ভারতের আধিপত্য ও বাংলাদেশঃ হিন্দুইজম, সংকীর্ণ মন-মানসিকতা ও মানবতার অভাব

বেশিরভাগ বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাব বিদ্যমান এর নানাবিধ কারণ রয়েছে।

– লাভলী শামসুন্নাহার

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নিয়ে দুটো সমস্যা রয়েছে যেমন -সীমান্ত বিরোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সীমান্ত বিরোধ এর সমাধান হয়েছে কিন্তু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কোনো সমাধান হয়নি। সেই সাতচল্লিশ সাল থেকে ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যা অর্থাৎ ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। কিন্তু সীমান্ত হত্যা, শিশু ও নারী পাচার, চোরাচালানের মত সমস্যা রয়েই গিয়েছে।

পানি বন্টন নিয়ে সমস্যা রয়েছে -ভারত চুয়ান্নটি নদীর বেশীরভাগ নদীতে বাধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে যাচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক পানিবন্টন আইনের লংঘন। ভারত তিস্তার মূল প্রবাহ কে পরিবর্তন করে তিস্তার উত্তর দিকে ছয়টা ব্যারাজ বানিয়েছে। মহানন্দা থেকে গংগা এবং বিহারের আশেপাশে দুই তৃতীয়াংশ পানি ওদিকে প্রবাহিত হচ্ছে যার এক তৃতীয়াংশ পানি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে, সেটাও প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, ফলে বাংলাদেশের জন্য আর কিছুই থাকে না। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি তো রয়েছেই, বাণিজ্য শূল্ক, ভিসা সমস্যা, মানব পাচার, মাদক পাচার এসব নানা সমস্যা তো এখনো রয়েছে।

বাংলাদেশ ভারতের সেভেন সিস্টার সমস্যার সমাধান করেছে ফলে ভারতের উচিৎ বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রাখা। কারন ভারত যদি India doctrine কার্যকর করতে চায় তাহলে প্রতিবেশী দেশদেরকে ক্ষ্যাপিয়ে কোনো সুফল আনতে পারবে না। বরং সদ্ভাব রেখে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান করে সেটা করতে পারবে। তাহলে আপনা-আপনি ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

আমাদের ও মনে রাখতে হবে দুই বা তিন পূরূষ আগে যদি আমাদের ইতিহাস বলতে চাই তো ভারতের ইতিহাস বলতে হয় তাহলে ভারত কে অস্বীকার করার উপায় আছে কি?

ভারতের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রাচীন ভারতে ইংরেজ আসার আগে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্তা অত্যন্ত উন্নত ছিল। গ্রামে গ্রামে গুরুকূল ছিল যেখানে পুরুষ শিক্ষক এর সাথে মহিলা শিক্ষক ও ছিলেন। তখন কোন ভিক্ষুক ছিল না,বেকারত্ব ছিল না। গুরুকূলে বৈদিক, গণিত, ধাতুবিদ্যা, কারিগরিবিদ্যা, মেডিসিন ও সার্জারী সহ অন্যান্য বিষয়ে পড়ানো হতো। সে সময় ইংল্যাণ্ডের চার্চে কেবল বাইবেল পড়ানো হত। এ তথ্য উইলিয়াম এডাম ভারত থেকে ইংল্যাণ্ডে পাঠিয়ে ছিল। এ গৌরব বাংলাদেশেরও কারণ বাংলাদেশ ভারতের অংশ ছিল।

আমেরিকা সারাবিশ্বে অস্ত্র বিক্রি করে আর বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে রাখে। ISI ও লাদেনের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করে। ইরাক -ইরান যুদ্ধ বাধিয়ে দুপক্ষের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, টুইন টাওয়ার ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করে লাদেন আর এরোপ্লেনের গল্প বানায় এসব তো ভারত করে না। তাহলে এত ভারত বিরোধী মনোভব কেন? এর কিছু কারণ আছে – হিন্দুইজম, সংকীর্ণ মন-মানসিকতা ও মানবতার অভাব। ভারতের উচিত ধর্ম বিদ্বেষী মনোভাব ত্যাগ করে মানবতা কে প্রাধান্য দেয়া আর বাংলাদেশের ও উচিত ধর্মীয় গোঁড়ামী ত্যাগ করা। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই তাই পাকিস্তান কে আপন মনে করে, এবং হিন্দু রাষ্ট্র ভারত কে সবসময় শত্রু মনে করে। ভারত যদি আগামীকাল থেকেই বাংলাদেশের সব দাবি মেনে নেয়, বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধান করে তাহলেই যে বাংলাদেশের জনসাধারণ ভারতকে বন্ধু ভাববে শত্রু নয় সেটাও বলা যায় না, দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের ফলে হিন্দু -মুসলমান দ্বন্দ্ধ রক্তে মিশে গিয়েছে ফলে এ থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হবে। অনেকেই মনে করে ভারত 71 এ নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে, যদি এটা পূর্ব পাকিস্তান থাকতো তবে ভারত ফেলানীর মত ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না। তখন নিরাপত্তা সংকট এত বেশি হত যে সামরিক ব্যয় বহুগুন বেড়ে যেত। ভারত -বাংলাদেশ সম্পর্কের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুটি দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে। ভারত কে প্রতিবেশি সকল রাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা গুলো দূর করে সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাব কিছু টা দূর করা সম্ভব হবে, তার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন শক্তিশালী বৈদেশিক নীতি এবং মেধাবী পররাষ্ট্রনীতি প্রণেতা, যারা দরকষাকষির মাধ্যমে জাতীয়স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেের ছাত্র ছাএী কাজ করার সুযোগ পাবে। বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে ম্পেশাল বিসিএস এর ব্যবস্থা করে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে যেমনটা মাঝে মাঝে ডাক্তার ও শিক্ষক নিয়োগ এর ক্ষেত্রে দেখা যায়।