লিটল বাংলাদেশে গ্যাং আতংক

কমিউনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবানে লিটিল বাংলাদেশে সভা

কিছুদিন ধরে একদল বখে যাওয়া বাংলাদেশী তরুণ কিছু ভিন দেশী গ্যাং মেম্বারসহ হাতুড়ি, বেইস বল ব্যাট, গলফ ক্লাব সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েকটি গাড়িতে করে এসে অতর্কিতে লিটিল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বদেশী তরুণদের উপর হামলা, খোঁজা-খুঁজি ও ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। অবস্থার পরিপেক্ষিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার পূর্বে লিটিল বাংলাদেশের উৎকণ্ঠিত তরুণদের উদ্যোগে গত ১ লা নভেম্বর লিটিল বাংলাদেশে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা জনাব মাসুদ রব চৌধুরী ও পরিচালনা করেন সাইদুল হক সেন্টু। কমুনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবান ও আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে দোষী বখে যাওয়া যুবকদের আইনের হাতে তুলে দেবার আহবান জানান লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ কমুনিটির নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধি ড: জয়নুল আবেদীন, শামসুল ইসলাম, সোহেল রহমান বাদল, খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম প্রমুখ।

সভায় গত ২৩শে অক্টোবর স্থানীয় বাংলাবাজারের সামনে গ্যাং হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা হাতুড়ি সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই অতর্কিত হামলায় অংশ নেয়। তারা উপস্থিত কয়েকজনকে মারাত্মক আহত করে এবং অনেকের মাথার খুব কাছে বিপজ্জনকভাবে হাতুড়ি ঘুড়িয়ে আঘাতের চেষ্টা চালায়। অনেকে প্রাণভয়ে রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার এরা সদলবলে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিনদেশি গ্যাং মেম্বার নিয়ে স্থানীয় কস্তুরী রেস্টুরেন্টে অতর্কিতে আবির্ভাব হয়ে কয়েকজনের নাম উচ্চারণ করে খুঁজে বেড়ায় ও ভীতির সঞ্চার করে। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে এইরূপ নিয়মিত হামলার ঘটনায় লিটিল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে শান্তিপূর্ণ লিটিল বাংলাদেশে বড় ধরণের কিছু ঘটার আশংকায় রাতে এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন। অনেকেই কমুনিটির মান ইজ্জত রক্ষায়, শান্তি-সৌহার্দ বজায় রেখে বাংলাদেশী গ্যাং মেম্বারদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। আবার অনেকেই নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অনেক সময় আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে এইসব মারাত্মক অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।

সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে এদের সমুচিত শাস্তি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলে এরা ভবিষ্যতে আর গ্যাং এর দলে ভিড়তে দশবার চিন্তা করবে। অনেকে বলেন, গেল বছর অর্থমন্ত্রীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এরাই শ্লোগান দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করলে অনুষ্ঠানের ভলান্টিয়ার ও নিরাপত্তা রক্ষীরা এদেরকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এমনকি এদের আশ্রয়-প্রশয় দাতা একজন নেতাকে মন্ত্রীর সামনেই স্টেজ থেকে চ্যাং দোলা করে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওপর এক বক্তা বলেন, কয়েক মাস পূর্বে লস এঞ্জেলেস ভ্রমণরত আরেকজন মন্ত্রীর সামনে হোটেল লবিতে বেয়াদবির চেষ্টাকালে এদের নেতাকে কষে চপেটাঘাত করলে এরা কিছুদিন চুপচাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাবেক সভাপতি ও কমুনিটির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা সোহেল রহমান বাদল বলেন, গেল একুশে ফেব্রুয়ারীতে লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কন্সুলেটে এই গ্যাং তার উপর হামলা করে মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দেয়। সেইসব গুন্ডামির ভিডিও গুলো পুলিশের হাতে তুলে দেবার উদ্যোগ নেন সভায় উপস্থিত কয়েকজন।

