মাত্র ৫৬ বছরে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু

চলে গেলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু

 
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্না … রাজিউন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সকালে নিজের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

আইয়ুব বাচ্চুর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জানান, হাসপাতালে নেয়ার পথে গাড়িতে এক পর্যায়ে তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা শূন্যের কোটায় নেমে আসে।

স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল বিভাগের পরিচালক ডা. মীর্জা নাজিমুদ্দীন জানান, সকাল সাড়ে আটটায় বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক তার গাড়িতে করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো তার হার্টে রিং পরানো হয়। তবে সম্প্রতি তিনি ঘনঘন হৃদরোগে ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ আগেও তিনি শরীর চেকআপ করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন।

ডা. নাজিমুদ্দীন বলেন, সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কার্ডিওমায়োপ্যাথি। হাসপাতালে আনার সময় কার্যকারিতা শূন্যের ঘরে চলে আসে। আর এতেই তার মৃত্যু হয়।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

সঙ্গীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংসের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী তাঁর শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি নামেও পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।