সিগারেটের বাজার বড় হচ্ছে বাংলাদেশে, বাড়ছে ধূমপায়ী: প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৪২ শতাংশই ধূমপায়ী

ছবি : এপি

এইচডিআরসি’র করা ২০১৫ সালের এক সমিক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ২৮ শতাংশেরও বেশি সিগারেট খায় এবং কমপক্ষে ২১ শতাংশ পুরুষ বিড়ি খায়। দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৪২ শতাংশই ধূমপায়ী।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সিগারেট নির্মাতা জাপান টোব্যাকো ১২,৪০০ কোটি টাকায় বাংলাদেশের আকিজ গ্রুপের সিগারেট তৈরির সব ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায় সোমবার দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি চুক্তিও সাক্ষর হয়েছে।

জাপান টোব্যাকোর এই বিনিয়োগ এ যাবৎকালের মধ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে একক বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগ। কেন বাংলাদেশের তামাক ব্যাবসায় জাপান এত বড় বিনিয়োগ করছে তা নিয়ে বিবিসি একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন করেছে ।

এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এইচডিআরসি ) অর্থনীতিবিদ আসমার ওসমান বিবিসিকে বলেন, “বাংলাদেশে ধূমপায়ীর যে সংখ্যা, সিগারেটের যে বিশার বাজার এবং ধূমপান নিরুৎসাহে সরকারের যে অনীহা তাতে এই খাতে বিদেশী বিনিয়োগের আগ্রহে অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই।“

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের তামাক ব্যাবসায় লগ্নি করার পেছনে যে কারণগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধূমপায়ী বৃদ্ধি।

 

এইচডিআরসি’র করা ২০১৫ সালের এক সমিক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ২৮ শতাংশেরও বেশি সিগারেট খায় এবং কমপক্ষে ২১ শতাংশ পুরুষ বিড়ি খায়। দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৪২ শতাংশই ধূমপায়ী।

সমিক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে সিগারেটের বাজার কমপক্ষে ২০,০০০ কোটি টাকার এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে। জাপান টোব্যাকো এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম সিগারেটের বাজার যা প্রতি বছর দুই শতাংশে হারে বাড়ছে।

রাজস্ব হার কম থাকা, খুচরা বিক্রয়, বিড়ি-সিগারেটের দাম ক্রয় ক্ষমতার নাগালে থাকা ও সর্বোপরি সরকারের অনাগ্রহের ফলে তামাকজাত পণ্যের বাজার দিনদিন বাড়ছে বলে বিবিসি কে জানান অর্থনীতিবিদ আসমান ওসমান।

এসব কারণেই বাংলাদেশের সিগারেটের বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে, একইসাথে আকৃষ্ট হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা।