পূজায় চুলের সাজে ফুলের বাঁধন

পূজায় চুলের সাজে ফুলের বাঁধন

পূজায় চুলের সাজে ফুলের বাঁধন

পূজার ভাগ দৌড়ে একটু ভারী কাপড় পরে থাকা যেমন কষ্টকর। তেমনি খোলা চুলে থাকা আরো কষ্টকর। এতে গরম বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। আর নিজেকে সামলানো ঝামেলা হয়ে যায়। তাই চুলের বাঁধন এমন হওয়া উচিৎ যেটাতে আপনার সাজ ও কাজ দুটোই যেন থাকে পরিপাটি। এত সাজের সমাহারের মাঝে আপনার প্রিয় চুল সাজানোর কথা ভেবেছেন? কীভাবে সাজাতে চান আপনার চুলরাশি? পূজার সময় সারাদিন সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকা আর ঘোরাঘুরি করতে হয়। তাই এইদিনে যেমনই সাজ হোক না কেনো তা যেন হয় আরামদায়ক।

তাছাড়া ফুলবিহীন পূজার সাজ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দশমীর দিন লাল-সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপের সঙ্গে চুলের সাজে যদি একগুচ্ছ ফুল না থাকে তাহলে বুঝি ঠিক মানায় না। বাঙালি নারীর সাজ যেন ফুলের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। ফুল দিয়ে চুল সাজাতে হলে আপনি কাঁঠবেলী, রজনীগন্ধার লম্বা মালা, মাধবীলতা, কাঁঠালচাঁপাসহ আরও নানা দেশীয় ফুল ব্যবহার করতে পারেন।

ফুল দিয়ে সাজলে আপনাকে যেমন সুন্দর লাগবে, তেমনি ফুলেল সৌরভে আপনার চারপাশের মানুষ মোহিত হবেন। সেই সাথে প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ফুলের স্নিগ্ধ গন্ধ আপনাকে প্রশান্তি দেবে সারাক্ষণ। সেজন্য, মেয়েদের চুলের সাজের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আসুন দেখে নেওয়া যাক এই পূজার জন্য বিভিন্ন রকমের আরামদায়ক কিছু চুলের সাজ।

১. চুলে ফুলের সাজ:

হাতখোঁপা অথবা একটু ভিন্নভাবে খোঁপা করে নিন। খোঁপার চারপাশে ছোট ছোট গোলাপ আটকে দিন। ঠিক খোঁপার মাঝখানে বড় একটি গোলাপ লাগান। এবার আয়নায় নিজেকে দেখুন কতটা সুন্দর লাগছে আপনাকে!

পুরো খোঁপাটি বেলীফুলের মালা দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। কানের পাশ দিয়ে অন্য কোনো একটি ফুলের মালা লাগান। এতেও আপনাকে অনেক সুন্দর লাগবে।

চুলগুলো গুছিয়ে নিয়ে বেণী করে ফেলুন। শক্তভাবে বেণী শুরুর প্রান্ত থেকে ৮ থেকে ১০টি বেলী ফুলের মালা আটকে নিন। বেণী করে শুধু গাজরা লাগাতে পারেন।

একটু ভিন্নতা আনতে চাইলে বেলীফুলের সঙ্গে বেণীর উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটু পরপর ছোট সাদা গোলাপ আটকাতে পারেন।

খোলা চুলেও কানের পাশ দিয়ে দু’তিনটি ফুল লাগিয়ে নিতে পারেন। বেণীজুড়ে ছোট কোনো ফুলের মালা পেঁচিয়ে পরতে পারেন। এতেও আপনাকে সুন্দর লাগব।

২. টুইস্ট খোঁপা:

সাজে জমকালো ভাব আনতে সহজ এই খোঁপার জুড়ি নেই। টুইস্ট খোঁপার জন্য চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। সামনে লেয়ার কাট থাকলে এক পাশে সিঁথি করতে পারেন। সিঁথি ছাড়াও খোঁপাটি বেশ ভালো দেখায়। প্রথমে কপালের সামনের চুলগুলো আলাদ করুন। মাথার মাঝের চুলগুলো পাফ করে অল্প করুন। এবার সমনের চুলগুলো কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে একে একে পেঁচিয়ে টুইস্ট করে পাফ করা চুলের ওপর দিয়ে পেছনে এনে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। সামনের সব চুল টুইস্ট হয়ে গেলে পেছনের চুলগুলো রাবার দিয়ে আটকে নিন। সামনের মতো পেছনের চুলগুলোকে বেশ কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে টুইস্ট করে পেঁচিয়ে খোঁপার শেপ করুন। আকর্ষণীয় লুক পেতে খোঁপার এক পাশে ফুল গুঁজে দিতে পারেন।

৩. রোজেট ফ্লাওয়ার ব্রেইড:

সচরাচর আমরা কমবেশি সবাই বেণী করে থাকি। কিন্তু, এই বেণীকেই যদি ফ্লাওয়ার আকার দেওয়া যায় তাহলে তা খুবই আকর্ষণীয় হেয়ার স্টাইলে পরিবর্তিত হয়। রোসেট ফ্লাওয়ার ব্রেইড এমনই একটি হেয়ার স্টাইল।

যা লাগবে: হেয়ার ব্রাশ। হেয়ার ব্যান্ড/ইলাস্টিক, পিন

ধাপসমূহ :

চুল হেয়ার ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করে নিতে হবে। যাতে কোনো গিঁট না থাকে। এবার চুলের একপাশে দিয়ে একটি বেণী করতে হবে।

বেণীটিকে হালকা টেনে একটু ফুলিয়ে নিতে হবে। বেণীটি করা হয়ে গেলে ইলাস্টিক দিয়ে আটকে দিতে হবে। এবার বেণীটি ঘুরিয়ে এটিকে ফুলের আকৃতিতে আনতে হবে।

ফুলের আকৃতি করা হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় পিন দিয়ে আটকে দিতে হবে। খুব সহজেই হয়ে গেল সুন্দর একটি স্টাইল।

৪. বেণী:

যারা চুলে বেণি করার কথা ভাবছেন, তাঁরাও বেণিতে ফুলের ব্যবহার করতে পারেন৷ খেজুর বেণি, ফ্রেঞ্চ বেণি, টুইস্ট বেণি, মাথার বিভিন্ন জায়গায় টুইস্ট করে এলো বেণিও খুবই জনপ্রিয় চুলের সাজে। এ রকম বেণি করে সামনের চুলটা কিছুটা কোঁকড়া করে নিয়ে এলোমেলো করে ছেড়ে রাখতে পারেন।

বেণির গোড়ায় আটকে নিতে পারেন পছন্দের কোনো বড় আকারের একটি ফুল। আর বেণিতে পেঁচিয়ে নিতে পারেন কাঠবেলীর লহর। লম্বা বেণির ভাঁজে ভাঁজে ছোট ছোট ফুল গেঁথে নিলে চমত্কার দেখাবে।