ডেভেলপারদের অতিরিক্ত চার্জের কারণে শতভাগ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে না ক্রেতারাঃ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত

ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি অতিরিক্ত হওয়ার কারণে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছে না। শুধুমাত্র বায়না দলিল ও মূল্য পরিশোধের রশিদের ভিত্তিতেই ফ্ল্যাটের মালিক তারা। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব, অন্যদিকে ঝুঁকিতে আছে এর ক্রেতারা। কয়েকটি নামী ডেভেলপার যেমন রূপায়ন গ্রুপের অতিরিক্ত টাকা দাবী করাতে অনেকেই তা এ্যফোর্ড করতে পারছে না। তাদের স্যাটেলাইট টাউন যা ফতুল্যায় অরস্থিত তার ৯৬৫ স্কয়ার ফিটের ফ্লাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ তারা চাচ্ছে ৬ লক্ষ টাকার উপরে। যেখানে ফ্লাটের দাম রাখা হয়েছে নূন্যতম ৩৩ লাখ টাকা (১০ বছর আগে) সেখানে সরকারকে দেখানো হচ্ছে মাত্র ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এইখানে আন্ডার ইনভয়েস করে সরকারের ক্ষতি করছে এই গ্রুপ, আর ফ্লাট ক্রেতাদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকার বেশী অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করছে নিজেদের জন্য।

সাধারণত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্র্রেশনে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। যা পরিশোধ করে অনেক ফ্ল্যাট মালিকের পক্ষেই রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রেজিস্ট্র্রেশন না করে ফ্ল্যাট ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফ্ল্যাট ক্রয়ের কারণে পরবর্তীতে বড় ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ক্রেতাদের। আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের মতে, রেজিস্ট্রেশন ফি কিছুটা কমালে সবাই নিয়মিত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করত।

রেজিস্ট্রেশনের সময় রুপায়ন গ্রুপ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দাবী করাতে রূপায়ন টাউন ভুইগড় ফতুল্যার অনেক ফ্লাট এখনো রেজেষ্ট্রি হচ্ছেনা। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যেখানে আড়াই লাখ টাকা খরচ পড়ে সেখানে চাওয়া হচ্ছে ছয় লক্ষ টাকার অধিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে অনেক ক্রেতাই পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রেশন করছে না। আমার জানা মতে, কমপক্ষে ১০টি ভবনের বাসিন্দারা তাদের ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন করেনি। এরকম প্রায় সবগুলো কোম্পানির ক্ষেত্রেই হয়ে আসছে। তবে যারা সচেতন তারা রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত ফ্ল্যাট হস্তান্তর করে না। তবে বর্তমানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় মন্দা থাকায় রেজিস্ট্র্রেশনবিহীন ফ্ল্যাট হস্তান্তর বেশি হচ্ছে। এ বিষয়ে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফ্ল্যাটের সংখ্যা স্পষ্ট না হলেও এর সংখ্যা অনেক। আমরা এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারকে বলে আসছি। আমাদের দাবি রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ৭ শতাংশ হার নির্ধারণ করা হোক। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, একটি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রায় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ খরচ পড়ে। এগুলো হলো- গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর ৩ শতাংশ।

ডেভেলপারদের অতিরিক্ত চার্জের কারণে শতভাগ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে না ক্রেতারাঃ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রেই ডেভেলপাররা সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।  

রিহ্যাবের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১ হাজার ৭৪৯টি, অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১২ হাজার ১৮৫টি। ২০১০ সালে বিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৯২টি এবং অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৩ হাজার ১৮টি। সে হিসেবে মন্দা বাজারে এবছরও দেড় হাজারের নিচে ফ্ল্যাট বিক্রি হবে না। যদি ২০ শতাংশ ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন না হয়। তবে তার সংখ্যা হবে ৩০০টি। যার রেজিস্ট্রেশন ফি হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। পরিমাণটি যে এর চেয়ে বাড়বে না তা বলা যায় না। এছাড়াও রেজিস্ট্রেশন এড়াতে আইনের বিভিন্ন গলিপথ ব্যবহার করে ফ্ল্যাট মালিকরা।