হার্ট অ্যাটাক এড়াতে রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি

রাগের মাথায় কিছু গড়ে ওঠে না। তবে রাগের বশে ধ্বংস করা যায় সবকিছুই। এ কারণেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। রাগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো যায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন গবেষকরা। খবর সানফ্রান্সিসকো ক্রনিকল।

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগেরই অংশ। কিন্তু রাগের বশেই মানুষ সবচেয়ে বড় ভুলগুলো করে থাকে। এজন্যই মার্কিন রাষ্ট্রনায়ক টমাস জেফারসন বলেছিলেন, রাগ করে কিছু বলার আগে মনে মনে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনে যাও। খুব বেশি রেগে গেলে মুখ খোলার আগে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনে নিয়ো। রাজনীতি সম্পর্কে ভুল পদক্ষেপ এড়াতে জেফারসন রাগ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়ে গেছেন প্রায় দুইশ বছর আগে। এখন চিকিৎসকরা রাগ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন হার্ট অ্যাটাক ও হূদরোগ এড়াতে, যা কিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ব্যাধি।

আটলান্টার পিডমন্ট হসপিটালের কার্ডিওলজিস্ট ডেভ মন্টগোমারি বলেন, রাগের বশে সবকিছু ভেঙেচুরে ফেলার ইচ্ছা যাদের হয়, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি। রাগ হলে সেটা অন্যকে ঠাণ্ডা মাথায় বোঝাতে পারলে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক লরা কুবজানস্কি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাগ হলেই সমস্যা। অতি রাগ থেকে যে চাপ সৃষ্টি হয় সেটা হূদরোগ ত্বরান্বিত করে।

রাগ বা জেদের কারণে কারো মনে ‘হয় লড়ব না হয় ছাড়ব’, এমন চিন্তা আসতে পারে। এতে করে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসোলের মতো হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে হূত্স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়ে দেহে একধরনের শক্তি সঞ্চার হয় এবং রক্তবাহী ধমনিগুলো দৃঢ় হয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে সৃষ্ট চাপে শিরা ছিঁড়ে যেতে পারে।

হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পতেই রেগে যাওয়ার প্রবণতা যাদের থাকে, অন্যদের চেয়ে তাদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৯ শতাংশ বেশি।