প্রশ্নবাণে জর্জরিত ভিকটিম: ধর্ষক গ্রেফতার

প্রাইভেসির বালাই নেই ওসিসিতে, প্রশ্নবাণে জর্জরিত ভিকটিম

 জানুয়ারি ৮, ২০২০ | জান্নাতুল ফেরদৌসী

ঢাকা: রাত তখন ১১টা বেজে ৫০ মিনিট। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ভাড়ায় আসা একটি প্রাইভেট কার থেকে হুইল চেয়ারে করে নামানো হলো মেয়েটিকে। তার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী উদ্ভ্রান্ত। কিন্তু স্থির ছিল মেয়েটি। তার গালে-ঘাড়ে ক্ষত আর কালশিটে দাগ। ধর্ষকের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে আসা ২২ বছরের তরুণীটির চেহারায় ছিল দৃঢ়তা। তিনি টলেননি। সাহসের সঙ্গেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও নিজের চেষ্টাতেই পালিয়ে এসেছেন ঘটনাস্থল থেকে।

ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা এক শুভাকাঙ্ক্ষী পরে সারাবাংলাকে এভাবেই বর্ণনা করছিলেন। মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় যেসব প্রক্রিয়া ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে, তাও জানালেন তিনি। সে রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) পর্যন্ত যেতে কত ধরনের প্রশ্ন, ভোগান্তি আর অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মখোমুখি হতে হয় তাদের, দফায় দফায় পূরণ করতে হয় ফরম— এসব তথ্য উঠে এলো তার সঙ্গে আলাপে।

তিনি জানালেন, নিচ তলার ডানদিকের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের রুমের সামনে সেই মধ্যরাতেও ছিল অনেক রোগী আর তাদের স্বজনদের ভিড়। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলে প্রথমেই ভিকটিমের কাছে নাম-পরিচয় জানতে চেয়ে একটি ভর্তি ফরম ধরিয়ে দেওয়া হয়। সে ফরম পূরণ করে দেওয়া হলে এরপর যেতে বলা হল দেতলায় ২১২ নাম্বার কক্ষে। মেয়েটির শরীরের জখমগুলো তখন ব্যথার জানান দিতে শুরু করেছে।

ওই শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, ২১২ নাম্বার কক্ষে গিয়ে তাদের পড়তে হয় অন্য পরিস্থিতিতে। সেখানে গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের ভিড়। ডাক্তারের টেবিলে ৫/৬ জন চিকিৎসক। সেখানেও ভিকটিমকে সেই একই প্রশ্ন— নাম কী, বাবার নাম কী, কখন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, কিভাবে ঘটেছে, ধর্ষক কয় জন ছিল? একই তথ্য দ্বিতীয় দফায় বর্ণনা করার পর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। সঙ্গে হেনস্থারও।
ভিকটিমের সঙ্গে থাকা একজনকে পাঠানো হলো নিচতলার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। সেখান থেকে একটা টিউব/স্টিক আনতে বলা হলো। এসময় তার সঙ্গে একজন পুলিশ থাকতে হবে বলেও শর্ত দেওয়া হলো।

দেখতে দেখতে কেটে গেলে ১০ মিনিট, ২০ মিনিট , আধাঘণ্টা। টিউব/স্টিক এলো পৌনে একঘণ্টা পর। এবার আঁতকে ওঠার পালা । মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লেবার রুমে। সেখানে তিন-চার জন নারীর প্রসব প্রক্রিয়া চলছিল। পুরো রুমটিতে হুল্লোড়–চেঁচামেচি, বিকট কান্নার শব্দ। তেমনই এক পরিস্থিতিতে পড়ে রীতিমতো ভড়কে যান মেয়েটি।

শুভাকাঙ্ক্ষীটি বলেন, সেখানে একটা ভাঙা বেঞ্চে ওকে বসতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পরে সেখানে অন্যদের সামনেই নগ্ন হতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। চিকিৎসক বলেন, এটাই নিয়ম, পর্দাটা দিয়ে আড়াল করে নেন। চিকিৎসকের কথা মেনে সহযোগিতা করেন মেয়েটি। সেভাবেই ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়।

তখনই দেখা যায় মেয়েটির গায়ের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন। সঙ্গের ওই শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, আমরা তখন বারবার আঘাতের চিহ্নগুলোর কথা বলতে চাচ্ছিলাম । কিন্তু এ নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখালেন না চিকিৎসকরা।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে আলামত নেওয়া শেষ হলে তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার জন্য বলা হয়। সেখানে যখন মেয়েটি পৌঁছায়, তখন রাত ২টা। ভাবলাম এবার অন্তত রেহাই পাওয়া গেল। মেয়েটার চিকিৎসা শুরু হবে। একটু ঘুমাতে পারবে। কিন্তু না, সেখানেও সেই একই প্রশ্নবাণ– নাম কী, বাবার নাম কী, কখন হলো ধর্ষণ, কিভাবে হলো, কে করলো, কয়জন ছিল?

