খাদ্যে ভেজালের শাস্তি মাত্র ৫ বছর জেল!

Food in Ramadan Ekush Infoসংসদে বিল পাস
খাদ্যে ভেজালের শাস্তি মাত্র ৫ বছর জেল!

খাদ্যে ভেজাল রোধে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য বিল-২০১৩’। পাস হওয়া বিলে নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণসহ খাদ্যের ভেজাল প্রতিরোধে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করাসহ বিভিন্ন বিধানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিলটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জনমত যাচাই-বাছাই, কমিটিতে প্রেরণ এবং বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে সেগুলো উত্থাপিত হয়নি। পরে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এ সময় অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

খাদ্যমন্ত্রী বিলটি পাস করার বিষয়ে বলেন, প্রস্তাবিত নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ কার্যকর হলে খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ রোধসহ নিরাপদ ও সুষম খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যাবে।

বিলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ‘পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স-১৯৫৯’ রহিতের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনে খাদ্য উৎপাদনকারী, মোড়ককারী, বিতরণকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়বদ্ধতা এবং অপরাধের বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। আইনের অধীনে অপরাধের জন্য মামলা করে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

পাসকৃত বিলে খাদ্য বা খাদ্য উপকরণে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অথবা বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য বা এর উপাদান বা বস্তু, যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট, কীটনাশক বা বালাইনাশক, সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের এবং অন্যূন চার বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অন্যূন পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তা ছাড়া অন্যান্য অপরাধের জন্য আইনে আলাদা শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।