এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কাযনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সেই সঙ্গে আগের ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও আছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলা ডটনেটের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এবং দেশ টেলিভিশনের সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক আছেন কাযনির্বাহী কমিটিতে।
সংবাদ প্রকাশনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের মাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতাদের নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।
এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেদিন বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশনা শিল্পে যারা সম্পাদকীয় নেতৃত্ব দেন তাদের সংগঠন এটি। কাজেই এ সংগঠনের মূল কাজ হবে একটা কোড অব এথিকস অর্থাৎ নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা, যেটি এখন একেবারেই অনুপস্থিত।

সেই ‘কোড অব এথিকস’ ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র তৈরি; নতুন সদস্য নেওয়া এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য শুক্রবারের সভায় তিনটি কমিটি করেছে এডিটরস গিল্ড। স্বদেশ রায়ের নেতৃত্বে মেম্বারশিপ কমিটিতে রয়েছেন সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা।

মোজাম্মেল বাবুর নেতত্বে অপারেশন্স কমিটিতে আছেন মঞ্জুরুল ইসলাম, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন এবং দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি।

আর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে এথিকস কমিটিতে রয়েছেন আবেদ খান ও স্বদেশ রায়। এই কমিটি গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া তৈরি করবে।
তিনটি কমিটি করার পাশাপাশি এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের লোগো এই সভায় অনুমোদন করা হয়।

এই লোগোর প্রতীকী উপস্থাপনায় সংবাদের ‘যথার্থতায়’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশক ও পরিবেশক হিসেবে যে তথ্য আমরা পাঠককে দিচ্ছি, তার যথার্থতার ওপরই আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে।’ আর বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট ‘সবসময়ই ছিল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবেদ খান সভায় বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে এথিকসটাকে মূল্য দিতে পারছি না। এখানে সাংবাদিকরা কর্মচারী হয়ে গেছেন, সম্পাদকরা সিইও হয়ে গেছেন। অর্থাৎ এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন বলতে যা বোঝায় সেটা শেষ হয়ে গেছে। এই ইনস্টিটিউশনটা যদি আমরা না বাঁচাতে পারি, তাহলে কিন্তু হবে না। আমরা দেখেছি যে, আস্তে আস্তে এটা করপোরেটদের হাতের মুঠোর মধ্যে চলে যাচ্ছে।’

এই গিল্ড শক্তিশালী হয়ে সম্পাদকদের নৈতিক অবস্থানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ বলছে, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন তারা। প্রতিটি কমিটির সঙ্গে নির্বাহী সচিব হিসেবে কাজ করবেন সাংবাদিক রিয়াজুল বাশার।