আরএমজি খাতে কর্মরত হাজারো শ্রমিকের মধ্যে পরিবর্তনঃ এ্যালায়েন্সের কার্যক্রম বন্ধ

কার্যালয় বন্ধ, কার্যক্রম গুটিয়েছে অ্যালায়েন্স

পোশাক কারখানা মূল্যায়নে উত্তর আমেরিকাভিত্তিক পোশাকপণ্যের ক্রেতা ও শ্রম অধিকার সংস্থার জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি (অ্যালায়েন্স) বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যে জোটটি তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিল।
জোটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বার্তায় জোটের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অ্যালায়েন্স ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। এখন থেকে অ্যালায়েন্সের কাছে পাঠানো কোনো ই-মেইল আর গ্রহণ করা হবে না। পাঁচ বছর ধরে চলমান অ্যালায়েন্সের কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তায় আরো বলা হয়েছে, আমরা আরএমজি খাতে কর্মরত হাজারো শ্রমিকের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পেরেছি। আশা করছি, আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্ট কারখানা, কর্মী ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতার বোধ তৈরি করতে পেরেছি।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে তাদের মূল্যায়ন কার্যক্রমের চূড়ান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার পর অ্যালায়েন্স স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে আওতাভুক্ত কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা মানদণ্ড পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ নির্বাহ ও হেল্পলাইন উন্নয়নের কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ওই বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে অ্যালায়েন্স তাদের পঞ্চম ও চূড়ান্ত বর্ষের কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রসঙ্গে অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টির বরাত দিয়ে অ্যালায়েন্স বলে, গত পাঁচ বছরে অ্যালায়েন্স, সদস্য ব্র্যান্ডগুলো ও অ্যালায়েন্স অধিভুক্ত কারখানার মালিকরা বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নে অভাবিত অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া তারা পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছে। এ অগ্রগতি বজায় রাখতে অবশ্যই একটি চলমান প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আমাদের সদস্য ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অ্যালায়েন্স চলে যাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

নিজেদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে অ্যালায়েন্স জানায়, পর্যবেক্ষণের আওতাধীন কারখানাগুলোর ৯৩ শতাংশ সংস্কারকাজ সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে জীবনের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। অ্যালায়েন্স অধিভুক্ত ৪২৮টি কারখানা তাদের সংশোধনী কর্মপরিকল্পনায় উল্লিখিত সব সংস্কার সম্পন্ন করেছে। প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক অগ্নিকাণ্ডের জরুরি মুহূর্তে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অ্যালায়েন্স অধিভুক্ত কারখানাগুলোর বাইরে অন্যান্য কারখানাতেও এ প্রশিক্ষণের বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্যে অ্যালায়েন্স একটি স্থানীয় অংশীদার গঠন করেছে। ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি ভিত্তিতে ভবন ত্যাগের প্রক্রিয়া বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, ১৫ লাখের বেশি শ্রমিক হেল্পলাইন ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। এ হেল্পলাইন স্থানীয় সংস্থা ফুলকির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিগগিরই এ সেবা দেশজুড়ে সব তৈরি পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া ১৮১টি শ্রমিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে, এর ফলে শ্রমিকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের কারখানায় বিদ্যমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে।