গার্মেন্ট শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে শতাধিক আহত ॥ শত শত কারখানায় ছুটি ঘোষণা

নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর সাভারে অব্যাহত বিক্ষোভ অসন্তোষ

গতকাল বুধবার গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রতি পুলিশের এ্যাকশন -সংগ্রাম

মন্ত্রী ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল ৫ম দিনের মতো শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর ও সাভারে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সড়ক অবরোধ করে। সড়ক অবরোধ ভাংতে ও বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ, বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ফলে সংঘর্ষ বেধে যায় ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়। গুলীবিদ্ধ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

মোঃ রেজাউল বারী বাবুল ও জাহাঙ্গীর আলম : গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল ও ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন  দাবিতে গতকাল বুধবারেও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা  কারখানা ও যানবাহন ভাংচুর এবং সড়ক অবরোধ করেছে। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলী ও টিয়ারশেল ছুঁড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এদিন জেলার তিন শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গাজীপুর সদর উপজেলার কোনাবাড়ি এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা বুধবার সকালে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল ও ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন  দাবিতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও কারখানা ভাংচুর করেছে। এক পর্যায়ে তারা পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর এসে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এসময় পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধের কারণে সড়কের উভয়দিকে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।  প্রায় একই সময় স্থানীয় তুরাগ, মাছিহাতা, ইসলাম ও কেয়া ইসলাম গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। একই উপজেলার নাওজোর এলাকার ডটকম গার্মেন্টসের শ্রমিকরাও সকালে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ এবং ভাংচুর করেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার মাহমুদ জিনস লিমিটেড, নায়াগ্রা টেক্সটাইল লিমিটেড অ্যাপেক্স লিমিটেড, ড্রেসম্যান ও নুরুল ওয়্যার নিটওয়্যার লিমিটেডসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল ও ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন  দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে। এসময় তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে  কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করে। তারা পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসে সড়ক অবরোধ করে এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এতে পুলিশ বাধা দিয়ে লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে এবং পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলী ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ওইসব কারখানাসহ আরো কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রায়  একই সময় সফিপুর বাজার এলাকার নিট এশিয়া লিমিটেড ও পূর্ব চন্দ্রা বোর্ড মিল এলাকার লিজ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানা ও গেটে শ্রমিকরা একই দাবিতে ভাংচুর করে। ভাংচুরকালে মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়।  পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর ওই দুটি কারখানাও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

মাহমুদ জিন্স লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ শামসুর রায়হান জানান, বিভিন্ন কারখানায় হামলা ভাংচুর চললেও গত কয়েকদিনে তার কারখানায় ভাংচুর হয়নি। উৎপাদন চলছে। কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল আটটার দিকে তার কারখানার শ্রমিকেরা উৎপাদন শুরু করার পাঁচ মিনিট পরই পাশের নূর গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকেরা এসে তার কারখানায় ভাংচুর করে। এসময় আশপাশের নায়াগ্রা টেক্সটাইল লিমিটেড, অ্যাপেক্স লিমিটেড, ড্রেসম্যান লিমিটেডেও ভাংচুর করা হয়।

এদিকে কালিয়াকৈরের সিনাবাহ এলাকার মাকস সোয়েটার, মিম নুন নিটওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। পরে তারা মিছিলসহ পার্শ্ববর্তী সফিপুর বাজার এলাকায় গিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বৃষ্টি শুরু হলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যায়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এছাড়াও জিরানী, মৌচাক, জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর করেছে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে  বুধবার মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার দু’শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া নতুনবাজার এলাকার এসএম নীটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকদের ওপর গত সোমবার কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা লোকজন নিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই এলাকার এসরোটেক্স লিমিটেড, গোল্ডেন রিফিট লিমিটেডসহ আশপাশের কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগদান না করে বুধবার কারখানার ভেতর ও আশপাশে বিক্ষোভ করছে।

গাজীপুর শিল্প-পুলিশের ইন্সপেক্টর শওকত কবীর ও সেলিম রেজা জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত মঙ্গলবার রাতেই কোনাবাড়ি, বোর্ডবাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ  ঘোষণা করা হয়। বন্ধ রাখা এসব কারখানার মধ্যে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বুধবার সকালে কারখানায় এসে বন্ধ দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছে।

অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি : এদিকে গত মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস এলাকার কলোসাস এপারেলস কারখানার আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে বহিরাগত শ্রমিকরা আনসার সদস্যদের মারধর করে দু’শতাধিক রাউন্ড গুলীসহ রাইফেল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুর সার্কেলের আনসার অ্যাডজুডেন্ট মোঃ রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে এবং গাজীপুর সদর উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামকে সদস্য করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবস সময় বেঁধে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় গত সোমবার রাতে ক্যাম্পের সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. জামিল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আট হাজার থেকে ১০ হাজার লোকের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন।

তমিজউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে : মন্ত্রী ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন গতকাল বুধবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলীবিদ্ধ ৩ জনকে নারায়ণগঞ্জ ২শ’ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টায় ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের কাঠেরপুল, পিটালির পুল, রামারবাগ, কুতুবাইল এলাকায় অবস্থিত পলমল, মেট্রো, আজাদ, লিবার্টি, রূপসীসহ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি দিয়ে দাবির পক্ষে রাস্তায় নেমে আসে। শ্রমিকরা ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় এসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাদেরকে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুধু হয়। পুলিশ এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এরপরও দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। সংঘর্ষকালে কয়েকজন পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলীবিদ্ধ ৬ জনকে নারায়ণগঞ্জ ২শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলোÑ রতন (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩০), আবদুল হক (৬০), আজিজুল (৪১), রানু (২৭), মোমেনা (২২), জসিম (৩৫), বাবু (৩০), রেশমা (১৮), সুমন (২২) ও আল আমীনকে (২২) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরো জানান, দুপুর ১১টা থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে শিবু মার্কেট এলাকায় কয়েকটি গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ সঠিক নয়। তিনি জানান, আকস্মিকভাবে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে অনেক গার্মেন্টস মালিক নিরাপত্তার কারণে গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিপমেন্টেরও ক্ষতি হচ্ছে।

মোঃ শামীম হোসেন (সাভার সংবাদদাতা) : সাভারের আশুলিয়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুটি পোশাক কারখানায় ফের শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে আশুলিয়ার জিরানী এলাকার রেডিয়াল ও লিবার্টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম আট হাজার টাকা মজুরিকরণের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় কবিরপুর, বাড়ৈইপাড়া, জিরানী এলাকার অন্তত ত্রিশটি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়। পরে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর দফায় দফায় চলে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে নবীনগর  চন্দ্রা মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।