২৫০ বাংলাদেশীকে নাগরিকত্ব দেয়ার প্রলোভন, ২৫ লাখ পাউন্ডের দুর্নীতি, জেল

২৫০ বাংলাদেশীকে নাগরিকত্ব দেয়ার প্রলোভন, ২৫ লাখ পাউন্ডের দুর্নীতি, জেল
সোমবার, ০৫ আগস্ট ২০১৩

ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ২৫০ বাংলাদেশীকে নাগরিকত্ব দেয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। ওই চক্রকে প্রায় ২০ বছরের জেল দিয়েছেন বৃটিশ একটি আদালত। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে এই গ্রুপের সদস্যরা ১০০০০ পাউন্ড করে নিয়েছে। এর বিনিময়ে তারা যুক্তরাজ্যে ৫ বছর অবস্থান করে কাজ করছেন এ মর্মে কাগজপত্র বের করে দেয়ার কথা। কথামতো প্রতি জন ১০০০০ পাউন্ড হিসেবে মোট ২৫ লাখ পাউন্ড বিনিময় করেন। কিন্তু প্রতারক চক্র এর বিনিময়ে বের করে দেয় কতগুলো ভুয়া কাগজ। এ গ্রুপের এক সদস্য চাকরি করেন যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির ব্যাংক বারক্লে ব্যাংকে। সেখানে তিনি বাংলাদেশীদের নামে প্রতারণামূলক একাউন্ট খুলতে সক্ষম হন। সব ব্যবস্থা পাকা করে বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। নাগরিকত্ব পেয়ে তারা বাংলাদেশ থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যান। নাগরিকত্ব পাওয়ায় তারা সরকারের দেয়া নানা সুবিধার দাবিদার হয়ে ওঠেন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার দাবিদার হন।

অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন এই প্রতারণামূলক নাগরিকত্ব লাভ করেছেন ২৫০ জনের মতো বাংলাদেশী। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে মাত্র ১০ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন এই ১০ বাংলাদেশীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। শনিবার বৃটেনের ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টের বিচারক ব্লেক প্রতারক চক্রের ৭ জনের বিরুদ্ধে ২০ বছরের জেল দিয়েছেন। এ গ্রুপের মূল হোতা আতাউর রহমান তালুকদার। তিনি কোন দেশের নাগরিক তা বলা হয়নি। তবে তিনি অভিবাসন বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করে নিজস্ব সুবিধা আদায় করেছেন বলে আদালত উল্লেখ করেছেন। তার সম্পর্কে বিচারক ব্লেক বলেছেন, তিনি এ প্রতারণার মূল হোতা। তার সঙ্গে জড়িত অন্যরা হলো হারুন মিয়া, হাবিবুর রহমান, লুৎফর রহমান ও ওয়াহিদুর রহমান। এ ঘটনা উদঘাটন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সার্জেন্ট জেফ টেলর। তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব দেয়ার মাধ্যমে ওই বাংলাদেশীদের স্বর্ণের খনিতে কাজ করার লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। নাগরিকত্ব দেয়া হলে তারা বৃটিশ হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন। সরকারের দেয়া যে কোন সুবিধা তারা দাবি করতে পারবেন। এমনটা ভেবে ওই বাংলাদেশীরা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন। বৃটেনে জন্মগ্রহণকারী আতাউর রহমান তালুকদার ২৫০ বাংলাদেশী অভিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। তাকে এ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১১ সালে। এ প্রতারণার মাধ্যমে তিনি যে ২৫ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন তা বিপুল পরিমাণ অর্থ। সার্জেন্ট টেলর বলেন, একজন ড্রাগ ডিলারের চেয়ে তিনি বেশি অর্থ কামিয়েছেন। তিনি এ কাজ করতে গিয়ে ২৩ বছর বয়সী হারুন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হারুণ চাকরি করতেন বারক্লে ব্যাংকে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ওয়াহিদুর রহমান (৪৬)। তিনি ছিলেন একটি কম্পিউটার বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী।