ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলবে বিচারকাজ

ভার্চুয়াল কোর্ট স্থাপনে হাইকোর্টে রুলস সংশোধন কমিটি গঠন

ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি হাইকোর্ট রুলসে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে হাইকোর্ট রুলস সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জে বি এম হাসান, বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান।
শনিবার (৯ মে) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট রুলস সংশোধন করতে প্রধান বিচারপতি ৫ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটি ইতিমধ্যে দুটি বৈঠক করেছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম হাইকোর্ট রুলসে অন্তর্ভুক্ত করতে এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।’
এখন আইন অনুসারে উক্ত কমিটি একটি রুলস তৈরি করবেন। পরে সংশোধিত রুলসটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম নিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হলেই হাইকোর্টে নতুন এই পদ্ধতিতে বিচর কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৬ মে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি করতে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলবে বিচারকাজ

আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় ভিডিও কনফারেন্সিং ও অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী ও সাক্ষীদের উপস্থিতির মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকার মামলা জট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সচিব বলেন, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

তাই ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় আসামিকে জেলখানায় রেখে, আইনজীবীকে বাসায় রেখে ও সাক্ষীকে অন্য জায়গায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করে বিচারকার্য করা সম্ভব হবে। এটাই হলো এই অধ্যাদেশের মূল বক্তব্য।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, এখন সংসদ চালু না থাকায় আইন করা যাবে না বলে জরুরিভিত্তিতে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করে দেবে। পার্লামেন্ট বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