২১ জুন রবিবার সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকতে তৈরি হয়ে যান – সূর্যগ্রহণের সময় রাসূল (সা.) যা করতে বলেছেন

২১ জুন সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকতে তৈরি হয়ে যান৷ বাংলাদেশ সময়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে শুরু হবে সূর্যগ্রহণ। সম্পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে সকাল ১০টা বেজে ৪৭ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে। বেলা ১২টা বেজে ৪০ মিনিটে ৪ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে এই সূর্যগ্রহণ। শেষ হবে দুপুর ২টো বেজে ৩২ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। তবে পূর্ণ নয়, একে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ইংরেজিতে এই গ্রহণ পরিচিত annular solar eclipse নামে।

http://www.sharenews24.com/images_laibrary/news_picture_69686prignancy-2.jpg
http://www.sharenews24.com/images_laibrary/news_picture_69686prignancy-2.jpg

বাংলাদেশের আকাশেও দেখা যাবে রবিবার৷
এদিন সূর্যকে ঢেকে দেবে চাঁদ এবং বার্ষিক এই গ্রহণে পুরো অন্ধকার হয়ে যাবে না৷ তবে তৈরি হবে আগুনের আংটি! বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে, গ্রহণ চলাকালীন খাবার খাওয়া নিষেধ করা হয়েছে। এই সময় জলে তুলসী ও দুর্বা ঘাস দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এতে জল পরিশুদ্ধ হয়ে যায় বলে অনেকের বিশ্বাস। এ ছাড়া গ্রহণের সময় অন্ন গ্রহণ করলে তা অশুভ হয় বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। কিছু মানুষ মনে করেন, গর্ভবতী মহিলার জন্য সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিপদজনক। তাই সে সব মহিলাদের গ্রহণ চলাকালীন ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো না।

গ্রহণের সময় রান্না না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যে মানুষ অসুস্থ, ক্লান্ত অথবা বৃদ্ধ – তাদের ক্ষেত্রে একান্তই সম্ভব না হলে জল, ডাবের জল অথবা এই ধরনের কোনও ফ্লউইড দেওয়া যেতে পারে। তবে ভারী খাবার না দিতেই বলা হয়।

তবে, খালি চোখে কখনই সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এতে চোখে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দূরবীন, ক্যামেরার লেন্স, টেলিস্কোপ দিয়েই সূর্যগ্রহণ দেখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রহণের সময় শাড়িতে পিন বা সাধারণ ভাবে সেফটিপিন, কোনও গয়না পরতে বারণ করা হয়। এতে নাকি বিপদ হতে পারে। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায় নি।গ্রহণের সময় তুলসী গাছ স্পর্শ করবেন না। গ্রহণ চলাকালীন চুল দাড়ি কাটবেন না। গ্রহণের সময় ক্ষতিকারক রশ্মি বিকিরণ হয় তাই বাইরে না বেড়নোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সূতক কাল এবং গ্রহণের সময় অশুভ শক্তির ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তাই এ সময় নির্জন স্থান বা শ্মশানে যাওয়া উচিত নয়। গ্রহণ শেষ হলে স্নান করে শুদ্ধবস্ত্র পড়ে দান করা উচিত।
সূর্যগ্রহণ ২০২০ : ২১ জুনের সূর্যগ্রহণ এই চার রাশির জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনবে

সূর্যগ্রহণের সময় রাসূল (সা.) যা করতে বলেছেন

বাংলাদেশের আকাশেও দেখা যাবে আগামীকাল রবিবার।

তাই এ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ বিশেষ গ্লাস কিনে রাখছে। মনে হচ্ছে যেন ঈদের সূর্য উঠবে।

অধিকাংশ সময়ই আমাদের দেশের মানুষেরা অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে সূর্যগ্রহন এবং চন্দ্রগ্রহন প্রত্যক্ষ করে থাকে। অথচ বিষয়টি আনন্দের নয়, ভয় ও ক্ষমা প্রার্থনার।

সূর্য ও চন্দ্র যখন গ্রহনের সময় হয় তখন আমাদের নবীর (সা.) চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেতো। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

আরবীতে সূর্যগ্রহণকে ‘কুসূফ’ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে ‘নামাজে কুসূফ’ বলা হয়।

দশম হিজরীতে যখন পবিত্র মদীনায় সূর্যগ্রহণ হয়, রাসূল (সা.) ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। তারপর সম্ভবত তার জীবনের সর্বাধিক দীর্ঘ নামাজের জামাতের ইমামতি করেছিলেন। সেই নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাহ মোটকথা, প্রত্যেকটি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিলো।

আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু’টি কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়েড(Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়।

গ্রহানুপুঞ্জের এইবেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল। বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা?

গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়। কিন্তু বৃহদাকার পাথর খন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে?

প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিলো। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। াআরিজোনায় (Arizona) এ যে উল্কাপিন্ড এসে পড়েছিলো তার কারণে পৃথিবীতে যে গর্ত হয়েছিলো তার গভীরতা ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮০০ ফুট।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ হচ্ছে, এসময় সূর্য,চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে,একই অক্ষ বরাবর থাকে । ফলে তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

এমনি মুহূর্তে যদি কোন পাথর বেল্ট থেকে নিক্ষিপ্ত হয় তখন এই ত্রিশক্তির আকর্ষণের ফলে সেই পাথর প্রচন্ড শক্তিতে, প্রবল বেগে পৃথিবীর দিকে আসবে,এ প্রচন্ড শক্তি নিয়ে আসা পাথরটিকে প্রতিহত করা তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়াবে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, “তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।” (সুরা ইউনুস : ৫) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “আর আমি সৃষ্টি করেছি একটি প্রজ্বলিত বাতি।” (সুরা নাবা : ১৩)

বিজ্ঞানের বক্তব্যেও সূর্যই তাপশক্তির ও আলোর প্রধান উৎস। পক্ষান্তরে চাঁদের ব্যাপারে বিজ্ঞানের বক্তব্য হলো, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের প্রতিফলিত আলোই তার সম্বল। পবিত্র কোরআন আরো স্পষ্ট করে বলছে, “আল্লাহ চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে, আর সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে।” (সুরা নুহ : ১৬)
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া। চাঁদ যখন পরিভ্রমণ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই সূর্যগ্রহণ (Solar eclipse) বা কুসুফ। আর পৃথিবী যখন তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদ কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই চন্দ্রগ্রহণ (Lunar eclipse) বা খুসুফ।

এই দৃষ্টিকোন থেকে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মহানবীর (সা.) সেজদারত হওয়া এবং সৃষ্টিকূলের জন্য পানাহ চাওয়ার মধ্যে আমরা একটি নিখুঁত বাস্তবতার সম্পর্ক খুঁজে পাই। মহানবীর (সা.) এ আমলটি ছিলো যুক্তিসঙ্গত ও একান্ত বিজ্ঞানসম্মত। তাই এটিকে উৎসব না বানিয়ে আল্লাহকে ভয় করুন। সালাত আদায় করুন।

মহাবিজ্ঞানী আল্লাহ তাআলার প্রিয়তম হাবিব মুহাম্মদ (সা.) এ সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আমাদের উচিত কুসংস্কারগুলো পরিহার করে সুন্নত অনুযায়ী চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া। তাই এ সময় সালাতে দাড়িয়ে যান। অন্যদেরও বলুন প্রার্থনায় নিমগ্ন হতে যাতে এর ফলে মানুষের কোন ক্ষতি কোথাও না হয়।