আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি

জাতীয় নির্বাচন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা

নাশকতাপ্রবণ ২৫ জেলায় বিশেষ নজর

সৈয়দ আতিক

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতাপ্রবণ ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব জেলায় গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন।

সামনের নির্বাচনে এ জেলাগুলোতে আবার নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই বিশেষ এই দৃষ্টি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরে অুনষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে যান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিরা।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিরাপত্তা কৌশলসংক্রান্ত বেশকিছু নির্দেশনা দেন। পুরনো মামলার পলাতক আসামি কিংবা জামিনে বের হওয়ার পর আত্মগোপনে আছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।

পুলিশ সদর ৫ দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘœ হয়। অপরাধীদের ভেতরে ভয় প্রবেশ করে। এ ব্যাপারে পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়িয়ে যাতে কোনোপক্ষ সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।

ডিআইজি মর্যাদার এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সব এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হলেও পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব জেলায় নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটেছিল সেসব জেলায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের লোকজন বেশকিছু জেলায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ধরনের অন্তত ২৫টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলোতে আগে দায়ের করা নাশকতার মামলার আসামিদের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। তারা কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলো হল- দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মেহেরপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনী।

জানা গেছে, এসব জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং প্রার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করতে পারে সে জন্যই অভিযান চলবে। এছাড়া দলীয় নেতাদের আধিপত্য বিস্তাররোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান জোরদার করা হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সবকিছু বিবেচনায় রেখে জাতীয় নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন হয় সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যেসব জেলায় বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন সেখানে সেরকমই নজর রয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুর্লিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এসব জেলায় যারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, আগের নির্বাচনের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ এলাকার পাশাপাশি নাশকতাপ্রবণ এলাকায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।