সংকটাপন্ন খোরশেদের স্ত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি

সংকটাপন্ন খোরশেদের স্ত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জে করোনাসহ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৬১ জনের মরদেহ দাফন করে দেশব্যাপী আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি তার ও তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনার অবস্থা বেশি খারাপ হলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নারয়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ কাঁচপুরে অবস্থিত সাজেদা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান খোরশেদ। তবে রাতে আইসিইউ সাপোর্ট চাইলেই সেটি সম্ভব হয়নি।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার (পিআরও) ওবায়দুল্লাহ জানান, এমপি সাহেব সকাল থেকেই কয়েকবার ফোন দিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর রেখেছেন। তার স্ত্রীকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া, সকাল থেকেই বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তর থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার ও তার স্ত্রীর খোঁজ-খবর রাখছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর রাখছেন।

খোরশেদ জানান, আমার স্ত্রী অবস্থা সংকটাপন্ন। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার ৯০ শতাংশ শ্বাসকার্য এখন অক্সিজেন সাপোর্টে সম্পন্ন হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সুস্থতা কামনা করি।

গত ২৩ মে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা। তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদিকে, শনিবার (৩০ মে) নিজেও করোনায় আক্রান্ত হন খোরশেদ।

গত ৮ এপ্রিল শহরের জামতলা এলাকায় আফতাবউদ্দিন (৬০) নামে বৃদ্ধের মরদেহ পড়েছিল বাড়িতে। মৃত্যুর পর মরদেহ ফেলে পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন একজন। এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মৃত্যুভয়কে আলিঙ্গন করে মৃতের মরদেহ তুলে নেন কাঁধে। মকাসদাইর কবরস্থানে নিয়ে গোসল দেয়ার পর তিন সহযোগীকে নিয়ে জানাজা পড়েন। এরপর নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফন করেন।

শুধু আফতাবউদ্দিন নয়, নিজ ওয়ার্ডে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এমন ৬১ জনকে দাফন করেছেন তিনি। সনাতন ধর্মের মারা যাওয়া কয়েকজনের মুখাগ্নীও করেছেন নিজহাতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসা এই জনপ্রতিনিধি ইতোমধ্যে ‘করোনা বীর’ উপাধী পেয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন মানবতার ফেরিওয়ালা।

করোনার আগ্রাসনের শুরু থেকেই মানুষকে শুধু সচেতন করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। নিজ উদ্যোগে স্ত্রী-সন্তান, স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে রাতের পর রাত জেগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন, বিলি করেছেন এবং এর কৌশল অন্যদের শিখিয়েছেন। নিজ ওয়ার্ডের অনেক জায়গায় মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

এরই মধ্যে ওয়ার্ডবাসীকে কমমুল্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, সরকারী ও নিজস্ব সহায়তার পাশাপাশি করোনায় সুস্থ হওয়াদের প্লাজমা সংগ্রহেও কাজ করছিলেন এই করোনা বীর। এ ছাড়া টিম খোরশেদেভ উদ্যোগে মেডিক্যাল টিমও ওয়ার্ডবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে।

সস্তা প্রচার কিংবা লোক দেখানোর জন্য নয়, নিজের প্রাণের তাগিদ, জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এসব কাজ নিজ হাতে করছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন কাউন্সিলর খোরশেদ।