ফেক নিউজ ধরার কারিগর

ফেক নিউজ ধরার কারিগর

শেখ শাহরিয়ার জামান

গত আগস্টে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়লে গোটা সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর সবদেশে এই ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক সময়ে ভীতি এবং সমস্যার সৃষ্টি করছে। তবে এসব ফেক নিউজ শনাক্ত করে প্রমাণসহ জনসমক্ষে প্রকাশের কাজ করে যাচ্ছে ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘূর্ণিঝড়ের পরে টেক্সাস এবং হিউষ্টন শহরের পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় হাঙ্গর সাঁতার কাটছে এমন একটি একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। তিন লাখ শেয়ার হওয়ার পর দেখা গেল এটি ২০১৪ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি ছবি। আরেকটি একটি ভাইরাল ছবিতে দেখানো হয়েছিল জার্মানিতে মুসলিমরা দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হয় কট্টর দক্ষিনপন্থিরা এই ছবিটি ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ছবিটি ছিল একটি ফুটবল ম্যাচের দাঙ্গার ছবি।

এধরণের ফেক নিউজকে জনসমক্ষে মিথ্যা প্রমাণ করার কাজ করে যাচ্ছে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব।সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সফররত একদল সাংবাদিককে ওই ল্যাবের সহকারি পরিচালক নিকোলাস ইয়াপ বলেন, যেকোনো জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি মিথ্যা সংবাদকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং এটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারবে। আমাদের কাজ হচ্ছে যেকোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা ফেক নিউজকে বিশ্লেষণ করে সেটিকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং বিশ্বব্যাপি ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ইয়াপ বলেন, আমরা যখন কোনো তথ্যকে মিথ্যা বলি, আমরা সেটিকে ব্যাখ্যা করে প্রমাণাদিসহ জনসমক্ষে প্রকাশ করি।

২০১৬ সালে চারজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫ জন কর্মরত আছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কারো একটি বিশেষ পোষ্ট সন্দেহজনক মনে হয় তবে বিশেষ টেকনিক দিয়ে সেটি যাচাই বাছাই করা সম্ভব এবং সেটি সত্যি না মিথ্যা সেটি বোঝা সম্ভব।’ তিনি জানান, আমরা সারা বিশ্বে বিভিন্ন ফেক নিউজ এবং ক্যাম্পেইন পর্যবেক্ষণ করে সেটিকে মিথ্যা প্রমাণিত করি। শুধু তাইনা আমরা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি এবং বিশেষ টেকনিকগুলি শিখিয়ে দেই যাতে করে তারা কোনটি সত্যি এবং কোনটি মিথ্যা নিজেরাই বুঝতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে ফেক নিউজ চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি আমরা যা করি সেটি করতে সক্ষম।’ ইয়াপ বলেন, বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্য ভান্ডার যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইন্টাগ্রাম বা এধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কয়েকটি টুল যেমন গুগল আর্থ বা গুগল ইমেজসহ আরও কয়েকটি সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেই তথ্যটি সঠিক কিনা।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাঙ্গর বা জার্মানির দাঙ্গার ক্ষেত্রে গুগল ইমেজের মাধ্যমে সহজে জানা সম্ভব ওই ছবিগুলি প্রথম কবে প্রকাশিত হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত ডিজিটাল ল্যাব ইউক্রেনে রাশিয়ার সৈন্য উপস্থিতি এবং সিরিয়াতে আসাদ সরকার নিরীহ জনগণের উপর আক্রমণ করেছিল এই বিষয়গুলি প্রমানসহ উপস্থাপন করেছেন।