অর্থবছর ২০১৮-১৯ : ৯ মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি ১২.৫৭ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ সময় দেশের শীর্ষ রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি বেড়েছে, কিন্তু কমেছে চামড়া ও পাটের রফতানি। সব মিলিয়ে এ নয় মাসে মোট রফতানিতে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

ইপিবির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য। ২০১৮ সালের মার্চে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

রফতানি পণ্যকে প্রাইমারি ও ম্যানুফ্যাকচার্ড—এ দুই ভাগে ভাগ করে রফতানির মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ম্যানুফ্যাকচার্ড বা উৎপাদিত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাইমারি বা প্রাথমিক পণ্যের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

রফতানি হওয়া প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও তাজা মাছ এবং কৃষিজ পণ্য। অর্থবছরের নয় মাসে হিমায়িত ও তাজা
মাছ রফতানি হয়েছে ৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। এ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এদিকে গত নয় মাসে কৃষিজ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

রফতানিমুখী উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের উৎস হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমলেও বেড়েছে পোশাকের।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থবছরের নয় মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের নয় মাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কম।

আলোচ্য সময়ে তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পণ্যের রফতানি কমেছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

জুলাই-মার্চ সময়ে প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বেড়েছে দশমিক ৪৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানির ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিক রফতানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।