কেন ছবি দেখতে হলমুখী হচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা?

শুধুই অনন্ত বিনোদন!

হাসান ইমাম |

Untitled-1এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা অনন্ত জলিল অভিনীত পঞ্চম চলচ্চিত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসা (হোয়াট ইজ লাভ)। এই চলচ্চিত্রের নায়ক, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালকও তিনি। মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত একটানা পাঁচ সপ্তাহ ছবিটি চলছে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। এর আগে তিনি অভিনয় করেছেন আরও চারটি চলচ্চিত্রে। অনন্ত জলিলের ছবি দেখার জন্য হলমুখী হচ্ছেন নানা বয়সের লোক। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। দর্শকেরা বলছেন, সিনেমাটি দেখে তাঁরা মজা পাচ্ছেন, এখানে নতুনত্ব আছে। ছবির পরিচালক বলছেন, তিনি সফল। আবার উল্টো কথাও আছে। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মন্তব্য, ‘নিছক হাস্যবিনোদন উপভোগ করতেই দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখছেন।’ নিঃস্বার্থ ভালোবাসাসহ অনন্ত জলিলের অন্যান্য ছবিতে অ্যানিমেশন, গ্রাফিকসের যেসব কাজ (হূদয় চিরে বের করে আনা ইত্যাদি) আছে, নান্দনিক চলচ্চিত্র-ভাষা হিসেবে তা কতটা সফল—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কারও কারও মাথায়। আসলে কী আছে এই সিনেমায়, কেন ছবিটি দেখতে হলমুখী হচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা? ‘আনন্দ’-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বেশ কয়েকজন তরুণ দর্শকের সঙ্গে। অনন্তর এই চলচ্চিত্র-প্রচেষ্টা কি শুধুই অনন্ত বিনোদন? তাঁর ‘নতুন’ এ প্রয়াসকে চলচ্চিত্র-ভাষার মানদণ্ডে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন নির্মাতারা? এসব প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অনন্ত জলিল নিজেও কথা বলেছেন তাঁর ছবি নিয়ে।

 

Untitled-3.1সিনেমাজগৎকে নতুন কিছু দিতে চান
শহিদুল ইসলাম খোকন
অনন্তর প্রতিটি ছবিতে থাকে বিপুল বাজেট। বাংলাদেশের অন্য পরিচালকেরা অনেক ক্ষেত্রে ছবি বানাতে এত বাজেট পান না। তবে অনন্তর সিনেমা দেখতে দর্শক হলে যাচ্ছেন। এ দেশের সিনেমাজগৎকে নতুন কিছু দিতে চান তিনি। এ জন্য তিনি নিরন্তর প্রচেষ্টাও চালাচ্ছেন। কিন্তু যিনি প্রকৃত শিল্পী, তাঁর ভেতরে অহমিকা থাকা উচিত নয়। এটা তাঁকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।
সংলাপ অন্যকে দিয়ে ডাব করাতে পারেনUntitled-4
শাহ আলম কিরণ
শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নয়, অনন্তর সব ছবিই অনেক ব্যয়বহুল। এ কারণে নানা রকম কাজ তিনি ছবিতে করতে পেরেছেন। তাঁর প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। তাঁর সাহস আছে বটে—ছবিতে বেশুমার টাকা খরচ এবং অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর অভিনয় দেখে এটি বোঝা যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক দৃশ্যে তিনি অভিনয় করেছেন। তবে যেহেতু আমাদের ছবি আমরা বাংলায় মুক্তি দিই এবং এখানে উচ্চারণ ও ধ্বনির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই উচ্চারণে গরমিল হলে আমাদের কাছে খারাপ লাগে। আমি মনে করি, অনন্ত তাঁর সংলাপ অন্যকে দিয়ে ডাব করাতে পারেন। তাহলে তাঁর ছবি পরিপূর্ণতা পাবে।
প্রযুক্তি ব্যবহার করলে শিল্পমান থাকা জরুরি
Untitled-5রেদওয়ান রনি
সারা বিশ্বে এখন ছবিতে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। ওই সব ছবি দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাও পাচ্ছে। চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করলে সেখানে শিল্পমান থাকা জরুরি। কারণ, আমি যদি তিন সেকেন্ডের একটা গ্রাফিকসও ব্যবহার করি, তা কোন স্থানে কীভাবে ব্যবহার করলাম, সেটাই মুখ্য। প্রতিটি ছবিতেই অনন্ত অনেক টাকা খরচ করছেন। তবে ছবির কান্নার দৃশ্যে দর্শক যদি হেসে দেন, তাহলে সেটার আলাদা মানে তৈরি হতে পারে। অবশ্য কমেডি ছবি বানালে অন্য কথা। দর্শককে হাসানোই সেখানে প্রধান বিবেচনা। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে আমার মনে হয়েছে, অনন্ত চলচ্চিত্র প্রযোজনা করলেই বেশি ভালো করবেন।
কারিগরি বিষয়গুলো ভালো লেগেছেUntitled-6
শাহনেওয়াজ কাকলী
অনন্ত জলিলের আগের সব ছবিই আমি দেখেছি। নতুন ছবিটি এখনো দেখতে পারিনি। তাঁর অন্য ছবিগুলো দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তাঁর ছবির সেট, কস্টিউম, আকর্ষণীয় লোকেশন, গানের দৃশ্যসহ সব কারিগরি বিষয়ই আমার ভালো লেগেছে। তিনি দেখতেও সুদর্শন। তবে ডাবিংয়ের কাজটা নিজে না করে অন্য কাউকে দিয়ে করালে আরও ভালো হতো। এ ছাড়া আমাদের এখানে বড় অনেক পরিচালক আছেন, তিনি তাঁদের সাহায্যও নিতে পারেন।