শক্তিশালী হচ্ছে না আবাসন খাত

জনবান্ধব নীতির অভাব

শক্তিশালী হচ্ছে না আবাসন খাত

মতিন আব্দুল্লাহ


২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাসযোগ্য আবাসনের অঙ্গীকার রয়েছে মহাজোট সরকারের। বিগত ১০ বছরে এই লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সামান্যই। তবে বিদ্যমান নিয়ম-কানুন বহাল রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

এজন্য আবাসন খাতে জনবান্ধব নীতি-সহায়তা প্রণয়ন এবং থোক বরাদ্দ দেয়াসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা। এ খাতের দুর্বলতা দূর করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ৫ দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

নিু ও নিুমধ্যবিত্তদের আয় দিয়ে এখনও আবাসন ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ভূমিহীন ও দিনমজুরসহ অসহায় মানুষের আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে আবাসনে ঋণে উচ্চসুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকারি ব্যাংক থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ ভাগ সুদে ঋণ দিলেও সাধারণ জনগণ এ সুবিধার বাইরে।

আবাসন খাতে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও তাও নামকাওয়াস্তে। সব ব্যাংকের সুদের হার ৯ ভাগের বেশি। সার্ভিস চার্জসহ অন্য চার্জ যোগ করলেও সব ক্ষেত্রেই ডাবল ডিজিট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন ফির কারণেও ফ্ল্যাট ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) গত কয়েক বছর ধরে আবাসন খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।

একইসঙ্গে ব্যাংক সুদ ৫ ভাগের নিচে নিয়ে আসা, রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন ফি’ কমানো এবং জনবান্ধব নীতিসহায়তা প্রণয়নের দাবি জানালেও কোনো দাবিই আমলে নেয়নি সরকার।

সংস্থার পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে, ২০ হাজার কোটি টাকা না হলেও অন্ততপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড দেয়া দরকার। আর বিদ্যমান আইন-কানুনগুলো পরিবর্তন করে জনবান্ধব না করলে সরকার টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হবে।

এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা ব্যাংক এবং হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে আবাসন খাতে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এটা বেসরকারি ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করলে এটি আরও কার্যকর হবে। আর এ সুবিধা সাধারণ জনগণের জন্য চালু করলে আবাসন সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে রিহ্যাব ফেয়ার : পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার শুরু হচ্ছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাব ফেয়ার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দীর্ঘ দিন ধরে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে এ মেলা করলেও এ বছর পিছিয়ে ফেব্রুয়ারিতে করা হচ্ছে। মূলত ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ বছর মেলা পিছিয়ে ফেব্রুয়ারিতে করা হচ্ছে।

রিহ্যাব ফেয়ারে এক ছাদের নিচে ফ্ল্যাট, প্লট নির্মাণ সামগ্রী এবং হোম লোনের সমাহার থাকছে এ মেলায়। ক্রেতাদের চাহিদামতো হাউজিং লোন দিতে আগের মতো অংশগ্রহণ করছে বিভিন্ন ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। মেলার জন্য স্টল বুকিং চলছে। রিহ্যাব তাদের সদস্যদের মোবাইল মেসেজ দিয়ে স্টল বুকিংয়ের আহ্বান জানাচ্ছে। এবারের মেলায় রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেশ কিছু বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।

এবারের মেলায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ২ হাজারের বেশি রেডি ফ্ল্যাট থাকছে বলে রিহ্যাব সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবেশ টিকিটের র‌্যাফল ড্র’তে আকর্ষণীয় পুরস্কার থাকছে।

গত বছর এন্ট্রি টিকিটের র‌্যাফল ড্র’তে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ৪০ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ১২ সেফটি ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ডিপ ফ্রিজ, মোবাইল, মাইক্রো ওভেন, এয়ার কুলারসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করে। ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব ফেয়ার করছে রিহ্যাব। চট্টগ্রামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাউজিং ফেয়ার করছে রিহ্যাব।