মুনির শরীফ বলেন, জেলের ভিতরে গেলে এরা নিজেরাই তাদের বসদের নাম বলে দিবে নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে। আর সকলে যখন একই ব্যক্তির নাম বলবে তখন এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইন্ধন দাতারা আইনের শাস্তি থেকে পার পাবে না। ইলিয়াস টাইগার শিকদার বলেন, আমেরিকার আইনে হাতুড়ি একটি মারণাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি তার দোকানে হাতুড়ি দিয়ে ঘটে যাওয়া এক ব্যক্তির আহতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আক্রমণকারী ওই ব্যক্তি এখন দশ বছরের সাজা কাটছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সুষ্ঠুভাবে আইনি সহযোগিতা দিতে পারলে, অন্তত হাতুড়ি ওয়ালাকেও দশ বছরের জন্য জেলে পাঠানো সম্ভব হবে। এ পর্যায়ে সোহেল রহমান বাদল সকলকে সতর্ক করে বলেন, আগে যেভাবে কেউ জেলে গেলে খুব সহজেই বেইল বন্ডে ছাড়িয়ে আনা যেত, নুতন গভর্নর ক্যালিফোর্নিয়ায় সেই প্রথা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে সকলকে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। হুমায়ুন কবির, তৌফিক সোলেমান তুহিন, শাহ আলম, সিদ্দিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, অপু সাজ্জাদ, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, হাবিবুর রহমান ইমরান, রফিকুজ্জামান, শওকত হোসেন আনজিন, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, আলমগীর হোসেন, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম সহ উপস্থিত সকলের বক্তব্যে ফুটে উঠে লিটিল বাংলাদেশের সৌহার্দ-ঐতিহ্য ধরে রেখে কমিউনিটিতে যে কোন অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের আকাঙ্খার দীপ্ত অঙ্গীকার।

এদিকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ, আইনি পদক্ষেপ, নেইবারহুড ওয়াচ, একশন কমিটি প্রভৃতি বিভিন্ন দ্বায়িত্ব দিয়ে কয়েকটি কমিটি করা হয় সভায় উপস্থিত তরুণদের নিয়ে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটির উদ্যোগে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে কমিউনিটি থেকে সন্ত্রাস দমনের সর্বশেষ আপডেট উপস্থাপন ও কমুনিটির সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হবে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটিতে রয়েছেন খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম, শামসুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, অপু সাজ্জাদ, ইলিয়াস টাইগার শিকদার, জহির উদ্দিন পান্না, হাবিবুর রহমান ইমরান, শওকত হোসেন আনজিন, শাহ আলম, রফিকুল ইসলাম, রফিকুজ্জামান, আসিফ, আলমগীর হোসেন, প্রমুখ। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মাসুদ রব চৌধুরী, ডঃ জয়নুল আবেদীন, সোহেল রহমান বাদল, তৌফিক সোলায়মান তুহিন, সিদ্দিকুর রহমান, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম প্রমুখ। আগামী ২৩ শে নভেম্বরের সভায় উপস্থিত উৎসাহী তরুণদের থেকে এই কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একশন কমিটিতে এ পর্যন্ত রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন। ড: জয়নুল আবেদীন বলেন, একশন কমিটি সন্ত্রাস প্রতিরোধের বিবিধ উপায় নিয়ে ভাববেন এবং আমাদের দিক নির্দেশনা দিবেন। সবশেষে সভার সভাপতি বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মাসুদ রব চৌধুরী এই সংক্ষিপ্ত নোটিশের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের মধ্য দিয়েই এই সন্ত্রাস প্রতিরোধের পথ খোঁজার নির্দেশনা দেন।
নতুন কয়েকজন নব্য তথ্য-সন্ত্রাসীর থাবা থেকে কমিউনিটিকে রক্ষাকল্পে সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও সিদ্দ্বান্ত নেওয়া হয়।
রিপোর্টঃঃ