জানি না, কে আমার বাবা তা নিয়েই তো তারা মারামারি করছে।”

এবারে পরকীয়ার ভয়াবহতা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। ২০১৬ সালে স্ট্যাটিক ব্রেইন রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরকীয়ার উপর এক গবেষনা পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে আধূনিক কালের মানুষের তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ততার এক করুন চিত্র। তার কিছু আপনাদের জন্যে তুলে ধরছি। যথা– এক তৃতীয়াংশ বিয়ের স্বামী বা স্ত্রী বা উভয়ই শারিরীক বা মানসিকভাবে তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত থাকে। শতকরা ২২ ভাগ পুরুষ এবং শতকরা ১৪ ভাগ নারী স্বীকার করেছে যে তারা তাদের সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত ছিল। শতকরা ৩৬ ভাগ নারী পুরুষ তাদের সহকর্মীদের সংগে সম্পর্কিত ছিল। শতকরা ১৭ ভাগ নারী বা পুরুষ তাদের দেবর বা শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। যারা একবার পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তাদের পরবর্তীতে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩৫০ ভাগ। ভুল নয় ঠিক পড়ছেন ৩৫০ ভাগ। বিযের দু’বছরের মধ্যেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শতকরা ৩৫ ভাগ নারী পুরুষ সফরকালে পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। শতকরা ১০ ভাগ পরকীয়া হয় অনলাইনে। অন লাইনের সম্পর্কের শতকরা ৪০ ভাগ বাস্তব জীবনের সম্পর্কে রূপ নেয়।

এসব কারনে বুদ্ধিমান কেউ কেউ আগে থেকেই উত্তর পুরুষদের পরিবারের পরকীয়া ঠেকানোর জন্য অন্যরকম কিছু পদ্ধতিও ভেবে রাখেন। এবারে এমনই এক গল্প বলি। এক ইটালীয় মাফিয়া ডন মৃত্যু শয্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় তার নাতিকে ডাকলো, “শোন। আমি চাই তুমি আমার ক্রমিয়ামের আস্তর দেওয়া . ৩৮ ওয়ালথার পিপিকে রিভলবারটি নাও যাতে মৃত্যুর পরও তুমি আমাকে মনে রাখো।”

নাতি বললো, “কিন্তু দাদু, আমি তো এসব পিস্তল রিভলবার পছন্দ করি না। তারচেয়ে আমাকে তোমার রোলেক্স ঘড়িটা দিতে পার না?”

“শোন সনি, ঘড়ি আমি দিতে পারি। কিন্তু তুমি জান, একদিন তোমাকে আমার এ ব্যবসায় চালাতে হবে। তোমার অনেক টাকা হবে। বিশাল বাড়ি হবে, সুন্দরী স্ত্রী হবে। হয়ত বাচ্চা কাচ্চাও হবে। একদিন হয়ত তুমি অসময়ে বাসায় ফিরবে। হয়ত বিছানায় তোমার স্ত্রীর সংগে অন্য কোন পুরুষকে পাবে। তখন তুমি করবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলবে, টাইমস আপ, সময় শেষ?”

সবশেষে যারা পরকীয়ায় অভ্যস্থ তাদের জন্য একটা হুশিয়ারী গল্প বলে এ আখ্যান শেষ করতে চাই। ব্যবসায়ী জামশেদ সাহেব পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত আছেন। প্রায়ই তিনি ব্যবসায়ের কাজে বিদেশে যান। তো একবার তিনি ব্যবসায়ের কাজে নেপাল যাবার কথা বলে স্ফূর্তি করতে বান্ধবীর বাসায় উঠেছেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে বিমান দূর্ঘটনায় বিমানের সবাই মারা গেছে। ফলে তিনি আর বাসায় ফিরতে পারছেন না। সুতরাং যারা বিদেশে যাবার কথা বলে এরকম স্ফূর্তি টূর্তি করেন বা করবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের একটু সমঝে চলাই বোধহয় ভাল। নাহলে কখন কি হয়ে যায় আল্লাহ মালুম।