ওই শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। জানতে চাইলাম এত ফরম কেন? একই সব প্রশ্নের জবাব কয় জনকে দিতে হবে, কতবার দেবে? কতবার লিখতে হবে? এমন প্রশ্নে সেখানকার দায়িত্বে থাকা একজন  পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটাই এখানকার নিয়ম। বরং আপনাদের পরিচয়ের কারণেই আপনাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছু শিথিল করা হচ্ছে। অন্যদের আরও দৌড়াতে হয়।

ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে আসা একটি মেয়ে নিঃসন্দেহে ট্রমাটাইজড থাকে। সে অবস্থায় দফায় দফা যখন ঘটনার বর্ণনা দিতে হয়, তখন মানসিক শক্তি এমনিতেও শেষ হয়ে যায়। নিয়ম থাকলেও আমি মনে করি এই নিয়ম পাল্টানো উচিত, বলেন তিনি।

সেই নিয়মের খেসারত দিতে হলো মেয়েটিকেই। রাতটাই তার র্নিঘুম কাটলো। নিয়ম-কানুন শেষ করে যখন তিনি হাসপাতালের বিছানায়, তখন শুরু হলো মানুষের আনাগোনা। রাতভর কত মানুষ যে এলেন, তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি, থানা পুলিশসহ— মানুষের যেন অভাব নেই। তাদের সবার মুখেও সেই একই প্রশ্ন!

এক পর্যায়ে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক আর সাইকিয়াট্রিস্ট ভিজিটরদের অনুরোধ করলেন ভিড় কমাতে। কারণ ওই রুমেই আরও ছয় জন ভিকটিম (নারী-শিশু) রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি নিয়ে সেই রাতেই কমপক্ষে ১৩ জন গিয়েছিলেন মেয়েটির রুমে, তাকে দেখতে, সান্ত্বনা-সমবেদনা জানাতে! সেভাবেই রাত পার হয়ে গেল। ঘুম আর হলো না মেয়েটির।

পরদিন এই ভিজিটরের সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হলো। ওসিসির চিকিৎসক, পুলিশ , মেয়েটির মা ,বন্ধু কারও  অনুরোধেই কিছু হলো না । সকাল গড়িয়ে যখন দুপুর, তখনো নির্ঘুম মেয়েটি। তখনও চলছিল একই প্রশ্নোত্তর। নাম কী, বাবার নাম কী, কখন ঘটল, কে ঘটালো, কেমন করে হলো, কয়জন ছিল?

দুপুরের খাবার বা ওষুধ খাওনোর সুযোগও পাওয়া গেল না বলেই অভিযোগ করলেন তার সঙ্গে থাকা স্বজনরা। একে একে সবার আনাগোনা শেষে সন্ধ্যা গড়িয়ে যখন রাত নেমেছে, বলা যায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মেয়েটি প্রথমবারের মতো একটু চোখ বোঁজার সুযোগ পেলেন। তাতেও কী শেষ রক্ষা হলো?

না। এবার রাত ৮ টার দিকে এলেন উচ্চ পদস্থ একজন গোয়েন্দা। তাকে জানানো হলো— ঘুমাচ্ছেন মেয়েটি। বললেন, ডেকে তুলুন। তদন্তের জন্য লাগবে। এবার রেগে গেলেন মেয়েটির মা। কিন্তু সে রাগ ধোপে টিকলো না। গোয়েন্দা কর্মকর্তা উল্টো রেগে গেলেন। বললেন, ‘ঠিক আছে এতে তদন্তও দেরিতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত  বাধ্য হয়ে মেয়েটির পক্ষ থেকে একটি আবেদন জানানো হয় হাসপাতাল পরিচালক বরাবর। তাতে লেখা, মেয়েটি আর কথা বলতে চাইছে না কারো সঙ্গে।

কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি বলে সারাবাংলাকে জানান মেয়েটির ওই শুভাকাঙ্ক্ষীসহ স্বজনরা। একদিন পরও অনেকেই গেছেন ওসিসিতে । বারবার, দীর্ঘ সময় নিয়ে মেয়েটিকে সেই  একই প্রশ্ন করে গেছেন তারা। রেহাই মেলেনি এর পরদিনও।

এত দেখতে যাওয়া কেন? একই প্রশ্ন বারবার কেন করা হচ্ছে— সে প্রশ্ন সারাবাংলার তরফ থেকে ছিল ওসিসিতে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) নাসরিন সুলতানার কাছে। তিনি বলেন, মেয়েটিকে তিন দিন ধরে অনেকেই দেখতে এসেছেন। এ ধরণের কোনো পরিচয়ের  ভিকটিম এলে এমন অনেকেই আসেন। এমন এমন মানুষ আসেন যে সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি। অনেকেই আবার হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

