বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা: মাস্ক তৈরির বিকাশমান কুটির শিল্প

বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা: মাস্ক তৈরির বিকাশমান কুটির শিল্প

দাতব্য সংস্থা, এনজিও ও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো চেষ্টা করছে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে। তারা করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সুরক্ষা সামগ্রী তৈরির চেষ্টা করছে। এতে একদিকে যেমণ এক শ্রেণীর মানুষের উপার্জনের পথ তৈরি হচ্ছে, তেমনি বাজারে সুরক্ষা সামগ্রীও সহজলভ্য হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে কুটির শিল্প হিসেবে মাস্ক তৈরি শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। মাস্ক তৈরি এবং বিক্রয়ের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনের কর্মী, ড্রাইভার, দোকানদার থেকে সাধারণ মানুষ সবাই এসব মাস্ক ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, শপিং মল এবং গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। দেশটির রফতানির ৮৪ শতাংশ হয় এই গার্মেন্ট খাতে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলায় একটি মানবিক সহায়তামূলক সংস্থা পানি বিশুদ্ধকরণ উপকরণ তৈরির জন্য স্থাপিত তাদের কারখানাটি এখন মাস্ক তৈরির শিল্পে রূপান্তরিত করেছে। শ্যামলাপুর গ্রামে মূলত জেলেদের বসবাস। এখানকার ছোট ছোট কারখানা থেকে তৈরি মাস্ক সরবরাহ করা হয় কক্সবাজার জেলায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। সপ্তাহখানেক আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম করোনা আকান্ত রোগী শনাক্ত হন। সাহায্য সংস্থাগুলো এরপর থেকে ক্যাম্পে কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শংকায় আছেন।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড স্টেশন, সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা রেজিনা ক্যাটর‌্যাম্বোন বলেন, “বিভিন্ন দেশে দ্রæতগতিতে মহামারী ছড়িয়ে পড়া দেখে আমরা চিন্তা করি কীভাবে আমাদের সামর্থ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশে কভিড-১৯ মহামারীর ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়। আমরা বিভিন্ন সমীক্ষা করি এবং মাস্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। আমরা মাস্কের প্রাথমিক নকশা করে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনকে দেখাই।” রেজিনা বলে চলেন, “এরপর আমরা ৭০ জন দর্জির একটা দল তৈরি করে সুতী কাপড়ের মাস্ক তৈরি শুরু করি। সেগুলো জীবানুমুক্ত করে আমরা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন এর সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করি। এগুলো সার্জিকাল মাস্ক বা এন৯৫ নয়, কিন্তু যখন অন্য কোনো উপায় নেই তখন এগুলোই অনেক কাজে লাগে।”

আফ্রিকার রাখালদের কাছে মাস্ক পৌঁছে দিচ্ছে জেব্রা ট্রাস্ট নামের একটি দাতব্য সংস্থা

২৫ মার্চ এই মাস্ক তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড স্টেশন এর উদ্যোগে স্থানীয় দর্জিরা প্রায় ৯০ হাজার মাস্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় সহযোগী ‘নোঙ্গর’ এর সহায়তায় মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড কক্সবাজারেও মাস্ক তৈরির কারখানা চালুর পরিকল্পনা করছে। আগামী তিন মাসে তাদের লক্ষ্য ২ লাখ মাস্ক তৈরি করা। রেজিনা বলেন, ‘কাজটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে উপার্জনের কোনো পথ নেই, তাই দর্জিরা মাস্ক তৈরির মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।’

কেনিয়াতেও বাংলাদেশের মতো মাস্ক তৈরির কুটির শিল্প বিকশিত হচ্ছে। কেনিয়াতে মাস্ক ছাড়া পাবলিক প্লেসে বের হলে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তি চালু করা হয়েছে। আগামী এক বছরে আফ্রিকার ৫টি দেশে ৫০ কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। আফ্রিকায় বহুদিন ধরে কাজ করছেন এইড ওয়ার্কার এমিলি সেরালটা। তিনি এপ্রিল থেকেই কঙ্গোতে মাস্ক তৈরির কারখানা চালু করেছেন। তারা কঙ্গোসহ কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগালে মাস্ক সরবরাহের পরিকল্পনা করছেন।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে শানজিদ অর্ণব | সূত্রঃ বনিকবার্তা