সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন কবি নজরুল, অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও

সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন কবি নজরুল, অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও

May 25, 2020

যিনি কবিতা লেখেন, যিনি গান লেখেন সেই মানুষটিকে আবার কখনও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছিল তা ভাবতে অনেকেরই অবাক লাগবে। কিন্তু এটা ঘটনা বিদ্রোহী কবি নজরুলকে একটা সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হয়েছে।এপার ওপার দুই বাংলাতেই কাজী নজরুল এবং তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। বাঙালি কবি এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েছেন তিনি। কিন্তু এই মানুষটির জীবনের প্রথমদিকে একটা অংশ কেটেছে সেনাবাহিনীতে।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫মে। ১৯১৭ সালের শেষদিকে অর্থাৎ তখন তার বছর আঠারো বয়স, তখন নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তী কালে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশে যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।

উক্ত রেজিমেন্টের পাঞ্জাবী মৌলবির কাছে তিনি ফার্সি ভাষা শিখেছিলেন। এছাড়া সহ-সৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন, আর গদ্য-পদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সঙ্গে। করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি।

করাচি সেনানিবাসে থাকাকালীন তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। সেই সব পত্রিকাগুলির মধ্যেরয়েছে প্রবাসী, ভারতবর্ষ, ভারতী, মানসী, মর্ম্মবাণী, সবুজপত্র, সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। এই সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল। এ সূত্রে বলা যায় নজরুলের সাহিত্য চর্চা চলতে থাকে এই করাচি সেনানিবাসেই‌ ।

সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর তিনি সেখানে যাননি। ১৯২০ সালে যুদ্ধ শেষে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।আর তিনিও তার সৈনিক জীবনের ইতি টানেন। ফিরে আসেন কলকাতায়।