আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণ, তিনজনের ফাঁসি

20130924-170930.jpg

আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণ, তিনজনের ফাঁসি
প্রাইম-নিউজবিডি: চট্টগ্রামে এক আদিবাসী মারমা তরুণীকে গণধর্ষণের দায়ে তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. রেজাউল করিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কামাল উদ্দিন ওরফে জুয়েল (২২), মো. ইকবাল হোসেন (২০) ও সুমন রবি দাশ (১৮)। তাদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার শিয়ালবুক্কা পাড়ার মারমা সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন তরুণ চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে আসেন। তরুণীটিকে নগরীর ষোলশহর সিডিএ এলাকার শামছু ম্যানশনের একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনদিন ধরে এই আদিবাসী তরুণীকে আটকে রেখে তারা গণধর্ষণ করেন। ১২ নভেম্বর তাদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে ওই তরুণী রাঙ্গুনিয়া থানায় গিয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ আরও একজন নতুন আসামিসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ৩ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের চৌধুরী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তিন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় আদালত প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে জেলে পাঠানো হয়।