শ্রীলংকায় দুই বাংলাদেশী নাগরিককে আটক

মাদকের চালানসহ শ্রীলংকায় দুই বাংলাদেশী আটক : আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের পুরো তথ্য জানতে চায় ঢাকাঃ

সম্প্রতি মাদকের বড় চালানসহ শ্রীলংকায় দুই বাংলাদেশী নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে জব্দ করা শ্রীলংকায় মাদকের সবচেয়ে বড় চালান। এদিকে আটক দুই বাংলাদেশী কোনো আন্তর্জাতিক চক্র কিংবা মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত কিনা তার পুরো তথ্য উদ্ঘাটন করতে চায় ঢাকা। এ উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দলসহ শিগগিরই কলম্বো যাবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শ্রীলংকায় মাদকসহ আটক বাংলাদেশীদের নিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহিদুল হক। সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠ মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন। জব্দ করা মাদকের দাম প্রায় ১৫২ কোটি টাকা। বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে শ্রীলংকা পুলিশের মাদক বিভাগ ও স্পেশাল টাস্কফোর্স ওই বিশেষ অভিযান চালায়। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর কলম্বোর উপকণ্ঠের একই এলাকা থেকে ৩২ কেজি হেরোইনসহ আটক করা হয় বাংলাদেশী এক নারীকে। তিনি গত অক্টোবরের শুরুতে মালয়েশিয়া থেকে কলম্বো যান বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ কারণে শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল শ্রীলংকায় যাবে। প্রতিনিধি দলটিতে গোয়েন্দা বাহিনীতে মাদক দমনে যারা কাজ করেন, যারা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রকে মনিটরিং করেন এমন সদস্যদের রাখতে বলা হয়েছে। দ্রুত যাতে প্রতিনিধি দলটি শ্রীলংকা গিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে তার নির্দেশনা বৈঠকে দেয়া হয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র এক মাসের মধ্যে ৩০৪ কেজি হেরোইন, ৫ কেজি কোকেনসহ তিন বাংলাদেশিকে আটকের ঘটনা দেশের জন্য উদ্বেগের। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদক চোরাচালানের বিষয়ে বিশেষায়িত তথ্য বিনিময় ও তদন্তে সহযোগিতার জন্য শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর, দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক ও পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের প্রধান কলম্বোয় বাংলাদেশের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে শ্রীলংকা পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারার বরাত দিয়ে সম্প্রতি দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাউন্ট লাভিয়ানার টেম্পলার্স রোডের একটি আবাসিক এলাকা থেকে প্রথমে ৯ কেজি হেরোইনসহ দুই বাংলাদেশী জামাল ও রফিউলকে আটক করা হয়। কেকের বাক্সে বিশেষ কায়দায় রাখা ওই হেরোইন জব্দের সময় দুই বাংলাদেশির একজনের কাছে ফ্ল্যাটের স্বয়ংক্রিয় চাবি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুজনকে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় একটি দোতলা বাড়িতে যান। বাড়িতে ঢুকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ আটকে যায়। তারা দেখতে পান, ঘরজুড়ে রয়েছে হেরোইন ভর্তি প্যাকেট। পরে সেখান থেকে ২৬৩ কেজি হেরোইন, ৫ কেজি কোকেনসহ সব মিলিয়ে ২৬৮ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। শ্রীলংকার মুদ্রায় উদ্ধারকৃত মাদকের দাম ৩৩৩ কোটি রুপি। শ্রীলংকার পুলিশ ও বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যদের ধারণা, মাদক হাতবদলের জন্য ওই বাড়িকে নিরাপদে ব্যবহার করে আসছিল পাচারকারীরা। কলম্বোর ওই বাড়িটি থেকে সারা দেশে মাদকের চালান পৌঁছে দেয়া হতো।