ভারত থেকে সরকারী বই আমদানি প্রথম চালান বাংলাদেশে

ভারত থেকে দেশে আসলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ লাখ বই

যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ লাখ বই আমদানি করলো ন্যাশনাল কারিকুলাম এন্ড টেকস বুক। নিদিষ্ট চুক্তিতে ভারতে ছাপানো বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইয়ের মধ্যে প্রথম একটি চালানে প্রায় ২৫ লাখ বই বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়েছে।

ছবিঃ বকুল মাহমুদ

বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ২৫টি ট্রাকে এসব বই বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বন্দরের ০২ নাম্বার পণ্যগারে আমদানিকৃত বই ভারতীয় ট্রাক থেকে আনলোড করে রাখা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের ২ নাম্বার পণ্যগারের ইনচার্জ (ওয়ার হাউজ সুপারেন্ডেন্ট) মোঃ রুহুল আমিন জানান, বইয়ের আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার ন্যাশনাল কারিকুলাম এন্ড টেকস বুক। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্স। বাইয়ের আমদানি মুল্য ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ ইউএস ডলার। বেইয়ের ওজন ৫০৮ মেঃটন ৩০২ কেজি। মেনিফেষ্ট নাম্বার৩৯৩৬১,তাং-৩১/১০/১৮। ১৩ হাজার ২৫০ বান্ডেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আনুমানিক ২৫ লাখ বই আমদানি করা হয়েছে।

বই সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত বেনাপোলের ভৈরব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, ভারত থেকে এখনও বই আমদানি হবে। যে সব বই ইতিমধ্যে আমদানি হয়েছে শনিবার (০৩ নভেম্বর) থেকে তা বন্দর থেকে খালাস করা শুরু হবে । খালাসের পর বই নিয়ে ট্রাক যাতে দ্রুত গন্তব্যে পৌছাতে পারে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে বলে ও জানান তিনি।

এদিকে বই খালাসের কাজে নিয়েজিত বন্দরের হ্যান্ডলিংক শ্রমিকরা বলেন, প্রতিবছর এসময় ভারত থেকে সরকারী বই আমদানি হয়ে থাকে। তাদের ছেলে মেয়েরা এসব বই পড়বেন এজন্য তারা আনন্দের সাথে খালাস করে থাকেন।

১ জানুয়ারিতে বই উৎসবে মাতবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী। এদিন সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ বর্তমান সরকারের একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। । পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে নোটবই কিনতেও তাদের বাধ্য করা হতো। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ সেই অবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সরকার শিক্ষাকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। পরিণতিতে শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দারিদ্র্যমুক্তিও ঘটছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণসহ শিক্ষা খাতে বাজেটের এক উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ যে জাতির জন্য সত্যিকার অর্থেই লাভজনক তা বাস্তবতার নিরিখেই প্রমাণিত হয়েছে। সারা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সাড়ে চার কোটি ছাত্রছাত্রীকে গত বছর বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ কপি বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই যাতে বই হাতে পায় তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্কুলে বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সুশিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনামূল্যে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই বিতরণ ও নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার যে পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে তা বিশ্ব সমাজেরও প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সরকার কতটা সফল তা সংশয়ের ঊর্ধ্বে নয়। শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগ বাণিজ্যের অবসান এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ নিষ্কণ্টক করতে সরকারকে যত্নবান হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিয়েও শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা দুরূহ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আশা করব নিজেদের সুনামের স্বার্থেই শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হবে।

প্রেরক: এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি