ভুয়া ক্রেডিট রেটিংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে

ভুয়া ক্রেডিট রেটিংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে
ব্যাংকের কাছে সব তথ্য থাকলেও ঋণগ্রহীতা কোম্পানিকে রেটিং সনদ নিতে হয় * বাড়ছে ঋণের খরচ * ঘুষ নিয়ে দুর্বল কোম্পানিকে উচ্চ রেটিং দেয় এজেন্সি * দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ অর্থনীতিবিদদের:

ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং (সক্ষমতা যাচাই) সনদ বাধ্যতামূলক। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে দেশের ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিগুলো। সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে উচ্চমানের রেটিং।

ফলে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান। এভাবেই ভুয়া ক্রেডিট রেটিংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। কিন্তু ভুয়া রেটিংয়ের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করছে না রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা। এ ছাড়া এ ধরনের রেটিংয়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় উদ্যোক্তাদেরও ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণগ্রহীতাদের যাবতীয় তথ্য ব্যাংকগুলোর কাছে রয়েছে। এরপরও তাদের কাঁধে ক্রেডিট রেটিংয়ের সনদ নেয়ার খড়্গ চাপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে প্রতিটি কোম্পানিকে অহেতুক বছরে সনদ গ্রহণ ফি বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাদের মতে, দেশে এতগুলো রেটিং কোম্পানির দরকার নেই।

কোম্পানির মৌলভিত্তি না দেখে অর্থের বিনিময়ে চাহিদা অনুযায়ী রেটিং দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এবং ক্রিসেন্টসহ ব্যাংকের হাজার হাজার ঋণখেলাপি কোম্পানি কোনো-না-কোনো এজেন্সির মাধ্যমে রেটিংয় করিয়ে ঋণ পেয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব কোম্পানি যে সম্পদ দেখিয়েছে, তা একেবারে ভুয়া। কিছু কিছু কোম্পানি শতকোটি টাকার ওপরে সম্পদ দেখালেও বাস্তবে তার দাম ১ কোটিও নেই। ঋণ আদায়ের জন্য ওইসব কোম্পানির সম্পদ নিলামে ডাকা হলেও কেউ সাড়া দিচ্ছে না। প্রশ্ন হল- এর দায় কে নেবে? যৌক্তিকভাবে এর দায় সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এড়াতে পারে না।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রেটিং কোম্পানিগুলো টাকা-পয়সার বিনিময়ে সনদ দিয়ে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ কারণে অবশ্যই তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। না হলে রেটিংয়ের কোনো মূল্য থাকে না। তার মতে, ব্যাংক এবং শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই রেটিংয়ের ওপরে নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি ভুয়া রেটিং দেয়, অবশ্যই তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রেটিং কোম্পানির রিপোর্ট এবং অডিট রিপোর্টের মধ্যে অমিল পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মির্জ্জা আজিজ বলেন, দেশে এতগুলো রেটিং কোম্পানির দরকার নেই।

মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, আমি যখন বিএসইসির চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন একটি কোম্পানি ছিল। চিন্তা করে দেখলাম এখানে মনোপলি হতে পারে।

তাই মনোপলি বন্ধ করতে আরেকটির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ৮টি কোম্পানি। এরা মূলত টাকা-পয়সার বিনিময়ে রেটিং দিয়ে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জানতে চাইলে আলফা ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি খাতের কোম্পানির রেটিংয়ের জন্য আলাদা আলাদা মেথডোলজি (পদ্ধতি) রয়েছে। কোম্পানিগুলো সেই অনুসারে রেটিং করে।

দেশে কোনো কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ অথবা শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে, ওই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে কি না, সে ব্যাপারে নির্ধারিত ৮টি কোম্পানির কোনো একটির মাধ্যমে সনদ নিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে ঋণের অঙ্ক অনুসারে রেটিং ফি কোম্পানিকে ১৭ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া শুধু একটি গ্রুপের জন্য একটি মাত্র রেটিং সনদ নিলে চলবে না।

গ্রুপের যতটি কোম্পানি আছে প্রতিটির জন্য পৃথকভাবে রেটিং সনদ নিতে হবে। আর এভাবেই ক্রেডিট রেটিংয়ের নামে মহলবিশেষের স্বার্থে এ ধরনের একটি অপ্রয়োজনীয় ‘দোকান’ খোলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, অবিলম্বে ক্রেডিট রেটিং সনদ গ্রহণ বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

তারা বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। কিন্তু বাস্তবতা হল- খেলাপি অস্বাভাবিকভবে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, জাল-জালিয়াতি করে নেয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এখন ব্যাংকগুলোর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া রেটিংয়ের মধ্যেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। অভিযোগ আছে, কোম্পানির মৌলভিত্তি না দেখে অর্থের বিনিময়ে চাহিদা অনুযায়ী রেটিং দিচ্ছে।

তাদের দেয়া মিথ্যা রিপোর্টে অনেক ভুয়া কোম্পানি বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু যেসব কোম্পানি রেটিং করে, তাদের জবাবদিহি করছে না কোনো সংস্থা। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে দুর্বল কোম্পানিগুলোকে ভালো রেটিং দিচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব কোম্পানি ঋণখেলাপি হয়ে শেয়ারবাজারে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ কারণে তাদের রেটিংয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ভালো কোম্পানিগুলো বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা থাকায় অতিরিক্ত ফি নিয়ে এরা ঋণের খরচ বাড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব থাকলেও তাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিএসইসি এসব কোম্পানির কার্যক্রম নজরদারি করে। তবে এসব রেটিং এজেন্সির পারফরম্যান্স নিয়ে কমবেশি কথাবার্তা আছে। তাদের রেটিংয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমরাও অভিযোগ পাচ্ছি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জনবল কম। তারপরও আমরা সাধ্যানুসারে চেষ্টা করছি। আশা করি, সামনে পরিস্থিতি উন্নতি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে এই ঋণ ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। গত বছর সংসদে ২ হাজার ঋণখেলাপির তালিকা দিয়েছিল সরকার।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো-না-কোনো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির কাছ থেকেই রেটিং সনদ নিয়েছে। অর্থাৎ রেটিং কোম্পানির সনদের মূল মেসেজ হল ওই প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা রয়েছে। এরপরও হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলেও এর দায় নিচ্ছে না কেউ। একই অবস্থা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রেও। এ কারণে রেটিং কোম্পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির রেটিং করার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করছে।

বাস্তবে আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকা সত্ত্বেও কোম্পানির চাহিদামতো এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রেটিং করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কোম্পানির ঋণমান সনদ দেয়া প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমে অনৈতিকতার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনের তুলনায় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে কাজের মান ঠিক রাখতে বেশিরভাগ এজেন্সি ব্যর্থ হতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে না। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায়ও নয়। ফলে তারা অসত্য রিপোর্ট দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু করার থাকে না।

তবে তিনি বলেন, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব মূল্যায়ন রয়েছে। যেমন : একটি কোম্পানিকে ঋণ দেয়া হবে, সেখানে ক্রেডিট রেটিংয়ে যাই থাকুক, ব্যাংকগুলো আলাদা করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সক্ষমতা যাচাই করে।

তিনি বলেন, কোনো ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির ভুল রিপোর্ট ধরা পড়লে, বাংলাদেশ ব্যাংক ওই এজেন্সিকে পরবর্তী কার্যক্রমে বাদ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্দেশ দেয়। এ ছাড়াও ব্যাংকের যে ডিপার্টমেন্ট ঋণের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

অন্যদিকে রেটিং ফি ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের আকার অনুসারে রেটিংয়ের জন্য কোম্পানিগুলোকে ১৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি আরগাসের ওয়েসসাইট থেকে জানা গেছে, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ১৭ হাজার ২৫০ টাকা ফি নেয় এ প্রতিষ্ঠান।

