দেশের প্রথম বিশেষায়িত পর্যটন পার্ক হচ্ছে জালিয়ার দ্বীপে

থাইল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পার্কটি নির্মানে সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত জালিয়ার চরে দেশের প্রথম বিশেষায়িত পর্যটন পার্ক গড়ে তোলা হবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নাফ নদীর মাঝখানে এই দ্বীপে পার্ক গড়ে সরকার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে চায়। এর পুরোটাই সরকারি খাসজমি। বেজাকে পুরো দ্বীপটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জেটি নির্মাণ, মাটি ভরাট, ভূমি ও সড়ক উন্নয়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে। এবার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।

ইতোমধ্যেই, থাইল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পার্কটি নির্মানে সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আগেও কোম্পানিটি বাংলাদেশে ফ্যান্টাসি কিংডম ও ফয়’স লেক, কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট স্থাপনের কাজও করেছে।

উল্লেখ্য, নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত জালিয়ার দ্বীপের একপাশে বাংলাদেশ এবং অন্য পাশে মিয়ানমার। ন্যাটং পাহাড়ের বাঁ-পাশে ২৭১ একর জায়গা বিশিষ্ট নয়নাভিরাম এই দ্বীপেই হচ্ছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত পর্যটন পার্ক ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’। এখন এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে।

এদিকে, প্রকল্পটি তত্ত্বাবধানে আছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজা সূত্রে জানা গেছে যে, গত একবছর ধরে পার্ক্টি নির্মানের জন্য প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। এখন পার্কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে যেটি শেষ হবে ২০২০ সাল নাগাদ।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘নাফ ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ শতাংশ সুদে সরকারের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়ে অনাপত্তি চাওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার এই আবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সব ঠিক থাকলে খুব দ্রুত পুরো পার্কের নির্মাণ শুরু হবে’।

উল্লেখ্য, এই পার্কটিতে ঝুলন্ত ব্রিজ, বিশেষ ইকো ট্যুরিজম, ক্যাবল কার, ফান লেক, ওয়াটার স্পোর্টস, নদীর পানির মধ্যে অ্যাকুয়া পার্ক, থাকার জন্য ইকো-কটেজ ও রিসোর্ট, নদীর মধ্যে ভাসমান রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটনবান্ধব সুবিধা তৈরি করা হবে। বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এই পার্ক নির্মানের লক্ষ্য।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এই বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক তেমন আসে না বললেই চলে। আগে যা আসতো এখন তাও কমেছে। তবে আমাদের আশা, বিশেষায়িত নাফ ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হলে বিদেশিরা আবার পর্যটনের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমীক্ষা চালায় জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিকনসাল্ট। পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ১২ হাজার মানুষের।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।