আইন-শৃংখলায় প্রভাব ও ভোটের হিসাব নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জরিপ সম্পন্ন

জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারের সতর্ক পদক্ষেপ

আইন-শৃংখলায় প্রভাব ও ভোটের হিসাব নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জরিপ সম্পন্নghulam-azam-in-prison-van-ekush info
শ্যামল সরকার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন মহলের দাবি উচ্চারিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও বিষয়টি নিয়ে খুবই সতর্ক। সরকারের ভেতরে এ নিয়ে গোপনে প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে জামায়াত নিষিদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া জানতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ শেষ করা হয়েছে। এ জরিপে দুটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়। এক. দলটি নিষিদ্ধ করা হলে ভোট কোন দিকে কী সংখ্যায় যেতে পারে এবং আইন শৃংখলার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে করা জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। এ কারণে আগামীতে আর কোন নির্বাচনে জামায়াত তার নিজম্ব প্রতীক (দাঁড়িপাল্লা) নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

এ দিকে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জামায়াতের দিন ফুরিয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়, সরকারও জামায়াতের বিরুদ্ধে সেভাবে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, সরকার কোন সন্ত্রাসী সংগঠনকে ভয় পায় না। বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াত জড়িত। তাই আটঘাট বেঁধে জামায়াতের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং এটি করা হবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কথায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকার যে প্রশাসনিকভাবে এগোচ্ছে তা বেশ স্পষ্ট। তিনি বলেন, “জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর ভেবেছিলাম তারা গণতান্ত্রিক আচরণ করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে, চোরাগুপ্তা হামলা চালাচ্ছে, গাড়িতে আগুন দিয়ে চালকদের হত্যা করছে।”

বর্তমান সরকার সন্ত্রাসী তত্পরতার অভিযোগে প্রশাসনিক আদেশে এ পর্যন্ত পাঁচটি সংগঠন নিষিদ্ধ করেছে। এগুলো হচ্ছে হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, জাগ্রত মুসলিম জনতা, আল-হিকমা ও তহরীর।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার সময় গত ১৫ জুলাই দেয়া পর্যবেক্ষণে জামায়াতে ইসলামীকে সামপ্রদায়িক দল হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়। এতে বলা হয়, গোলাম আযমের অধীন তার দলের সকল সদস্য ও অঙ্গসংগঠনগুলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, ৪২ বছর পরও তারা একই ধরনের আচরণ করছে। এখনো কিছু স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর কর্ণধার হয়ে রয়ে গেছে। যে কারণে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত তরুণরা স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় বেড়ে উঠছে। যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এতে আরো বলা হয়, গোলাম আযমের নেত্বত্বে জামায়াতে ইসলাম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি অপরাধমূলক সংগঠনের মতো কাজ করেছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক