রোহিঙ্গা তাড়িয়ে এবার রাখাইনে নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর

বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্র বন্দর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় দেশদুটির কাছে, বিশেষ করে ভারতের জন্য মিয়ানমারে চীনের এই সমুদ্র বন্দর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দেশটির সেনাবাহিনী মাধ্যমে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নিপীড়ন ও গণহত্যার মাধ্যমে উৎখাত করা হচ্ছে। এবার রাজ্যটিতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে দেশটির সরকার।

মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী রাখাইনে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) নির্মাণের চুক্তি করতে যাচ্ছে চীন। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী এবং এসইজেড কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উ থান মিন্টের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার দ্য মিয়ানমার টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।

উ থান বলেন, রাখাইনে কায়ুকফায়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে রূপরেখা চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে মিয়ানমার ও চীন। চলতি বছরের শেষ দিকে চুক্তিটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আওতায় চীন এসইজেড অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশের মালিক হবে। বাকি ৩০ শতাংশ থাকবে মিয়ানমার সরকার ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমে যেখানে কায়ুকফায়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে সেখান থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নেমেছিল দেশটির সেনাবাহিনী। বাণিজ্য বৃদ্ধি ও শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ অঞ্চলটিতে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে এ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্র বন্দর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় দেশদুটির কাছে, বিশেষ করে ভারতের জন্য মিয়ানমারে চীনের এই সমুদ্র বন্দর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বর্তমানে চীনকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা দেশ থেকে পণ্য পরিবহন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করতে হয়। রাখাইনের বন্দরটি হলে তা এড়িয়ে সময় ও ঝুঁকি কমাতে পারবে চীন।

বিগত কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তাদের দেশত্যাগের পরিমাণ বেড়ে যায়। সে সময় থেকে বাংলাদেশে এসেছে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। কয়েক দশক ধরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শরণার্থী শিবিরগুলোতে বাস করছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ে। এর পরই তাদের একাংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।