মহামারি কোভিড-১৯: নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে যা জানা জরুরি

মহামারি কোভিড-১৯: নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে যা জানা জরুরি

কোভিড-১৯ মহামারি প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এখনো ধ্বংসলীলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষের অসুস্থতা হয়ে পড়ার শঙ্কা আরও বাড়ছে। গরমের তীব্রতার মধ্যে বিশাল বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, অফিস এবং বাসার মধ্যে থাকাও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

চলমান কোভিড-১৯ এর এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের শীতল রাখতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার কতটুকু নিরাপদ সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্ক চলছে। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আসুন জেনে নেই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ে কীভাবে নিরাপদে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কিত কিছু নির্দেশনা।

কোভিড-১৯ মহামারিতে এসি চালানোর নির্দেশিকা

আমাদের উপমহাদেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে, করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন কীভাবে নিরাপদে এসি চালাবেন সে সম্পর্কে কিছু নির্দেশনার সুপারিশ করেছে আইএসএইচআরএই (দ্য ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স)। বাংলাদেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানায়, অফিসে ও অন্যান্য স্থানে এসি ব্যবহারের জন্য এ পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারে।

যথাযথ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ঠিক করুন:

কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন আপনার ঘরের এয়ার কন্ডিশনের আদর্শ তাপমাত্রা কী হবে? আইএসএইচআরএই এবং সিপিডব্লিউয়ের সুপারিশ অনুসারে, কোনও ঘরের এসি যেমন রুম এসি, স্প্লিট এসি বা উইন্ডো এসির জন্য তাপমাত্রার ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে।

সেইসাথে, ঘরের ভেতরে যথাযথ আর্দ্রতা ঠিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছে আইএসএইচআরএই। আপনার স্মার্টফোনে যেকোন ‘ওয়েদার অ্যাপ’ ডাউনলোড করে নিয়ে আপনার বসবাসের স্থানটির আর্দ্রতা সহজেই মেপে নিতে পারেন। আইএসএইচআরএই তাদের দেয়া নির্দেশিকায় বলছে, যে বাসা বা অফিসের ভেতরের আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত।

অতএব, আপনি আর্দ্র আবহাওয়ায় বাস করে থাকলে আপনার এসি ‘কুল’ মোডে রাখুন এবং তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তার কাছাকাছি রাখতে হবে। আর, আপনি শুষ্ক আবহাওয়ার অঞ্চলে বাস করলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা এর কাছাকাছি রাখতে হবে।

বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করুন

আইএসএইচআরএই তার প্রতিবেদনে বলছে, শুকনো বায়ুতে আমাদের ফুসফুসের শ্লেষ্মা ঝিল্লি শুকিয়ে যায়। যা কোষের আস্তরণের ওপরে তরলকে ঘন করে ফেলে এবং আমাদের দেহে থাকা সিলিয়ার (ছোট চুল যা ফুসফুসে ক্ষতিকারক এবং অন্যান্য কণা আস্তর পড়া থেকে রক্ষা করে)কার্যক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে, এলিয়েন কণা আমাদের ফুসফুসের আরও ভেতরে চলে যেতে পারে।

আইএসএইচআরএই বলছে, এমন শুকনো আবহাওয়ার অঞ্চলে এ জাতীয় পরিস্থিতি রোধে  এসির বায়ু সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানোর পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ঘরের ভেতরের গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেয়ার জন্য ফ্যানও ব্যবহার করতে পারেন। তবে, আপনি অন্দর বাতাস ভালো রাখতে ঘন ঘন ফ্যানের পাখা পরিষ্কার করতে হবে।

বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন:

এসি ব্যবহারের সময় কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? বাসার ভেতরের বাতাস বের করে দেয়া এবং বাইরের সতেজ বায়ু ভেতরে আসার সুযোগ করে দিতে জানালার কপাট কিছুটা খোলে রাখার পরামর্শ দেয় আইএসএইচআরএই।

আপনি যখন কোনো ঘরের ভেতরে অবস্থান করবেন, শীতল বাতাসের ক্রস সার্কুলেশনের জন্য বিপরীত দিকে থাকা জানালাটি কিছুটা খোলা রাখুন। যদিও জানালা বা দরজা খোলা রাখলে আপনার এসির কক্ষ ঠান্ডা কম হবে এবং মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের পরিমান কিছু বেশি হবে। তারপরও এটি আপনার অন্দরের বাতাসকে প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করবে।

আপনার এসির ফিল্টার ঠিক রাখুন:

ইব্যাপুরেটিভ কুলার বা ডেজার্ট কুলার ব্যবহারে আপনার কোন ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য, ধূলিবালি থেকে দূরে থাকতে এবং অন্দরের পরিবেশের স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে ইব্যাপুরেটিভ কুলারের এয়ার ফিল্টার ঠিক করে রাখতে পারেন। তবে, আপনার কুলার সঠিক বায়ুচলাচলে সহায়তা করতে বাইরের বাতাস আসার সুযোগ রাখুন। আর্দ্রতা কমাতে বিপরীতমুখী জানালা ও দরজা অবশ্যই কিছুটা খোলা রাখতে হবে।

শেষ করার আগে, প্রকৌশলী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস চলাকালীন সময়ে আবাসিক বাসস্থানে উইন্ডো এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার নিরাপদ হতে পারে। তবে, আপনি সেন্ট্রাল কুলিং কোনো বিল্ডিংয়ে বসবাস করেন তাহলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি করোনা সংক্রামিত কোনো ব্যক্তি ভবনের ভেতরে থাকে, তবে সেন্ট্রাল এয়ার কুলারে যদি  বহিরাগমন বায়ুচলাচল, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, এসি ফিল্টারিংয়ের পদ্ধতি যথাযথভাবে না নেয়া হয় তবে এর মাধ্যমে সেখানে থাকা অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত শপিংমল, সরকারি অফিস, হাসপাতাল, করপোরেট অফিস, শিল্প-কারখানা ইত্যাদিতে এ ধরনের সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই, এসব স্থানে যাওয়ার আগে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবুন!

  • ইউ.এন.বি নিউজ
  • রিফাত তাবাসসুম