রিজার্ভের অর্থ চুরি : মায়া দেগুইতোর জেল, ১১ কোটি ডলার জরিমানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংকার মায়া সান্তোস দেগুইতোর কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন সে দেশের স্থানীয় এক আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

রাজধানী ম্যানিলার একটি আদালতে গতকাল এ রায় ঘোষণা করা হয়। মায়া দেগুইতো এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও ইনকোয়্যারার।

২০১৬ সালে নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি যায়। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) একটি শাখায় খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ওই অর্থ তুলে নেয়া হয়।

ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে পাচারকৃত অর্থ ও ‘ডার্টি মানির’ গন্তব্য হিসেবে ফিলিপাইনের নাম উঠে আসে। একই সঙ্গে ব্যাংকিংয়ে কঠোর গোপনীয়তা আইনের আড়ালে মুদ্রা পাচারে জড়িতদের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

ওই সময়ে মুদ্রা পাচারে ব্যবহূত আরসিবিসির ওই শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মায়া দেগুইতো। এ ঘটনায় মুদ্রা পাচারের আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ম্যানিলার ওই আদালত গতকাল তার কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। আটটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য তাকে কমপক্ষে চার বছর করে কয়েদ থাকতে হবে বলে রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে বিচার চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জামিনে মুক্ত থাকার পাশাপাশি আপিলের সুযোগ রয়েছে মায়া দেগুইতোর। এ সুযোগ তিনি নেবেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

মায়া দেগুইতোর বিরুদ্ধে আনা প্রধানতম অভিযোগ হলো, চুরি যাওয়া অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি সমন্বয়ের কাজে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় একমাত্র তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা গেছে। তার আইনজীবী দিমিত্রিও কাস্তোদিওর ভাষ্য হলো, মায়া দেগুইতোকে এ ঘটনায় স্রেফ বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

দিমিত্রিও কাস্তোদিও বলেন, ‘এ ঘটনা তার (মায়া দেগুইতোর) পক্ষে একা ঘটানো সম্ভব ছিল না। তার মতো নিম্নপদস্থ এক কর্মকর্তা একা এ ধরনের ঘটনার পরিকল্পনা করবেন, আরসিবিসির মতো বড় একটি ব্যাংকে এটি সম্ভব নয়। সুতরাং এ ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ না কেউ জড়িত।’

ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ বিচারের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তবে এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিক বিস্তারিত কোনো তথ্যও জানায়নি বিভাগটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উত্তর কোরীয় এক হ্যাকারকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। মার্কিনিদের অভিযোগ, ওই হ্যাকার ও পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট কয়েকজন সহযোগী এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে।

চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনে প্রবেশের অব্যবহিত পরই এটি তুলে নেয়া হয়। এখন পর্যন্ত এ অর্থের মধ্যে মাত্র দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধার করা গেছে।

উত্তোলনের পরপরই চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলোয় স্থানান্তর করে দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনার সময় দেশটির ক্যাসিনোগুলো মুদ্রা পাচার প্রতিরোধী আইনের আওতার বাইরে থাকায় এর সুযোগ নিয়েছিল তারা। ঘটনা প্রকাশের পর আরসিবিসিকে রেকর্ড ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।