পূজায় খাবারের আয়োজন

পূজায় খাবারের আয়োজন

‘ধর্ম যার যার, আনন্দ সবার।’রীতি-নীতি, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে বাঙালী জাতি অনন্য। প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম পালনের বাইরে আর যে জিনিসটি সবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে খাবার।

পূজার আনন্দ শুরু হয়ে গেছে। সাজপোশাকের পরই পূজার সময়ে বিশেষ নজর থাকে খাবারের দিকে। বাড়িতে তৈরি হবে নানা পদের খাবার।

পূজায় পছন্দের খাবার খান, তবে…

ছবি: লুক@মি

মন্দিরে কাসার ঘণ্টার ঢং ঢং আওয়াজ আর ঢাক-ঢোলের বাজনার তালে তালে পূজার উৎসব শুরু হয়েছে। কেউবা মনোহারী খাবার খেয়ে আবার কেউ লগ্ন ধরে উপোস করে উপলব্ধি করছেন পূজার মাহাত্ম্য। তবে পূজার সঙ্গে জমিয়ে পেট পুজো করবেন, নাকি বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্ক হবেন- এ বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আসুন জেনে নিই পূজার খাবার গ্রহণে বিশেষ যেসব প্রস্তুতি নেয়া দরকার-পূজার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। সমস্ত দিনে নানা পদের খাবার থাকবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন- সন্দেশ, রসগোল্লা, চমচম, মিষ্টি দই, রাজভোগ, কালোজাম, রসমালাই, প্রাণহারা, ছানামুখী, মণ্ডা, মকড়ম, ক্ষীর, বাতাসার আয়োজন থাকে। এছাড়া ঢেঁকিছাঁটা চিড়া, ঝোলাগুড় মাখানো মুড়ির মোয়া, নারকেলের নাড়ু, তালের বড়া, নকশি পিঠা ইত্যাদি লোভনীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। যা না খেয়ে থাকা যায় না। এসময় রান্নার মধ্যেও আসে ভিন্নতা। লুচি আলুর দম, বেগুন ভাজি, আলু পোস্ত, ছোলার ডাল, শুক্ত, কাঁচকলার কোফতা, ভেটকি মাছের পাতুরি, চিংড়ি মাছের মালাইকারী, চিতল মাছের মুইঠ্যা, সরিষা ইলিশ, খিচুড়ি এসব খেতে খুব সুস্বাদু। দুই-এক দিন বেশি খেতে যদিও খুব বেশি বাধা নেই, তবুও রয়ে-সয়ে খাবার খাওয়া উচিত। এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পেটের পীড়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে এমন মানুষদের বিশেষ সতর্ক হতে হবে।নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসায় ঘুরে ঘুরে, এবং উৎসবস্থল থেকে প্রায় সারাদিনই টুকিটাকি এটা-সেটা খাওয়া হয়। আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে এসব বিষয়ের ওপর আমাদের একটু নজর দেয়া দরকার। দুর্গাপূজায় অনেকেই উপোস করেন। তবে উপোস করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব ডায়াবেটিস রোগী ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তাদের খাবারটা সঠিক সময়ে খেয়ে নিতে হবে। অথবা যারা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, তারা অনেকক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকলে ব্যথায় ভুগতে পারেন। তাদের উচিত হবে উপোসের সময় তরল জাতীয় খাবার, যেমন দুধ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়া।ষষ্ঠীতে দুপুরে খিচুড়ি আর বেগুনভাজা খেতে পারেন। পাঁচমিশালি সবজি থাকতে পারে। ঢেকিছাঁটা চাল, মসুর বা হরেক ধরনের ডাল দিয়ে রান্না খিচুড়ি খেতে পারেন। মোটকথা বেশি মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় বেশি বেশি সবজি রাখুন।

মুড়িঘন্ট রেসিপি

জিভে জল আনা তেমনই একটি শতভাগ বাঙালি খাবার হলো মুড়িঘন্ট।

উপকরণ –

উপকরণ :
রুই মাছের মাথা বড় ১টি
মুগ ডাল ৩০০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ চা চামচ
ঘি ১ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়ো ২ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ
এলাচ ২টি
দারুচিনি ২টি
তেজপাতা ২টি
কাঁচামরিচ আস্ত ৫-৬টি
ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদ অনুযায়ী
পানি পরিমাণমতো
সয়াবিন তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি-

