ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে

ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে

একাদশ সংসদ নির্বাচন সমাগত। রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যশোরের তিনটি সংসদীয় আসনে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক, যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় পার্টির ব্যানারে চিত্রনায়িকা শাবনূর মনোয়ন প্রত্যাশী।

যশোরে তারকাদের প্রার্থী হওয়ার খবরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য তারকা প্রার্থীদের মনোনয়নের খবরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তৃণমূলের নেতারা। যশোরের বাস্তবতায় যোগ্য প্রার্থীর সংকট নেই। ফলে তারকাদের দলীয় মনোনয়নের খবর ভূয়া হিসেবেই দাবি করছেন অনেকে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘের অধিবেশনে সফরসঙ্গী হন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তার এই সফরকে ঘিরে নানা ডালপালা গজিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়েছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন নায়ক ফেরদৌস।

কুমিল্লার তিতাশ উপজেলার সন্তান ফেরদৌস। তার শ্বশুর প্রয়াত আলী রেজা রাজু ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। যদিও এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ও সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোর মতো শক্তিশালী প্রাথী রয়েছেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে ফেরদৌসকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিবে, এটা নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না।

জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যেখানে যার প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দিবেন। তবে তৃণমূলের বাস্তবতায় যশোর-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থীর কোনো সংকট নেই। বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোর মতো প্রার্থীরা থাকতে ফেরদৌসের মতো তারকাকে প্রার্থী করতে হবে এমন বাস্তবতা নেই।

তিনি আরো বলেন, ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার পর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই খবরের কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। এক শ্রেণির মানুষ ফেরদৌসকে আলোচনায় আনছে। ফেরদৌসের প্রার্থী হওয়া খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভেঙে পড়েনি। আবার আনন্দিতও নয়।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে জাতীয় পার্টির ব্যানারে প্রার্থী হবেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তবে শাবনূরের প্রার্থীতার বিষয়টি জানেন না জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান।

জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শাবনূর প্রার্থী হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভূয়া। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বছরের নয় মাস সেখানে থাকেন। তিন মাস বাংলাদেশে। আমরা খোঁজ নিয়েছি, তার প্রার্থী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিছু লোক অপপ্রচার করছে।

এদিকে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক। তার প্রার্থীতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে কয়েক বছর ধরে।

২০১৭ সালে শাবানা ও তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক কেশবপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে প্রার্থী হওয়া বিষয়টি আরও খোলসা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন ওয়াহিদ সাদিক। যদিও এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে থেকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে বিশ্বাস করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক। এবার দলের বাইরের লোককে মনোনয়ন দিলে কেশবপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। মনোনয়নের ব্যাপারে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

শাবানা ও তার স্বামীর প্রার্থীতার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন।

তবে তিনি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমাদের সবার আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবির প্রতি মূল্যায়ন করবেন। দলের ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।