লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিতঃ

সৈয়দ আশরাফের জন্য দোয়া

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার ঘনিষ্ঠ চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণীয়া, ক্যালিফোর্ণীয়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘জেল হত্যা দিবস’-এ লস এঞ্জেলেসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
রবিবার ৪ঠা নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লস এঞ্জেলেসের হলিউডে স্থানীয় এক অডিটোরিয়ামে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নীয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা। যুগ্ন সঞ্চালনায় ছিলেন জামিউল ইসলাম বেলাল।

বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে জেল হত্যা দিবস পরিচিত। যে কয়টি ঘটনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বরের এই দিনটি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতিকে পুরোপুরি নেতৃত্বশূন্য করতে ৪৩ বছর আগে মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরীণ থাকা জাতির চার মহান সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইস এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিন বলেন, ৭১, ৭৫ ও ২১ আগস্টের খুনি চক্ররা সবাই এক। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা। তাদের মূল উদ্দেশ্য বাঙালি জাতিকে পিঁছিয়ে দেয়া, আবারো পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়া, এই খুনি চক্রটি ও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে নিজেদের মাঝে সকল দ্বন্ধকে জলাঞ্জলী দিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তব্য দেন ঢাকার আদাবর থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।

সভায় বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন আহমেদ পান্না, ঢালী মোফাজ্জল হোসেন মফু, মিয়া আবদুর রব, তাপস কুমার নন্দী, শাহ আলম চৌধুরী, ফয়জু সোবহান, সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, মোঃ আলমগীর হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, আমির হোসেন সরকার, এলিজা হোসেন, হাবিবুর রহমান ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ। মৌলভী রাজ্জাক টি ওয়েসকোরনি দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন। এক মিনিট নীরবতার মাধ্যমে স্মরনসভা শুরু হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ক্যালিফোর্ণীয়া ষ্টেট যুবলীগের প্রেসিডেন্ট তাপস কুমার নন্দী তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সকলকে প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান। চার নেতার মাঝে অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর তার সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনের পর এক দশক আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফ।

Jail Killing Day observed in Los Angeles 2018
Los Angeles observed Jail Killing Day on Sunday commemorating the…

Posted by Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া on Sunday, November 4, 2018