প্রথমে মুগ ডাল হালকা ভেজে পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। একটি পাতিলে ঘি ও তেল গরম করে তাতে গরম মসলা ও তেজপাতার ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ হালকা ভেজে তাতে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা এবং স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে মসলা ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর রুই মাছের মুড়ো (মাথা) কেটে টুকরো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। কষানো মসলায় টুকরো করা মাছের মাথা দিয়ে আবার ভালো করে কষিয়ে ভুনাভুনা করে মসলা থেকে মাছের মাথা তুলে নিয়ে ওই মসলায় আগে থেকে ছেড়ে রাখা মুগ ডাল দিয়ে ভালো করে কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে ডাল রান্না করতে হবে। মাঝে মধ্যে ডাল নাড়তে হবে, যাতে নিচে লেগে না যায়। ডাল সিদ্ধ হয়ে এলে তাতে মাছের মাথা দিয়ে রান্না করে নিন। মাথা সিদ্ধ হয়ে এলে তা ভেঙে দিয়ে ডালের সঙ্গে মিশিয়ে ধনে পাতা কুচি, আস্ত কাঁচামরিচ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ চুলায় রান্না করে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন রুই মাছের মাথার মুড়িঘণ্ট।

সুস্বাদু সন্দেশ –

উপকরণ: গুঁড়ো দুধ ১ কাপ, ক্রিম- ১/৪ কাপ, এলাচ গুঁড়া- ১/২ টেবিল চামচ, ঘি কয়েক ফোটা, পেস্তা- গার্নিশের জন্য, চিনি- প্রয়োজনমতো।

প্রণালী: একটি পরিস্কার কাঁচের পাত্রে গুঁড়ো দুধ, এলাচ গুঁড়ো এবং ক্রিম নিতে হবে এবং একটি স্পাচুলার সাহায্যে ভালো মতো মিশাতে হবে। এরপর মিশ্রণটি ৩০ সেকেন্ডে ৯০০ ওয়াট এ মাইক্রোওয়েভ করতে হবে। এরপর পাত্রটি মাইক্রোওভেন থেকে বের করে ভালো মতো ৩-৫ সেকেন্ডের জন্য নাড়তে হবে। এরপর আরো ৩০ সেকেন্ডের জন্য মাইক্রোওয়েভ করতে হবে। আবারো মিশ্রণটি নাড়তে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত মিশ্রণটি ১টি ডো তে পরিণত হয়। ডো টি ভালো মতো হাত দিয়ে মাখাতে হবে। মৌল্ড গুলোতে ঘি মাখিয়ে নিতে হবে এবং ডো থেকে ছোট ছোট ভাগ করে নিতে হবে। এরপর সেগুলো মৌল্ড এ দিতে হবে। সুন্দর আকার দিয়ে মৌল্ড থেকে বের করে নিতে হবে। তৈরী হয়ে গেলো সুস্বাদু সন্দেশ।


পাঁচমিশালি সবজিবড়ি

উপকরণ

আলু, কপি, বেগুন, মুলা, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পটল, গাজর, বরবটি, টমেটো টুকরো ৪ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, হলুদ ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, আস্ত পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ, তেজপাতা ২ টি, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, আস্ত শুকনা মরিচ ৩-৪ টি, লবণ স্বাদ মতো, চিনি ১ চা চামচ, তেল ৪ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, মুগের ডাল আধা কাপ।

প্রণালি

সব সবজি বেকিং পাউডার দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এবার চুলায় পাত্র দিয়ে তেল দিন। তেল গরম হলে সব মসলা দিয়ে কষান। মসলা কষানো হলে তাতে সবজিগুলো দিয়ে অল্প গরম পানিতে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন। এরপর তাতে ধনেপাতা কুচি, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর উপরে ঘি ঢেলে দিয়ে দমে রাখুন ৫ মিনিট এবং গরম গরম পরিবেশন করুন।

পূজায় নাড়ু-লাড্ডু

সামনেই দূর্গাপূজা। আমাদের দেশে পূজা মানেই হরেক রকমের নাড়ু-লাড্ডুর সমাহার। মজার এসব খাবার পূজার আনন্দ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। জেনে নিন, কয়েকটি নাড়ু-লাড্ডু তৈরির প্রক্রিয়া-
বেসনের লাড্ডু
উপকরণবেসন:   ১ কাপ পানি:   আধা কাপcকাঠ বাদাম:  এক চা চামচcএলাচ গুড়া: পরিমাণ মতো ভাজার জন্য তেল:  পরিমাণ মতো সিরা তৈরি:  চিনি দেড় কাপ ও পানি এক কাপ
প্রণালী
প্রথমে পানিতে চিনি জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিন। এবার একটি পাত্রে পানি ও বেসন দিয়ে খুব ভালো করে মিশ্রণ তৈরি করুন। বড় হাতলসহ ঝাঁজরা চামচে মিশ্রণ নিয়ে গরম তেলে ছাড়ুন। এ পর্যায়ে অল্প আঁচে বুন্দিয়াগুলো সোনালী রঙ করে ভেজে তুলতে হবে।সবশেষে চিনির সিরায় বুন্দিয়া, বাদাম কুচি এবং এলাচ দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। হাতে চিনির সিরা মেখে গোল করে লাড্ডু তৈরি করুন।তিলের লাড্ডু
উপকরণ
তিল   : ২৫০ গ্রাম গুঁড়    : ২৫০ গ্রাম ঘি      : ১ কাপ
প্রণালী
তেল ছাড়া তিল ভেজে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার চুলায় একটি পাত্রে গুঁড় জ্বাল দিন। তা গলে গেলে তিল দিয়ে নাড়তে থাকুন। গুঁড়ের সাথে তিল মিশে শক্ত হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে। এবার একটি পাত্রে তিলের মিশ্রণ ঢেলে গরম থাকতেই ঘি দিয়ে মিশিয়ে নিন। এ পর্যায়ে পছন্দমতো লাড্ডু তৈরি করুন।নারকেলের নাড়ু
উপকরণ
নারিকেল:  ৪টি গুঁড় অথবা চিনি:  ১ কেজি তেজপাতা: ১টি লবণ:  এক চিমটি এলাচ গুঁড়া:           সামান্য দারুচিনি: কয়েক টুকরা
প্রণালী
প্রথমে নারিকেল কুরিয়ে নিন। কোরানো নারিকেল ও গুঁড় ভালো করে মিশিয়ে পাত্রে দিন। এ পর্যায়ে দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে নিতে হবে। এরপর ভালোভাবে নাড়ুন যাতে তলায় লেগে না যায়। হালকা আঁচে প্রায় আধাঘন্টা রান্নার পর নরম ও আঠালো হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। হালকা গরম থাকতেই হাতের তালুতে অল্প ঘি মেখে নারিকেল নিয়ে ছোট বলের মতো গোল করে নাড়ু তৈরি করুন।

পূজায় বাঙ্গালিয়ানা ২০টি খাবার

 পূজার আয়োজনের পাশাপাশি চলবে খাবার-দাবারের বড় আয়োজন। এ কয়টাদিন সব বিনোদনের সঙ্গে চলবে বাঙ্গালিয়ানা নানা মুখোরোচক খাওয়া-দাওয়া। বাঙ্গালিদের খাবার মানেই মসলাদার রসালো লোভনীয় খাবার। বাঙ্গালির অনেক পছন্দের খাবার আছে যার স্বাদ ভোলা যায় না। চলুন এই পূজায় খাবার টেবিলে রাখতে পারেন কি কি খাবার দেখে নেয়া যাক-

১। লুচি আলুর দমluchi
আলুর দম, লুচি আর পুরি বাঙ্গালির বিকেলের নাস্তায় এক অতি পরিচিত নাম। এই তিন খাবার এমন ভাবে সবার কাছে পরিচিত যেন তিন খাবার মিলে এক খাবার হয়ে গেছে।

২। বেগুন ভাজিbegun
খিচুড়ি বা ভাতের থালা যাই বলিনা কেন বেগুন ভাজি ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে হয়। মুখরোচক এই খাবারের সুনাম প্রত্যেক বাঙ্গালির মুখে মুখে।

৩। আলু পোস্তalu-posto
সবজি হিসেবে আলুর জুড়ি নেই। পশ্চিম বঙ্গ বলি আর বাংলাদেশ বলি আমাদের খাবার তালিকায় আলুর তুলনা নেই। আলু দিয়ে তৈরি “আলুর পোস্ত” বাঙ্গালির উন্নতম প্রিয় একটি রেসিপি ।

৪। শুক্তোshukto
ছোট বাচ্চারা সবজি খেতে চায় না অথচ সবজি তাদের জন্য অনেক উপকারি। বিশেষ করে তিক্ত করলা তো কেও খেতেই চাই না। তাই সহজেই মায়েরা এই সুস্বাদু শুক্তো রান্নার মাধ্যমে বাচ্চাদের সবজি খাওয়াতে পারেন।

৫। কাঁচকলার কোফতাkach-kolar
কলা কি শুধুই ফল? না এটা সবজি হিসেবেও বেশ পরিচিত এবং উপকারি। কাঁচা কলার কোফতা বাঙ্গালির অনেক পছন্দের একটি খাবার ।

৬। ঝাল মুড়িjhal
ঝাল মুড়ি প্রত্যেকটা বাঙ্গালির পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে। কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লেবু চানাচুর দিয়ে মাখানো ঝালমুড়ি খেলে জিভ আর চোখ দুটোতেই জল চলে আসে। বেড়াতে আসা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাই ঝালমুড়ি চালিয়ে নিতে পারেন ।

৭। ভেটকি মাছের পাতুরিvetki-paturi
এই অসাধারণ রেসিপিটি খেতেও যেমন মজার রান্নাতেও রয়েছে অসাধারন পদ্ধতি। খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে কলা পাতায় জড়িয়ে এই ভেটকি মাছের পাতুরি রান্না করা হয় ।

