‘সড়কে মৃত্যু ভাগ্য’ বদলায়নি রাজধানীবাসীরঃ প্রতি ৫ টির মধ্যে একটি মটরসইকেলই মানছেনা আইন

এখনো থামেনি রাজধানীর সড়কের মৃত্যুর মিছিল। গত দুই মাসে কেবল মামলা আর জরিমানা আদায় হলেও শৃঙ্খলা আনতে কোনো উদ্যোগই যেন কাজে আসেনি। উল্টো রাজধানীতে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন আর আহত প্রায় দেড় শতাধিক। ডিএমপি বলছে, এতো সহজেই মিলবে না সুফল। আর বিশেষজ্ঞদের পরমর্শ, ঢেলে সাজাতে হবে রাজধানীর পুরো পরিবহন ব্যবস্থা।

ভাগ্য বদলায়নি রাজধানীবাসীর। বলতে গেলে এখনো প্রতিনিয়তই বেপরোয়া বাসের চাকায় পিষ্ঠ হচ্ছেন রাজপথে চলাচলকারীরা। গত দুই মাসে রাজধানীতে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ১৪ জনই মারা গেছে বাস ও পিকাপের ধাক্কায়। যার সাতজন ছিলো পথচারী আর ছয়জন মটরসাইকেল আরোহী।

ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিলেও এখনো রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিউম্যান হলার বা লেগুনা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে গঠিত কমিটি ৩০ টি বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুপারিশ মতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা বন্ধের কথা থাকলেও তা মানছেনা কেউ। চলতিপথে বাসের দরজা বন্ধ রাখার কথা থাকলেও তেমনটা চোখে পড়েনি কোথাও। রাজধানীর গণপরিবহনগুলো চুক্তিভিত্তিক চলাচল বাতিলের নির্দেশনা থাকেও তারও হয়নি শতভাগ বাস্তবায়ন। জেব্রাক্রসিং কিংবা ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহারেও দেখা গেছে অনীহা।

অন্যদিকে অ্যাপভিত্তিক সটরসাইকেল যেন দিন দিন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিচ্ছে রাজধানীতে। বিআরটিএ তথ্যমতে রাজধানী নিবন্ধীত মোটরসাইকেল ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫৮ টি। গত দুইমাসে আইন অমান্য করায় মামলা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৭৪ টি মটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৫ টির মধ্যে একটি মটরসইকেলই মানছেনা আইন। তবু অ্যাপভিত্তিক এই পরিবহন নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।

গতদুই মাসে ডিএমপির উদ্যোগ যেন সীমাবদ্ধ ছিল মামলা আর জরিমানা আদায়ে। পরিবর্তন বলতে যেটুকু তা হলো মোটর সাইকেল আরোহীর হেলমেট আর ব্যক্তিগত গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহারে। কর্তৃপক্ষ বলছেন শৃঙ্খলা ফিরতে সময় লাগবে।

দু’একটি ইতিবাচক দিক চোখে পড়লেও এখনো রাজধানীর সড়কে থামেনি মৃত্যুর মিছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছে যতক্ষণ না রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা না যাবে ততক্ষণ অধরাই থেকে যাবে নিরাপদ সড়ক। সুফল পেতে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।