চালু হচ্ছে এশিয়ার সর্ব বৃহৎ গাজীপুরের মসলিন কটন মিল

GAZIPUR-MOSLIN-COTT -ekush.infoচালু হচ্ছে এশিয়ার সর্ব বৃহৎ গাজীপুরের মসলিন কটন মিল

দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ বন্ধ থাকার পর এক সময়ের এশিয়ার সর্ব বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গাজীপুরের কালিগঞ্জের মসলিন কটন মিল্স আবার চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রিফাত গার্মেন্টস নামে পুনরায় তা চালু করা হবে। মিলটি চালুর লক্ষ্যে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উদ্যোক্তার নিকট মিলের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যু সংস্থানের শর্তে কারখানাটি চালু হবে।

শনিবার দুপুরে মসলিন কটন মিল্স উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী
বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মিলের মালিকানা হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ মকবুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম, মসলিন কটন মিল লিঃ এর লিকুইডেটর ও উপ-সচিব সাইফুদ্দিন আহম্মদ মজুমদার, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবিএম তারিকুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিতিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি মসলিন কটন মিলের প্রতীকি চাবি ও নথিপত্র হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের কাছে তুলে দেন।

বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, অনেক সরকার মিলটি চালুর কথা বললেও কেউ পারেনি। কেউ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধ কারখানা খুলে দিতে পারেনি। আওয়ামীলীগ সরকার পেরেছে। জামায়াতের শুধু নিবন্ধন বাতিল নয়, এদেশে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচারের দরকার নাই, তাদের ধর এবং মার। এদেশে কোন স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। রাজনীতি থেকে ধর্মকে দুরে রাখতে হবে। আমরা সেক্যুলারিজম চেয়েছিলাম কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবিরা সেক্যুলারিজম এর মানে করেন ধর্ম নিরপেক্ষতা।

আসলে এর অর্থ ইহজাগতিকতা। এ কারখানা চলতে হলে বিনিয়োগকারী, শ্রমিক এবং জামায়াত ছাড়া রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ লাগবে।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে, তুমি আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাও।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একজন হাওয়া ভবনের হাওয়ায় ভাসতেন। সেনাবাহিনীর মার খেয়ে ভাঙ্গা মাজা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি আবার নতুন ধারার কথা বলে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কালীগঞ্জের এমপি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ২৪ বছর আগে যে শ্রমিক এক লাখ টাকা পেত সে সময় ওই টাকা দিয়ে সে অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু একই টাকায় বর্তমানে তার ইচ্ছা সে পূরণ করতে পারবে না। কারখানাটিতে ২ হাজার ৮’শ ৮৫ জন শ্রমিক ছিল। কেউ মারা গেছেন, কারও কারখানার কাগজপত্র নাই। তাদেরকে আইনের ভিত্তিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুত সংস্থানের শর্তে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কারখানা চালু হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে। কারখানা চালুর পর আগামী তিন বছরের মধ্যে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এজন্য কারখানার আশপাশের কমপক্ষে তিন লাখ লোকের বেকার সমস্যা দূর হবে।

কারখানার শ্রমিক সাইফুল আলম বলেন, ১৯৯০ সনে কারখানার মালিক কারখানার ক্ষতি দেখিয়ে শ্রমিকদের বেতন আটকিয়ে দেয়। পরে বেতন পরিশোধের জন্য শ্রমিক-মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিগঞ্জে ১৯৫১ সালে ২৪০ বিঘা জমির উপর মসলিন কটন মিল্স লিঃ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে এশিয়ার বৃহত্তম এ মিলটি ঘিরেই কালিগঞ্জবাসীর জীবন জীবিকা আবর্তিত হতো।

প্রাচীর ঘেরা মিলের পাশে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী, রেল স্টেশন, মহাসড়ক প্রভৃতি। ৫২ হাজার স্পেন্ডল, ৪৯৮টি উইভিং, ৪৯৬ টি স্পিনিং তাত, ডাইং সম্বলিত মিলে ২ হাজার ৮৮৫ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী ৩ শিফটে কর্মরত ছিলো। মিলের শ্রমিকেরা কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রমিক-মালিক দ্বন্ধের কারণে ১৯৯১ সালে দুটি শাখা ও ১৯৯৩ সালে অপর শাখাটি বন্ধ হয়ে যায়।

কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হবার সাথে অসংখ্য মানুষের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারখানাটির পাশে একটি রেলস্টেশন, মহাসড়ক ও একটি নদী রয়েছে।
হা-মিম গ্রুপের পক্ষে রিফাত গার্মেন্টস ৮০ একর জায়গাসহ কারখানাটি ১৩৫ কোটি টাকা মুল্যে সরকারের কাছ থেকে ক্রয় করেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে চাকরী হারানো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। শনিবার ২০ জন মৃত শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারের কাছে বকেয়া বেতন বাবদ ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।