ছায়ার মধ্যে লড়াই করছে দুদল: আকবর আলী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিপরীত অবস্থানে থাকা দুই প্রধান রাজনৈদিক দল বিভিন্ন কথা বললেও তাতে সঙ্কট সমাধানে সুস্পষ্ট কিছু বেরিয়ে আসছে না। আমরা ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করছি। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ আয়োজিত গোলটেবিলে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন-২০১৩’ বিষয়ে এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, এম. হাফিজ উদ্দিন খান, রাজনীতিবিদ আসম আবদুর রব, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ। ড. আকবর আলি খান বলেন, এর আগেও বহুবার আরপিও সংশোধন হয়েছে। কিন্তু তা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে এ বিষষটি আগে আলোচনা করা দরকার। আরপিও সংশোধনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিপরীত অবস্থানে থাকা দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কথা বললেও তাতে সঙ্কট সমাধানে সুস্পষ্ট কিছু বেরিয়ে আসছে না। সরকার বলছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দরকার নেই, ইসিকে শক্তিশালী করতে হবে। আবার বিরোধী দল বলছে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দিতে হবে। এক্ষেত্রে ইসিকে শক্তিশালী করা কিংবা কিভাবে সবার গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থা আসবে- সে বিষয়ে দুই দলের কোন উদ্যোগ নেই, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। আকবর আলি বলেন, আরপিও সংশোধন করাই বড় কথা নয়। নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য সরকারই এখন বড়। বাকিগুলো ছোট বিষয়। সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে ভোটের অন্তত ছয় মাস আগে সার্চ কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন তিনি। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে এ অনুসন্ধান কমিটি হবে, তারা তালিকা পর্যালোচনা করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে। নির্বাচনের আগে এবার ছয় মাস সময় হাতে না থাকলেও প্রক্রিয়াটি শুরু করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনে কালো টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কারচুপি ধরা পড়লে অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। জালভোট নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর পরামর্শ দেন তিনি। নির্বাচনকালে সব মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ইসিকে দেয়ার যে কথা উঠেছে, তা ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে বলেন, সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকে কেবিনেটের। ইসিকে তা দেয়া যায় না। হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, আরপিও-তে যেসব অসঙ্গতি আছে তা নিরসনে নির্বাচন কমিশনকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আগের নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তত্ত্বাধয়ক সরকারের সময়। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গঠন রাজনৈতিক সরকারের সময় হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। কোন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সরকারি কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করা ইসি’র পক্ষে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর আলোচনায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান ভোটার তালিকা সঠিক নয়। আগের তুলনায় নারী ভোটার কমে গেছে যা রহস্যজনক। আরপিওতে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দানের বিষয়ে উল্লেখ নেই। নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রদত্ত তথ্য জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে। কালো টাকা, পেশিশক্তি ও মনোনয়ন বাণিজ্য ব্যবহার রোধকল্পে নির্বাচনী আইন পুনর্গঠন করতে হবে। তফসিল ঘোষণা ছাড়াই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশের প্রধান দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই বলেই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের জন্য সুবিধা বয়ে আনছে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য নির্বাচনে আসন নির্দিষ্ট করার দাবি জানান তিনি। জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন হচ্ছে সরকারের আজ্ঞাবহ দাস। তারা আরপিও সংশোধনে যে প্রস্তাব দিয়েছে এতে নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা পনের লাখ থেকে পঁচিশ লাখ করা হয়েছে। যার ফলে কোন সুশীল সমাজের প্রতিনিধির পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রোকসানা খন্দকারের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিসহ মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা অংশ নেন।