এসআই নাসরিন বলেন, তবে ভিজিটর আরও ছিল। ভেতরে ঢোকার পর আমরা অনেককেই অনুরোধ করে ভিকটিমের রুম পর্যন্ত যেতে দেইনি। মনোচিকিৎসকও বারবার নিষেধ করেছেন, ভিকটিমকে বেশি প্রশ্ন যেন না করা হয়। তিনিও তাকে বিশ্রামে রাখতে পরামর্শ দিচ্ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, আমার কাছে অনেকেই এসেছেন মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে চান বলে।  আমি সবাইকেই বুঝানোর চেষ্টা করেছি। মেয়েটির সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছি। অনেকে বুঝেছেন, চলে গেছেন। কিন্তু অনেকেই আবার বুঝতে চাননি, বুঝতে চান না।

ভিড় কমাতে নিরাপত্তাকর্মী বাড়িয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত বা মামলার স্বার্থে কেউ দেখা করতে চাইলে কিংবা তার শিক্ষকরা এলে তো নিষেধ করা যাবে না।

‘তবে  সাইকিয়াট্রিস্ট তাকে নিরিবিলি পরিবেশে রাখতে বলেছেন। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলে আর ভিকটিম চাইলে আমরা তাকে ছেড়ে দেবো। তার এখন মা-বাবার সঙ্গে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকা দরকার,’— বলেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক।

ওসিসির প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন মনে করছেন, এসব ভিকটিমদের জন্য আলাদা করে কোনো প্রাইভেসির দরকার নেই। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ওসিসিতে যে ব্যবস্থাপনায় ভিকটিমদের সেবা দেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট ভালো।

কুর্মিটোলায় ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছে মেনে নিয়েই ওসিসির পরিচালক বলেন, সব ভিকটিমের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। সারাবছর এত বেশি পরিমাণ ভিকটিমও থাকে না যে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা যায়।

এই প্রকল্প পরিচালক জানান,  নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১ টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চলে ওসিসি।  আগামী বছর শেষ হচ্ছে ৫ বছর মেয়াদি  এই প্রকল্প। এরপর হয়তো নতুন করে প্রকল্প ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের একটি প্রধান কর্মসূচি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য এসব সেন্টার থেকে স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশি সহায়তা, ডিএনএ পরীক্ষা, সামাজিক সেবা, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও আশ্রয় দেওয়া হয়।

ধর্ষণের পর ঢাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল মজনুর: র‌্যাব

 জানুয়ারি ৮, ২০২০ | উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ধর্ষণের পর ঢাবি শিক্ষার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল মজনুর। শ্বাসরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি বারবার গলা টিপে ধরেছেন। মেয়েটি ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে আসতে না পারলে ভিন্ন কিছু ঘটতে পারতো— বলছে র‌্যাব।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মজনুর বরাত দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসা নিতে মজনু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বের হয়ে হাসপাতালের গেটের পাশে তিনি ঢাবি শিক্ষার্থীকে দেখতে পান। এরপর একটু সামনে এগিয়ে ঝোঁপের পাশে ওৎ পাতেন মজনু এবং চারদিকে নজর রাখেন কেউ আসছে কি না। পথে মেয়েটি একাই ছিলেন। তিনি ফুটপাত ধরে হেঁটে শেওড়া এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, নির্যাতনের শিকার মেয়েটির শ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে। যে কারণে মজনু যখন মেয়েটির মুখ এবং গলা চেপে ধরে, তখন সে নিস্তেজ হয়ে যায়। অচেতন হয়ে পড়ে। তার শরীরে কোনো ধরনের চেতনানাশক ওষুধ বা মাদক প্রয়োগ করা হয়নি।

আমরা জানতে পেরেছি, রাত ১০টার দিকে মেয়েটি সম্বিত ফিরে পান। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি মজনুকে ফেলে দৌড়ে পালান। রাস্তা পার হয়ে শেওড়া রেলক্রসিং থেকে রিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার পরে মজনুও খালি হাতে চলে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন মজনু। যে কারণে আলামতগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে— বলেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষক একজনই ছিল। মজনু এবং ঢাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। মজনুকে আটক করার পরে তার ছবি মেয়েটিকে দেখানো হয়েছিল। তিনি শনাক্ত করার পরেই আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, মজনুর বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায়। ১০ বছর আগে তিনি ঢাকায় আসেন। কয়েক বছর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন, স্ত্রী মারা গেছেন। ঢাকার কমলাপুর, তেজগাঁও, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় থাকতেন তিনি। মজনু মাদকাসক্ত। ছিনতাই তার মূল পেশা। এর আগেও তিনি ভাসমান নারী ভিখারীকে একই জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছেন।

সারাবাংলা