পাঁচ সন্তানের জনক বাংলাদেশি নাগরিক শহিদুল আহমেদ যৌন হয়রানির মামলায় ২০১০ সালে গ্রেফতার হন

যৌন নিগ্রহের পরে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশির যাবজ্জীবন

শহীদুল আহমেদর‌্যাচেল ম্যানিং নামের এক ব্রিটিশ তরুণীকে (১৯) যৌন নিগ্রহের পরে উপর্যুপরি আঘাতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তাঁর নাম শহিদুল আহমেদ। তাঁকে যাবৎজীবন বা কমপক্ষে ১৭ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

তবে হত্যার এ ঘটনা ঘটেছে ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে । সংঘটিত এ ঘটনায় এত দিন মেয়েটির প্রেমিক ব্যারি হোয়াইটকেই অপরাধী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল এবং সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও টানা ছয় বছর জেলের ঘানি টানেছেন তিনি ও হত্যার সহযোগি হিসাবে তার এক বন্ধু। ২০০২ সাল থেকে টানা ছয় বছর জেলে থাকার পর ২০০৮ সালে এ মামলায় রিআপিল করা হয়। র‌্যাচেল ম্যানিংর‌্যাচেল ম্যানিং

এরপরে পাঁচ সন্তানের জনক বাংলাদেশি নাগরিক শহিদুল আহমেদ অন্য একটি যৌন হয়রানির মামলায় ২০১০ সালে গ্রেফতার হলে, র‌্যাচেল ম্যানিং এ হত্যাকান্ডের আলামতে প্রাপ্ত ডিএনএ সাথে তার ডিএনএ মিলে যাওয়ায় তাকে র‌্যাচেল ম্যানিং হত্যাকান্ডে গ্রেফতার দেখানো হয়। এবং এর পরই এ মামলায় নেয় নতুন মোড়।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১০ ডিসেম্বর বাকিংহ্যামশায়ারের কাছে নাইট ক্লাব থেকে নিখোঁজ হন র‌্যাচেল। দুই দিন পর শহরের পাশের উবার্ন গল্ফ ক্লাবের ভেতরে ঝোপের নিচে তাঁর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনার ঠিক আগে ম্যানিং এর ছেলেবন্ধুর সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ায় স্বভাবতই র‌্যাচেলের প্রেমিক ব্যারি হোয়াইটকে হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ। পরে ছয় বছর আগের গাড়ির রক্তমাখা একটি স্টিয়ারিং লকের সূত্র ধরে এবং ডিএনএ পরীক্ষায় বাংলাদেশি শহিদুলের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ফেঁসে যান তিনি। পরে আদালতে ঘটনাটি স্বীকার করেন শহিদুল। আদালত প্রেমিক ব্যারি হোয়াইটকে মুক্তি দেন। সূত্র গার্ডিয়ান।