১২০০ কোটি টাকা আইজিডব্লিউ’র পকেটে: ব্যাংক থেকে টেলিকম

 ১২০০ কোটি টাকা আইজিডব্লিউ’র পকেটে: ব্যাংক থেকে টেলিকম Anti-corruption Day n Bangladesh bank to Telecom ekush info
28 Sep, 2013

রাজনৈতিক ছায়ায় থাকা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন গেটওয়ে অপারেটরস (আইজিডব্লিউ)-এর কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর পাওনা ১২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে টেলেক্স, ভিশন, রাতুলসহ কয়েকটি আইজিডব্লিউ’র কাছে বকেয়া কয়েকশ’ কোটি টাকা। বিটিআরসি’র হিসাব মতে, ডিসেম্বরের শেষে তাদের পাওনার পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। মার্চের শেষে এটি বেড়ে যায় ৫৩৩ কোটিতে। আর জুনের শেষে লাফিয়ে লাফিয়ে তা দাঁড়ায় ৯৪৭ কোটিতে। আর গত আগস্ট পর্যন্ত পাওয়ার পরিমাণ ১২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কিছু টাকা পরিশোধ করেছে। তারপরও বিটিআরসির পাওনা হাজার কোটি টাকার কম হবে না। এর আগে পাওনা পরিশোধ না করায় গত আগস্টে ৪ আইজিডব্লিউর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিটিআরসি। কিন্তু রাজনৈতিক তদবিরের জোরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৪টি অপারেটরকে। এরপর নতুন করে ২৬শে আগস্টের মধ্যে ছয়টি আইজিডব্লিউ ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। নির্দেশনায় বিটিআরসি জানায়, ২৬শে আগস্টের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে তাদের মাধ্যমে আর আন্তর্জাতিক কল আসতে দেয়া হবে না। দেশে বর্তমান ২৯টি আইজিডব্লিউ রয়েছে। বিটিআরসি’র শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। এ কারণে কমিশনের সদিচ্ছা থাকার পরও বিটিআরসি কিছুই করতে পারছে না। মূলত আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এর মূল কারণ মালিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আইজিডব্লিউ অপারেটরের মধ্যে সর্বোচ্চ বকেয়া বিটিসিএলের (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড)। এর পরিমাণ ৩৬৬ কোটি টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ বকেয়ার তালিকায় রয়েছে মীর টেলিকম (৫৮ কোটি), বাংলা ট্র্যাক (৬০ কোটি), টেলেক্স লিমিটেড (৮৬ কোটি), রাতুল টেলিকম (প্রায় ৭০ কোটি), ডিজিকন (৫২ কোটি), ভিশন টেল (৮৮ কোটি), ফার্স্ট কমিউনিকেশন লিমিটেড (৩৯ কোটি) এবং বেসটেক টেলিকম লিমিটেড (৪৩ কোটি টাকা)। ভিশন টেল লিমিটেড নামের একটি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি’র ৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। ক্লাউড টেল লিমিটেডের এক সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে ভিশন টেল। Mobile Uer in Bangladesh Ekush Infoঅন্যদিকে রাতুল টেলিকম লিমিটেডের কাছে বিটিআরসি’র পাওনা ৭০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ছিল মাত্র ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু গত ৬ মাসে প্রতিষ্ঠানটি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন অর্থ পরিশোধ করেনি। বারবার চেষ্টার পরও রাতুল টেলিকমের কর্মকর্তাদের কাছে এব্যাপারে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিটিআরসি’র সূত্র জানিয়েছে, ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড কোম্পানির কাছে বিটিআরসি’র পাওনা ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবশ্য কিছু টাকা তারা পরিশোধ করেছেন। টেলেক্স লিমিটেডের কাছেও বিটিআরসি’র পাওনা ৮৬ কোটি টাকা। এখন কোম্পানিটি অনেকটা উধাও হয়ে গেছে। ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স গেটওয়ে লিমিটেডের কাছে বিরাট একটি অঙ্কের অর্থ পাওনা বিটিআরসি’র। এরই মধ্যে তারা কিছু টাকা পরিশোধ করেছে। ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড ৫২ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। আইজিডব্লিউ ব্যবসার আরেকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান বাংলা টেল লিমিটেড। সরকারের শেষ সময়ে এসে রাজনৈতিক বিবেচনায় পাওয়া এসব লাইসেন্সের মালিকরা বিটিআরসিকে টাকা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ৩ সেন্টে কল আনার কথা থাকলেও শুধু প্রতিযোগিতার কারণে দেড় সেন্টে বা তার চেয়েও কমে কল আনছে কোন কোন কোম্পানি। আর কল এনে এর পুরো টাকাই রেখে দিচ্ছে নিজের পকেটে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বার্ষিক লাইসেন্স ফি’র সাড়ে ৭ কোটি টাকাও দিতে অপারগতা জানাচ্ছে। টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটরস অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন বলেছেন, বহু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ায় কোন শৃঙ্খলা নেই। আমার ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে কোন কোন আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়াতে হবে।

Corruption in Bangladesh Ekush infoওদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের ১০টি আইজিডব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) অপারেটরের অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ (ব্লক) করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বৃহস্পতিবার। অপারেটরগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভিসন টেল, মোস ফাইভটেল লিমিটেড, এসএম কমিউনিকেশন, ভেনাস টেলিকম, অ্যাপল নেটওয়ার্ক লিমিটেড, র‌্যাংকস টেল, রাতুল টেলিকম, সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, ফাস্ট কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের পরও সরকারের পাওনা টাকা জমা না দেয়ায় ওই ১০টি প্রতিষ্ঠানের কল টারমিনেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাওনা বুঝে পেলে তারা পুনরায় কল টারমিনেট করার সুযোগ পাবে।

উৎসঃ   মানব জমিন