তাতে প্রতি ১০০ টাকায় আরও ৫৭ পয়সা যোগ হচ্ছে। অর্থাৎ খরচ দশমিক ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ফি ২৩ হাজার টাকা। ১ কোটি টাকা ঋণের ক্ষেত্রে ২৮ হাজার টাকা। এভাবে ২শ’ কোটি টাকার ওপরে ঋণের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেয়া হচ্ছে। এর ফলে ঋণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বাকী খলীলী যুগান্তরকে বলেন, কীভাবে কোম্পানিগুলো রেটিং করে, তা জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। এ ছাড়াও সিআইবি রিপোর্ট কেন কাজ করছে না, তা-ও বিবেচনায় নেয়া উচিত।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৮টি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি রয়েছে। এগুলো হল : ক্রেডিট রেটিং ইনফর্মেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস (সিআরআইএসএল), ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (ক্রাব), ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং, অ্যারগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস, ওয়াসো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি (বিডি), আলফা ক্রেডিট রেটিং এবং দ্য বাংলাদেশ রেটিং এজেন্সি। মূলত কোম্পানিগুলোর ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ক্রেডিট রেটিং করা হয়।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা ব্যাংক ঋণের শর্তের কারণে কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং করতে হয়। শক্তিশালী মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানিও তাদের অভ্যন্তরীণ ঋণমান ও কোম্পানির অবস্থান বুঝতে ক্রেডিট রেটিং করে থাকে।

এ কারণে প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক ভিত কতটুকু মজবুত কিংবা দুর্বল, এগুলোর ওপর ভিত্তি করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে গ্রেড দেয়া হয়। কিন্তু ভুয়া রিপোর্ট দিলেও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

এদিকে ২০১৩ সালে এক্সটার্নাল ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির জন্য প্রযোজ্য বিধিবিধানের অধিকতর প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তদারকি জোরদার ও তার পরিপালন নিশ্চিতকরণে ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিগুলোর পরিদর্শন ম্যানুয়াল প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। এ জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। কিন্তু পরিদর্শন ম্যানুয়াল এখনও অনুমোদন হয়নি। বর্তমানে যতটুকু জবাবদিহিতা প্রয়োজন তার থেকে অনেক দূরে আছে ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিগুলো।

উল্লেখ্য, প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক ভিত কতটুকু মজবুত কিংবা দুর্বল এগুলোর ওপর ভিত্তি করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে রেটিং করা হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে রেটিংগুলোর নাম হল : ট্রিপল এ, ডাবল এ, সিঙ্গেল এ, ট্রিপল বি, ডাবল বি, সিঙ্গেল বি, ট্রিপল সি, ডাবল সি, সিঙ্গেল সি এবং ডি। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে যেসব রেটিং রয়েছে সেগুলোর নাম হল : এসটি-১ থেকে এসটি-৬ পর্যন্ত।

কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ রেটিং পাওয়ার মানে হল সক্ষতার দিক থেকে এটি অত্যন্ত মজবুত। এই কোম্পানিতে ঝুঁকি খুবই কম। ‘ডাবল এ’ দিয়ে খুবই মজবুত ক্যাপাসিটি এবং স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ এবং ‘সিঙ্গেল এ’ দিয়ে মজবুত ক্যাপাসিটি এবং স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বোঝায়। ‘ট্রিপল বি’ দিয়ে সন্তোষজনক ক্যাপাসিটি ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ বোঝায়। ‘ডাবল বি’ দিয়ে অপর্যাপ্ত সক্ষমতা ও অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বোঝায়।

‘সিঙ্গেল বি’ দিয়ে দুর্বল ক্যাপাসিটি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বোজায়। ‘ট্রিপল সি’ দিয়ে খুবই দুর্বল ক্যাপাসিটি ও খুবই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বোঝায়। ‘ডাবল সি’ দিয়ে অত্যন্ত দুর্বল ক্যাপাসিটি ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বোঝায়। ‘সিঙ্গেল সি’ দিয়ে ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হওয়াকে বোঝায়। আর সর্বশেষ ‘ডি’ রেটিং দিয়ে ব্যর্থ কিংবা অস্তিত্বহীন অথবা দেউলিয়া কোম্পানিকে বোঝায়।

অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদের জন্য ‘এসটি-১’ রেটিং দিয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড ‘এসটি-২’ দিয়ে হাই গ্রেড, ‘এসটি-৩’ দিয়ে মাঝারি গ্রেড ‘এসটি-৪’ দিয়ে, ‘এসটি-৫’ দিয়ে অপর্যাপ্ত গ্রেড এবং ‘এসটি-৬’ রেটিং দিয়ে সর্বনিু গ্রেড বোঝানো হয়।