বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম

১০ বছরে রাজস্ব আদায় সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

রমজান আলী : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ১০ বছরে গতিশীল হয়েছে অর্থনীতির চাকা। ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়কালে বাংলাদেশে এনবিআর রাজস্ব আদায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সময়ে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর আদায়ের হারও ছিল বেশি, যা দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে। রাষ্ট্রের মোট কর রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ এবং জাতীয় বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগান দিচ্ছে এ বিভাগ।

২০০৮-২০০৯ সময়ে রাজস্ব ৫২,৫২৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২,০৬,৪০৭.২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১,৭১,৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণ হয় দুই লাখ ছয় হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।

গত দশ বছরের মধ্যে রাজস্ব আদয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৬ বার। এক্ষেত্রে বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের সরকারের সময়কার অর্জিত প্রবৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। বর্তমানে জিডিপির আকার ২৭ হাজার ৪১১ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা।

২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট তা এখন প্রায় চার গুণ বেড়ে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে বাংলাদেশ। ২০০৯ শিক্ষার হার ছিলো ৪৭ শতাংশ আর এখন শিক্ষার হার ৭৭ শতাংশ।

২০০৯ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.০৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও উপর । প্রায় দশ বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে।

প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে। দারিদ্র্যতার হার হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যতার হার ২৪.২৩% থেকে হ্রাস পেয়ে নেমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে। সম্পাদনা: সোহেল রহমান, ইকবাল খান।