আসছে ১০০ গুণ দ্রুতগতির ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এক ধরনের ফাইবার ক্যাবল তৈরি করেন যার মধ্যে প্যাঁচানো গতিপথে আলো যেতে পারে। তবে সেই আলো থেকে তথ্য বের করার জন্য ব্যবহারযোগ্য ছোট আকৃতির শনাক্তকরণ সেন্সর আবিষ্কার করলেন মিন গু ও তার গবেষণা দল।

আধুনিক যুগ প্রযুক্তির। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছি। এর একটি ইন্টারনেট। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ফাইভজি গতির ইন্টারনেট থাকলেও, বাংলাদেশ আটকে রয়েছে ফোরজিতে।  তবে আটকে নেই বিজ্ঞানীরা। গবেষণার ফলে এমন এক প্রযুক্তি তারা আবিষ্কার করেছেন, যা ইন্টারনেট করে তুলবে ১০০ গুণ দ্রুতগতির।

সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, এই প্রযুক্তি ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উন্নত সংস্করণ। প্যাঁচানো তারের মধ্য দিয়ে ছুড়ে দেওয়া আলো শনাক্তকরণের মাধ্যমেই এই দ্রুতগতি পাওয়া যাবে।

ন্যাশনাল কমিউনিকেশনস নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, নতুন এই প্রযুক্তির ফলে খুব সহজেই বর্তমান নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করা যাবে।  ফাইবার অপটিক ক্যাবলে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য আলোর স্পন্দন (লাইট পালস) ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া আলোর রঙ এবং আলোতরঙ্গ অনুভূমিক না উলম্ব তা দেখে তথ্য গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু প্যাঁচানো তারের মধ্য দিয়ে আলো ছুড়ে দিয়ে বিজ্ঞানীরা তথ্য পরিবহনের জন্য আলোর একটি তৃতীয় মাত্রা তৈরি করতে পারবেন। প্যাঁচানো তারের মধ্যে আলোর একটি কৌণিক ভরবেগ তৈরি হবে। এই ভরবেগ যত ব্যবহার করা যাবে ততো বেশি তথ্য বহন করা যাবে বলে জানান আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিন গু।

তবে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এক ধরনের ফাইবার ক্যাবল তৈরি করেন যার মধ্যে প্যাঁচানো গতিপথে আলো যেতে পারে। তবে সেই আলো থেকে তথ্য বের করার জন্য ব্যবহারযোগ্য ছোট আকৃতির শনাক্তকরণ সেন্সর আবিষ্কার করলেন মিন গু ও তার গবেষণা দল।

মিন গু বলেন, ‘আগের শনাক্তকরণ সেন্সরটি ছিল একটি ডাইনিং টেবিলের আকৃতির। আর আমাদের সেন্সরটি মানুষের চুলের মতো। যা ব্যবহারযোগ্য।’

নতুন এই প্রযুক্তিটি এরই মধ্যে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক। ২০২০ সালের মধ্যে রি প্রযুক্তিতে নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে ধারণা করছেন তারা।