৮। চিংড়ি মাছের মালাইকারীchinri-malaikari

সারা বাংলাদেশে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর যে চিংড়ি মাছ পছন্দ করে না। আর সেটা যদি চিংড়ি মাছের মালাইকারী হয় তবে তো কথাই নেই। নারিকেলের দুধের সাথে চিংড়ি মাছে মালাইকারী বাঙ্গালি খাবারের তালিকায় অদ্বিতীয়।

৯। চিতল মাছের মুইঠ্যাchitol-mutthya
চিতল মাছের কোফতা আর মুইঠ্যা দুইটাই বাংঙ্গালিদের পছন্দের খাবার। খাবারের রঙ, রুপ আর গন্ধ দেখে যে কেউ এই খাবারের প্রেমে পড়ে যাবে।

১০। ডাব চিংড়িdab-chingri
এই মজাদার লোভনীয় খাবারটি রান্না করা হয় ডাব/ নারিকেলের দুধের সাথে সরিষার তেল দিয়ে চিংড়ি মাছ। নারিকেল আর সরিষার তেলের ঘ্রাণে রান্নার আলাদা এক স্বাদ তৈরি হয়।

১১। মাছের দম পুখতmacher-dom
বাদাম, পোস্তদানা আর দই এই মিলে মাছের দম পুখত রান্না করা হয় । বাঙ্গালির পূজা পার্বণে এই খাবারগুলার জুড়ি নেই।

১২। সরিষা ইলিশshorshe-hilsha
বাঙ্গালি খাবারের সবার ওপরের সারিতে আছে ইলিশ মাছ। সরিষা ইলিশ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

১৩। মাছের মাথা দিয়ে মুগডালmurighanta
বড় রুইমাছের মাথা দিয়ে মুগডালের মুড়িঘণ্ট, আহ নাম শুনলেই মুখে পানি আর পেটে ক্ষুধা চলে আসে। বাংলাদেশের মানুষের মুখে আরও একটা মজার কথা প্রচলন আছে, মাছের মাথা খেলে বুদ্ধি বাড়ে। তাই গর্ভবতী মায়েদের আর ছোট বাচ্চাদের মাঝে মধ্যেই এই খাবার খাওয়ার কথা বলেন বড়রা ।

১৪। কচি খাসির মাংস ঝোলkhashi
কচি খাসির মাংস কে না ভালোবাসে। অসম্ভব সুস্বাদু এই খাবার বাংলাদেশের মানুষের খুবই প্রিয়। যেকোনো উৎসবে, বা আয়োজনে কচি খাসির মাংস খুবই সমাদৃত।

১৫। মুড়িঘণ্টmurighanta-2
মাছের মাথা দিয়ে অসম্ভব সুস্বাদু এই মুড়িঘণ্ট করা হয়। পশ্চিম বঙ্গ আর বাংলাদেশ উভয় জায়গায় এই খাবার খুব জনপ্রিয়। পূজা পার্বণে এই খাবার খুব সমাদৃত।

১৬। কষা মাংসkosha_mangso
দই আর মাংসের সমন্বয়ে যে কষা মাংস রান্না করা হয় তা কোন কারন ছাড়াই সারা বাংলাই বিখ্যাত। হালকা বাদামি রাং থেকে কালো রঙের কষা মাংস পুরা বাঙ্গালির মাংসের স্বাদকে নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে।

১৭। সন্দেশshondesh
দুধ, চিনি মিলিয়ে সন্দেশ তৈরি করা হয়। বাঙ্গালির মিষ্টি তালিকায় সন্দেশ নাম সবার ওপরে। পূজা পার্বণ থেকে শুরু করে সকল অনুস্থানেই চলে এই সন্দেশের আয়োজন।

১৮। রসগোল্লাroshgolla
রসগোল্লা সম্পর্কে নতুন কিছু বলার নেই। যদি আপনি বলে থাকেন রসগোল্লা সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন না তাহলে বলব যেই গোল্লা রশের মধ্যে হাবুডুবু খাই আর যেটা খেলে আপনার জিভে রশ চলে আসবে সেটাই রসগোল্লা ।

১৯। চমচমchomchom
চমচম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। এটা একদম ফ্রেশ ছানা থেকে ভালোবাসা দিয়ে তৈরি করা হয় আর টাই এটা খেতে এত মজা।

২০। মিষ্টি দইdoy
মিষ্টি দই অনেক ভাবে তৈরি করা হয়। কথাও খেজুরের গুড় আর দই দিয়ে আবার কথাও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয়। অসম্ভব সুস্বাদু আর উপকারি খাদ্য মিষ্টি দই।