পরিবারের সঙ্গে টিভি দেখতে ফের আগ্রহী হচ্ছে ব্রিটিশরা

পরিবারের সঙ্গে টিভি দেখতে ফের আগ্রহী হচ্ছে ব্রিটিশরা

এক দশকেরও বেশি সময় পর ব্রিটিশদের মধ্যে পরিবারের সবার সঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখার প্রবণতা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কোম্পানি অফকম সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর বিবিসির।

অফকমের জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৯১ শতাংশ পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি সপ্তাহে অন্তত এক দিন পরিবারের সঙ্গে নিজ ঘরে টেলিভিশন দেখে, যেখানে ২০০২ সালে এ কাজ করত ৮৮ শতাংশ ব্যক্তি।

সাধারণত উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা নিজেদের ঘরে বসেই কম্পিউটারে বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বহুমুখী সুবিধা এ বয়সী ছেলেমেয়েদের নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করছে বলে জরিপে জানানো হয়। এখন দেশটির পূর্ণ বয়স্কদের পাশাপাশি উঠতি বয়সীরাও পরিবারের সবার সঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখতে পছন্দ করে। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো যন্ত্র তারা টেলিভিশন দেখার ঘরে বসেও ব্যবহার করতে পারছে। এজন্য সবার সঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখতে কোনো সমস্যায় পড়ছে না তারা। ১৬ বছরের ওপরে ৩ হাজার ৭০০ ছেলেমেয়ের ওপর এ জরিপ চালানো হয়েছে বলে জানায় অফকম।

জরিপে আরো জানানো হয়, ১৯৫০ সালের দিকে মানুষের ঘরে টেলিভিশন ছাড়া বিনোদনের অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ছিল না। তবে মাঝে ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের উত্থানে পারিবারিক বিনোদন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে লোকজন। মোবাইল যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার কারণে একইভাবে আবারো পরিবারের সব বয়সী মানুষ একত্রে বসে বিনোদন উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ ধরনের আচরণের জন্য বিভিন্ন প্রভাবক কাজ করেছে বলে মনে করেন অফকমের গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান জ্যান রামব্যাল। এর মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন সেটের আকার ও মান।

বর্তমানের টেলিভিশনগুলোর বিশাল আকৃতি ও অতি উচ্চমানের ডিসপ্লে মান স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সবাইকে সমানভাবে আকৃষ্ট করে। প্রধান না হলেও এটিকে অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন রামব্যাল।

দেশটিতে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকেও অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি।
অফকম জানায়, দেশটির প্রায় অর্ধেক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিই স্মার্টফোন ব্যবহার করে। ট্যাবলেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও গত এক বছরে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর যেখানে দেশটিতে ট্যাবলেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ, সেখানে বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানায় অফকম।

এর মানে, দেশটির প্রতিটি পরিবারে গড়ে তিনটির মতো ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার মতো যন্ত্র রয়েছে। প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি ঘরে এ ধরনের যন্ত্রের সংখ্যা ছয়টিরও বেশি।
এ যন্ত্রগুলো সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করায় পরিবারের যে কেউ টেলিভিশনের সামনে বসেও তার কাজ করতে পারছে। এর ফলেই মূলত দেশটির অধিকাংশ পরিবারের লোকজনের মধ্যে একসঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখার প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করে অফকম।