বৃক্ষ নিধনের ফলে উজাড় হচ্ছে সুন্দরবন

Sundorbon - ekush.infoবৃক্ষ নিধনের ফলে উজাড় হচ্ছে সুন্দরবন
বছরে ৫২ হাজার ৬৮০ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার

মোঃ নূর আলম, মংলা(বাগেরহাট) : বনখেকোদের বৃক্ষ নিধনের ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে চোরাকারবারীরা এ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে সুন্দরবন মরুভূমিতে পরিণত হবে বলে পরিবেশবিদরা আশংকা করছেন। গত ১ বছরে চোরাকারবারীদের হাত থেকে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বিভাগ ৫২ হাজার ৬৮০ ঘনফুট সুন্দরবনের কর্তণ নিষিদ্ধ সুন্দরী, বাইন, কাকড়া ও পশুর কাঠ উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ৫৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২০ টাকা।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই ২০১২ থেকে ৩০ জুন ২০১৩ পর্যন্ত বন বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯ হাজার ৯৪০ ঘনফুট সুন্দরবনের কর্তণ নিষিদ্ধ সুন্দরী, বাইন, কাকড়া ও পশুর কাঠ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকা। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মংলা সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি ২০১৩ থেকে জুলাই ২০১৩ পর্যন্ত সাত মাসে সুন্দরবনের কর্তণ নিষিদ্ধ ৩২ হাজার ২০২ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করা হয় যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৩ হাজার ৫৬০ টাকা। এছাড়া মংলা থানা পুলিশ গত ৬ মাসে ৫৩৮ ঘনফুট সুন্দরী কাঠ উদ্ধার করে যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার জানান, উদ্ধারকৃত কাঠ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান উদ্ধারকৃত কাঠ প্রসংগে বলেন, সুন্দরী কাঠ বাদে অন্য কাঠ নিলামে দেয়া হয়। আর সুন্দরী কাঠ সরকারি রাজস্ব প্রদান করে সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয় বলে তিনি জানান।

নির্বিচারে সুন্দরবনের বৃক্ষ নিধন প্রসংগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় সুন্দরবনের বন কেটে উজাড় করা হচ্ছে। তাদের সুপারিশের কারণে বনখেকোদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা গ্রামের যুবক মোহাম্মদ আলী জানান, বন বিভাগের যোগসাজসে স্থানীয় সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় একটি চক্র নির্বিচারে বন কেটে কাঠ পাচার করছে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, যা শোনা গেছে তা সত্য কিন্তু এতে আমার কিছু করার নেই। তিনি বলেন, যারা এর সাথে যুক্ত তারা উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দ্বারা লালিত-পালিত। বন বিভাগের যোগসাজসে কাঠ পাচার হচ্ছে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, এ অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে হারে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে তা নিয়ে পরিবেশবিদরা সুন্দরবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। মংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিবেশবিদ ড. মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, যেভাবে সুন্দরবনে বৃক্ষ নিধন চলছে এ ধারা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে সুন্দরবন মরুভূমিতে পরিণত হবে।